আফসোস নাঈমের: রান পেলাম, জিততে পারলাম না

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

...

ছবি: ফাইল

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে নির্বাচকদের রাডারে আসেন নাঈম শেখ। হাইপারফরম্যান্স ইউনিট এবং ইমার্জিং দলের হয়ে খেলছিলেন। হঠাৎ করেই ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজের জন্য জাতীয় দলে ডাকা হয় তাকে। ওই সিরিজে ম্যাচ খেললেও ভারত সফরে সুযোগ পেয়েই দলের সেরা পারফরমার হলেন। সোমবার নাগপুর থেকে ঢাকায় ফেরার আগে সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সিরিজ জিততে না পারার আক্ষেপ করেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের স্বীকৃতির সিরিজে ভালো খেলতে পারায় তৃপ্তিও আছে তার। সিরিজ শেষে নাঈমের সঙ্গে এই আলাপনে নাগপুরে ছিলেন আলী সেকান্দার

সমকাল :অভিনন্দন আপনাকে

নাঈম শেখ :ধন্যবাদ।

সমকাল :দারুণ খেলেছেন...

নাঈম শেখ :চেষ্টা করেছি। ইচ্ছে ছিল ভালো খেলার। পরিকল্পনামতো সিরিজটা শেষ করার। ব্যক্তিগতভাবে দেখলে আমি সফল হয়েছি। শেষ ম্যাচটা জিততে পারলে এই পারফরম্যান্স আরও ভালো দেখাত। ভালো লাগত।

সমকাল :শেষ ম্যাচের আগের দিন তো বলেছিলেন, বড় রান করতে চান। করলেনও। আত্মবিশ্বাসটা কি প্রথম দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা থেকে পাওয়া?

নাঈম শেখ :হ্যাঁ, বলতে পারেন। দুই ম্যাচে ভালো শুরু করেছিলাম। রানও পেয়েছি। তাতে তৃপ্তি মিটছিল না। ইনিংসটা বড় করার কথা ভাবছিলাম। সেদিন তাই বলেছিলাম, টানা তিন ম্যাচে রান করতে চাই। রান পেলাম, কিন্তু জিততে পারলাম না। তাই খুব আফসোস হচ্ছে।

সমকাল :দল তো জিততে পারেনি। তৃতীয় উইকেটে মিঠুনের সঙ্গে লম্বা জুটিতে কী কথা হয়েছিল আপনাদের মাঝে?

নাঈম :আমাদের দু'জনের কথা হচ্ছিল, শেষ করলে আমাদের দু'জনকেই শেষ করতে হবে। পেছনের দিকে যেন না যাই। আমরাই যেন শেষ করে আসতে পারি। আর দু-তিন ওভার থাকতে পারলে হয়তো দলকে জেতাতে পারতাম।

সমকাল :সিরিজ জেতেননি, কিন্তু আপনি তো অভিষেকেই ম্যাচ জিতেছেন, তাও ভারতের বিপক্ষে?

নাঈম শেখ :প্রথম ম্যাচটা জেতার পর খুব ভালো লেগেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথম খেলার পর যে রকম আনন্দ হয়েছিল, দিল্লিতে অভিষেকের পরও তেমন লেগেছে। অভিষেক ম্যাচে রান করতে পারা এবং জিততে পারা দারুণ একটা ব্যাপার ছিল।

সমকাল :ত্রিদেশীয় সিরিজে হঠাৎ ডাক পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তখন কি একটু খারাপ লেগেছিল?

নাঈম শেখ :না, খারাপ লাগেনি। আমার তো ইমার্জিং দলের হয়ে ভারতে খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে জাতীয় দলে ডাক পাই। না খেললেও ওই সিরিজে একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ড্রেসিংরুম কেমন হয় জানতে পারি। ভারতে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব সেটাও ভাবিনি। তবে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম, সুযোগ পেলে কাজে লাগাব।

সমকাল :আপনার তো খেলা শেষ হয়নি। ১৪ নভেম্বর থেকে তো ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলবেন?

নাঈম শেখ :জি, ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলব। এশিয়া কাপটা হচ্ছে বাংলাদেশে। আমরা ওখানেই তো খেলি। চেষ্টা করব ভালো খেলতে।

সমকাল :জাতীয় দলে খেলায় ইমার্জিং এশিয়া কাপে তো আপনার কাছে দলের প্রত্যাশা বেশি থাকবে?

নাঈম শেখ :কিছুটা তো থাকবেই। তবে ওসব নিয়ে আমি চিন্তা করি না। আমার কাজ হলো ম্যাচ খেলা, ভালো খেলা।

সমকাল :আবার একটু টি২০ সিরিজে ফিরে যাই। সিরিজ হারের ম্যাচে আপনি তো একটা পুরস্কারও পেলেন। দল জিতলে হতেন ম্যাচসেরা। কোনো আক্ষেপ?

নাঈম শেখ :একটা পুরস্কার পেয়েছি। ম্যাচসেরা হতাম কি-না জানি না। ওইভাবে চিন্তাও করিনি। তবে আক্ষেপ আছে জিততে না পারায়। সিরিজ জিততে পারলে অনেক ভালো লাগত। এই জায়গায় একটু খারাপ লাগছে। আমাদের আরেকটা জুটি হলে হয়তো আমরা জিততে পারতাম।

সমকাল :তিন ম্যাচে ১৪৩ রান আপনার। তৃতীয় ম্যাচে ৮১। নতুন হিসেবে খুবই ভালো পারফরম্যান্স। আপনার কী মনে হচ্ছে?

নাঈম :রান পাওয়ায় আমি খুশি। তবে শেষ ম্যাচে আরও কিছুক্ষণ টিকে থাকতে পারলে ১৮ বা ১৯ ওভারেই জিততে পারতাম। জিতলে এই পারফরম্যান্স আরও আত্মবিশ্বাস দিত।

সমকাল :বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিছু বলেননি?

নাঈম শেখ :জি বলেছেন, ভালো খেলেছ।

সমকাল :বাবা-মা পরিবার এবং বন্ধুরা কী বলেছেন?

নাঈম শেখ :বাবা-মা বলেছেন, ম্যাচটা জিততে পারলে ভালো হতো। বন্ধুদেরও আক্ষেপ আছে। তবে সবাই আমার পারফরম্যান্স দেখে খুশি।

সমকাল :ফরিদপুরে আপনার স্কুলজীবনের কোচ বলেছেন, আপনি লং ইনিংস খেলে অভ্যস্ত। টেস্টের জন্য বেশি ফিট। সেখানে অভিষেক করলেন টি২০ সংস্করণে এবং ভালো করলেন। এর পেছনে রহস্য কী?

নাঈম শেখ :কোনো রহস্য নেই। আমি পরিশ্রম করি। স্যারের যেটা মনে হয়েছে, সেটাই বলেছেন। তবে আমি টি২০ এবং ওয়ানডে খুব পছন্দ করি। ঢাকা লিগেও রান করেছি। সুযোগ পেলে সব ফরম্যাটে ভালো করতে চাই।

সমকাল :যেহেতু অভিষেকে ভালো খেলেছেন, জায়গা ধরে রাখার একটা চ্যালেঞ্জ থাকবে। আপনার কাছে দলের চাওয়াও থাকবে বেশি। এটাও তো একটা চ্যালেঞ্জ?

নাঈম শেখ :চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই। হ্যাঁ, ভালো খেললে সেটা ধরে রাখতে হয়। আমি আমার দিক থেকে চেষ্টা করব ধরে রেখে ভালো করতে। দেশের জন্য খেলতে।