আন্তর্জাতিক টি২০

বিশ্বরেকর্ড যেন তাসের ঘর

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯   

অনলাইন ডেস্ক

ছেলেবুড়ো সবাই খেলোয়াড়

বয়স নিয়ে রীতিমতো 'ছেলেখেলা' হয়েছে নারী ক্রিকেটে। যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জার্সি আইসিসির সদস্য দেশ হিসেবে খেলে। জুলাইয়ে এ দলটি ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলায় ১১ বছর ৪০ দিন বয়সী নিয়া গ্রেইগ নামের একজনকে। দু'দিন বাদে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলানো হয় ১১ বছর বয়সী আরেক বালিকা তাচি আলকারকে। মূলত ফ্রান্সের বিপক্ষে নামা দলের আটজনের বয়সই ছিল ১৪ বছরের নিচে, যা কিনা বিশ্বের প্রায় সব দেশের আইন অনুসারেই শিশুর কাতারে পড়ে। মজার বিষয় হচ্ছে, 'শিশু'দের নিয়ে খেলা ম্যাচটিতে জার্সির অধিনায়ক ছিলেন রোসা হিল, যার বয়স ৫১ বছর। বেশি বয়সীর দিক থেকে হিল অবশ্য বেশ পেছনে। রেকর্ডটা মেক্সিকোর ইয়েতে রেওনাল্ডসের, কোস্টারিকার বিপক্ষে যার অভিষেকে বয়স ছিল ৫৫।

ছেলেদের ক্রিকেটে কুয়েতের মিত ভাবসারের অভিষেক হয়েছে ১৪ বছর ২১১ দিনে, যা সর্বনিম্ন। এর আগে সবচেয়ে কম বয়সীর রেকর্ড ছিল আয়ারল্যান্ডের যশ লিটলের (১৬ বছর ৩০৯ দিন)। আর সবচেয়ে বেশি বয়সী এখন তুরস্কের ওসমান গোকার। রোমানিয়ার বিপক্ষে অভিষেকের দিন তার বয়স ছিল ৫৯ বছর ১৮১ দিন। এখন পর্যন্ত গোকারসহ মোট চারজন ৫৪ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়কে টি২০-তে খেলিয়েছে তুরস্ক।

রানের সীমায় নেই মানা

নারী টি২০-তে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখন উগান্ডার- ২ উইকেটে ৩১৪। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ উইকেটে ২৮৫ রান তানজানিয়ার। দুই ইনিংসই হয়েছে মালির মেয়েদের বিপক্ষে। অথচ দুটি ওয়ানডে খেলুড়ে দেশের নারী টি২০-তে সর্বোচ্চ রান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের- ৩ উইকেটে ২৫০। সবচেয়ে বেশি রান দেওয়া মালির মেয়েরাই আবার অলআউট হয়েছে সবচেয়ে কম- মাত্র ৬ রানে। জুনে রুয়ান্ডার বিপক্ষে করা ওই ৬ রানের মধ্যে ৫ রানই ছিল আবার অতিরিক্ত। এরপর ডিসেম্বরে এসে মালির মেয়েরা আরেকটি দলকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে। সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে ৬ রানেই অলআউট হয় মালদ্বীপের মেয়েরা।

এদিকে, ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে নাম লিখিয়ে নিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র। আগস্টে রোমানিয়ার মাটিতে তুরস্কের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২৭৮ রান তুলে ফেলে দেশটি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওই পরিমাণ রান তুলেছিল আফগানিস্তানও। চেক প্রজাতন্ত্রের খেলোয়াড়রা যে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে ফেলেছেন, এ কথা জেনেছিলেন মাঠ ছেড়ে আসার পর। কে জানে, আগে জানা থাকলে এককভাবেই রেকর্ডটা হয়তো নিজেদের করে নিত। ২৭৮ রান তোলা ম্যাচটিতে তুরস্ককে ২১ রানে গুটিয়ে দেয় চেক প্রজাতন্ত্র। এটিই আবার ছেলেদের টি২০-তে সর্বনিম্ন। ২০১৪ সালে শ্রীলংকার কাছে নেদারল্যান্ডসের ৩৯ রানে অলআউট হওয়ার দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি চলে গেছে এখন চার নম্বরে। কারণ, অন্য দুটি ম্যাচে তুরস্কই ২৮ ও ৩২ রানে অলআউট হয়েছে লুক্সেমবার্গ ও অস্ট্রিয়ার কাছে।

অতিরিক্ত যখন মাত্রাতিরিক্ত

নারী ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি বা ফিফটি ছাড়াও যে বড় বড় স্কোর হয়েছে, তার মূলে আছে মাত্রাতিরিক্ত রকমের অতিরিক্ত। উগান্ডা মালির বিপক্ষে ৩১৪ রান তোলার পথে অতিরিক্ত খাত থেকে পেয়েছিল ৬১ রান। তবে এটি কিন্তু বিশ্বরেকর্ড নয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোস্টারিকার মেয়েরা দিয়েছে ৬৭টি অতিরিক্ত রান (৩৫ ওয়াইড ও ৩২ নো)। পরে মেক্সিকোর মেয়েরাও দেয় ৩৩টি ওয়াইড ও ১৪টি নো। সব মিলিয়ে এক ম্যাচেই ১১৪ অতিরিক্ত রান। অথচ অন্য কোনো নারী টি২০-তে ৩৫ রানের বেশি অতিরিক্তই ছিল না এত দিন। ছেলেদের খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে তুরস্কের দেওয়া ৩৯ এখন সর্বোচ্চ। একই দল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান দিয়েছে রোমানিয়ার বিপক্ষে।

ছোট দলের বড় জয়

গত বছরের জুনে মালয়েশিয়াকে ১৪৭ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তানের মেয়েরা। ওই সময় এটিই ছিল সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। কিন্তু এক বছরের মাথায়ই ১ থেকে ১২ নম্বরে নেমে গেছে ম্যাচটি। একের পর এক ভাঙাগড়ার খেলায় রেকর্ডটি এখন মালির মেয়েদের। এ বছরের জুনে তারা উগান্ডার কাছে হেরেছে ৩০৪ রানে। অন্য এক ম্যাচে তানজানিয়ার কাছে হেরেছে ২৬৮ রানে (১৩তম এসএ গেমসে বাংলাদেশ মালদ্বীপের মেয়েদের হারিয়েছে ২৪৯ রানের ব্যবধানে)। মজার বিষয় হচ্ছে, পরে ব্যাট করে যেমন বড় হারের রেকর্ড গড়েছে মালির মেয়েরা, তেমনি আগে ব্যাট করেও প্রতিপক্ষকে কম বলে জয়ের রেকর্ডের সুযোগ করে দিয়েছে। উগান্ডা ও তানজানিয়ার কাছে ৬ ও ১১ রানে অলআউট হওয়ার পর চার বলেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। ডিসেম্বরে এসএ গেমসে মালদ্বীপের ১৬ রান নেপাল টপকে যায় ৫ বলে। ছেলেদের ক্রিকেটে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে তুরস্কের ১৭৩ রানের হারটি এখন সবার ওপরে। দুইয়ে নেমে গেছে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলংকার ১৭২।

রোহিত-মিলারের নতুন সঙ্গী

ছেলেদের টি২০-তে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ১৩ বলে ফিফটি করেছেন অস্ট্রিয়ার মির্জা আহসান। এক বলের জন্য টিকে গেছে ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের যুবরাজ সিংয়ের করা ১২ বলে ফিফটির রেকর্ডটি। যেদিন মির্জা ১৩ বলে ফিফটি করেন, তার আগের দিন দ্রুততম সেঞ্চুরির যৌথ রেকর্ডে নাম লেখান চেক প্রজাতন্ত্রের সুদেশ বিক্রমাসেকারা। তুরস্কের বিপক্ষে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৩৫ বলে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার আর শ্রীলংকার বিপক্ষে ভারতের রোহিত শর্মা আগেই এই কীর্তি গড়ে ফেলেছিলেন।