৬ রানে মালদ্বীপকে অলআউট

সালমারাও ভাবেননি এমন রেকর্ড জয়

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাখাওয়াত হোসেন জয়, কাঠমান্ডু থেকে

মালদ্বীপের মেয়েদের নিয়ে এ যেন এক 'ছেলেখেলা'। ব্যাটিংয়ে নেমে ইচ্ছামতো ব্যাট চালাও, লাগলেই বাউন্ডারি। আর কোনোমতে হাত ঘুরিয়ে বল ফেলো, নিমিষেই উইকেট। আক্ষেপ শুধু এক জায়গাতেই- এই খেলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। থাকলে রেকর্ড বইয়ের ওপরও বড়সড় একটা ঝড় বয়ে যেত। যেমন খুশির ইচ্ছাপূরণ আর আনন্দময় হাহাকারের এই খেলাটি উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ নারী ক্রিকেট দল। গতকাল পোখারার রঙ্গশালা মাঠে নিগার সুলতানা ও ফারজানা হকের জোড়া সেঞ্চুরিতে ২৫৫ রান তোলার পর মালদ্বীপকে মাত্র ৬ রানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মেয়েরা। যে কোনো পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে এটিই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা দলের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। এ জয়ের ফলে রোববারের স্বর্ণ লড়াইয়ে তিন জয় নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গেমসে সচরাচর নিয়ম রক্ষার লড়াই বলে কিছু দেখা যায় না। কিন্তু চার দল নিয়ে আয়োজিত এসএ গেমস ক্রিকেটের নারী ইভেন্টে এবার সেটিই ছিল গতকাল। প্রথম দুই ম্যাচে শ্রীলংকা আর নেপালকে হারিয়েই স্বর্ণের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। মালদ্বীপ ম্যাচ ছিল তাই স্রেফ খেলার জন্য খেলা। শেষ পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থেরই মঞ্চায়ন হলো পোখারায়। টি২০ ফরমেটে ১০৪টি দেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা দেওয়ায় বিশ্বের এ প্রান্তে-ও প্রান্তে প্রায়শই নানান রেকর্ড হচ্ছে। এই এসএ গেমসেই তিন দিন আগে মালদ্বীপকে ১৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল নেপালের মেয়েরা। উভয়টিই জাতীয় দল হওয়ায়, যা এখন নারী টি২০'র সর্বনিম্ন পাঁচ ইনিংসের অংশ। কিন্তু মালদ্বীপকে ৬ রানে অলআউট করেও বাংলাদেশের কীর্তি আর লেখা হচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এখানে জাতীয় দল করছে না, করছে অনূর্ধ্ব-২৩। সমমর্যাদার দল না হওয়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতি না পেলেও মাঠের ক্রিকেটে শতভাগ দিয়েই খেলেছেন সালমারা। সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার ভালো চ্যালেঞ্জেই ফেলে দিয়েছিল মালদ্বীপ। প্রথম দুই ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও সানজিদা ইসলাম আউট হয়ে যান। তবে মালদ্বীপ জাতীয় দলের মেয়েদের সাফল্য শেষ পর্যন্ত এটুকুই। দলীয় ১৯ রানের মাথায় জুটি বেঁধে ২০ ওভার পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ব্যাটিং করে যান নিগার ও ফারজানা। বলে-ব্যাট লাগালেই রান, কখনও বাউন্ডারি, কখনও দুই রান- এই করে করে রান কেবল তরতর করে বেড়েছে। দলের রান ৫০ ছোঁয় ৪.৩ ওভারে, ১০০ ছোঁয় ৯.১ ওভারে আর ২০০ ছোঁয় ১৬.৪ ওভারের সময়। একটি ওভারে উঠেছে ২৬ রান, আরেকটিতে ২৪। গোটা ম্যাচে ১০ রানের কম এসেছে মাত্র ৩ ওভারে। ২০ ওভার শেষে নিগার আর ফারজানা যখন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ছিলেন, নামের পাশে তখন যথাক্রমে ১১৩ ও ১১০ রানের ইনিংস। নিগারের ৬৫ বল খেলা ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ৩টি ছয়। ফারজানা কোনো ছয় হাঁকাতে পারেননি, কিন্তু চারের বাউন্ডারিই ছিল ২০টি। চার নম্বরে নামা ডানহাতি এ ব্যাটার তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৪৯তম বলে। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ইতিহাসে টি২০তে ফারজানা দ্বিতীয় আর নিগার প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। ব্যাটিংয়ে দু'জনের তাণ্ডবের পর বোলিংয়ের ধ্বংসযজ্ঞে যোগ দেন প্রায় সবাই। প্রথম ওভারেই আউট দু'জন, দুটিই রানআউট। তৃতীয় ওভারে বোলিং করতে এসে তৃতীয় ও ষষ্ঠ বলে দু'জনকে তুলে নেন ডানহাতি পেসার ঋতুমনি, দুটিই বোল্ড। পরের ওভারেও যায় জোড়া উইকেট, শিকারি এবার অধিনায়ক সালমা। চার ওভারের মধ্যে ৬ ব্যাটসম্যান যখন ফিরে যান, স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ২ রান, যার একটি আবার ওয়াইড। টি২০'র ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড ৬ রানের, মালদ্বীপের সামনে তখন অন্তত ওই রানে পৌঁছার চ্যালেঞ্জ। সাজা ফাতিমাত এসে প্রথম বলেই এক রান নেন; সালমার পরের ওভার থেকে আসে একটি বাই রান। এদিকে উইকেট নেওয়া শুরু করেন নাহিদা আখতার আর পূজা চক্রবর্তীরাও। তবে দশ নম্বরে নামা শাম্মা আলী দুটি সিঙ্গেল নিয়ে দলকে ৬ রানে নিয়ে যান। তেরোতম ওভারের প্রথম বলে এই শাম্মাকে বোল্ড করে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন সালমা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ নারী দল পেয়ে যায় ২৪৯ রান ব্যবধানের দুর্দান্ত এক জয়।