মোসাদ্দেককে ছয় ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন রোহিত

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

অনলাইন ডেস্ক

ছবি: এএফপি

'হিটম্যান' নামেই খ্যাতি পেয়েছেন রোহিত শর্মা। নিজের শততম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিং করে দলকে সিরিজে ফিরিয়েছেন। খোলামেলা আলোচনায় স্বীকারও করেছেন ম্যাচে মোসাদ্দেকের ওই ওভারটিতে ছয় ছক্কা মারার চিন্তা এসেছিল তার মাথায়। ইনিংসের দশম ওভারটির প্রথম তিন বলে তিনটি ছয় মেরেও ছিলেন। ওই মুহূর্তে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এসে কিছু একটা বলে যান মোসাদ্দেককে। পরের বলটিই তাই ফুলার ডেলেভারি করেন মোসাদ্দেক এবং সেই যাত্রায় ছয় ছক্কার হাত থেকে বেঁচেও যান মোসাদ্দেক। 

ম্যাচের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল টেলিভিশন চ্যানেলে সেই কথা স্বীকারও করেছেন রোহিত। 'সত্যি কথা বলতে কী আমি ওই ওভারটিতে ছয়টি ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন চতুর্থ বলে মিস হয়ে যায়, তখন সিঙ্গেলস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। জানতাম ওভারটিতে অফস্পিনার বোলিং করতে আসছে এবং ওই সময় শিশিরে ভেজা বল বেশি ঘুরবে না। সেজন্য ঠিক করি জায়গায় দাঁড়িয়েই ব্যাট চালাব।' সতীর্থ যুজবেন্দ্র চাহালের নেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই অকপটে মোসাদ্দেককে ছয় ছক্কা মারার পরিকল্পনা স্বীকার করেন রোহিত।

আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে এক ওভারে ছয় ছক্কা মারার রেকর্ড রয়েছে যুবরাজ সিংয়ের। ২০০৭ সালে টি২০ বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ড ব্রডের ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন যুবরাজ। ওয়ানডেতে হার্শেল গিবসেরও একই রেকর্ড রয়েছে। রোহিত সিরিজের দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে মোসাদ্দেককে টার্গেট করেন। তখন তিনি ৩০ বলে ৫৮ রান করে ক্রিজে আছেন। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৮৫ রানে আউট হন রোহিত। মোসাদ্দেকের ওই ওভার থেকেই ২১ রান তুলে নেন রোহিত। এভাবে ছক্কা হাঁকানোর জন্য কি পেশি থাকতে হয়- চাহালের প্রশ্নে হেসে ফেলেন রোহিত। 'ছক্কা মারার জন্য খুব বেশি পেশি থাকার দরকার নেই। টাইমিংটা খুব জরুরি। ব্যাটিংয়ের সময় মাথা স্থির রাখতে হবে, শরীরটাকে ভালো পজিশনে আনতে হবে আর বল ব্যাটের মিডলে লাগাতে হবে, তাহলেই ছক্কা মারা সম্ভব। ভালো ব্যাটিং উইকেটে এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন পড়ে না।'

মোসাদ্দেকের ওই ওভারটির প্রথম বলটি ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান রোহিত, দ্বিতীয় বলটি স্কয়ার লেগ দিয়ে আর তৃতীয়টি লংঅন দিয়ে। সব বলই ছিল ফ্ল্যাটার ডেলিভারি। যেগুলো জায়গায় দাঁড়িয়েই টাইমিং করেছিলেন রোহিত। রোহিত জানিয়েছেন, রাজকোটের উইকেটটি ব্যাটিং সহায়ক ছিল। 'আমি জানতাম রাজকোটের উইকেট ব্যাটিং সহায়কই হয়ে থাকে। টস জেতায় সুবিধা হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে শিশিরের কারণে বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ নেওয়াটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেই সুবিধাটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিলাম।'

সিরিজ ১-১ করার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ভারতীয় অধিনায়কের। 'প্রথম ম্যাচে ওভাবে আউট হওয়ার পর একটু হতাশ হয়েছিলাম। আসলে কোনো দলের জন্য কোনো একজনের বড় ইনিংস খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি দেখেছি কোনো দলের কেউ যদি বড় ইনিংস খেলতে পারে, তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আমার লক্ষ্যও ছিল তেমন। দিল্লিতে হয়নি, রাজকোটে এসে সেটা পেরেছি। সিরিজ এখন ১-১। আশা করছি নাগপুরে রোববার এমনই পারফর্ম করে দলকে ট্রফি এনে দিতে পারব।'