ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

তবুও প্রবাসীতে আগ্রহ বিওএর

তবুও প্রবাসীতে আগ্রহ বিওএর

এশিয়ান গেমসে ভালো করতে পারেননি দুই প্রবাসী বাংলাদেশি ইমরানুর ও জিনাত ফেরদৌস। ছবি: ফাইল

হ্যাংঝু (চীন) থেকে, সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৩ | ০৪:২৬

বক্সিং রিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জিনাত ফেরদৌস। প্রদীপ হয়ে জ্বলে ওঠা অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালেই নিভে যান। হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে শনিবার ১০.৪২ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এ স্প্রিন্টারের মূল লড়াইয়ে সামর্থ্য নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। এশিয়ান গেমসে যে আশা আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই দুই প্রবাসীকে নিয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, তার ছিটেফোঁটাও হয়নি পূরণ।

বরং প্রবাসীদের পেতে যে পরিমাণ চিঠি চালাচালি করেছিল, তার চেয়ে দেশীয় অ্যাথলেটদের পেছনে বেশি ব্যয় করলে এবং তাদের সুযোগ দিলে গল্পটা হয়তো অন্যরকম হতো। জিনাত, ইমরানুরের আগে সাইজ সিজার, জুনাইনা আহমেদ, আলী কাদেরের মতো প্রবাসীরা পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে তাদের নিতে গিয়ে দেশের সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের করা হয়েছিল অবজ্ঞা। এত কিছুর পরও প্রবাসী ক্রীড়াবিদের প্রতি বুঁদ কাটছেই না কর্মকর্তাদের। বরং ভবিষ্যতে প্রবাসী অ্যাথলেট খুঁজে বের করার সন্ধানে নামতে যাচ্ছেন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।

২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে পদকের স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকানপ্রবাসী জিমন্যাস্টস সাইক সিজারকে এনেছিল বিওএ। বিশ্ব ক্রীড়া মহাযজ্ঞের পর কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমসেও প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে পারেননি সিজার। এই জিমন্যাস্টিকসই দ্বারস্থ হন নিউজিল্যান্ডপ্রবাসী আলী কাদেরের দিকে। গত বছর বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে কাদের ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তো এশিয়ান গেমসে দেখা মেলেনি তাঁর। সাফল্যের রঙ্গে ভাসতে না পারা লন্ডনপ্রবাসী সাঁতারু জুনাইনা আহমেদ তো লাল-সবুজের জার্সিতে আর পুলে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা যখন হারিয়ে যান, তখন টেবিলের আলোচনায় নতুন প্রবাসীর সন্ধানও যেন পেয়ে যান কর্তারা।

বিশেষ করে বক্সার জিনাত রিংয়ে নামার আগে যে হুমকি দিয়েছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল নিউইয়র্কে বসবাস করা এ অ্যাথলেটের হাত ধরেই খুলবে পদকের তালা। কিন্তু মঙ্গোলিয়ার প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাঁর ডিফেন্সিভ স্টাইলে খেলা দেখে কারোই বুঝতে অসুবিধা হয়নি, সত্যিকার অর্থে জিনাতের মান কেমন। বাজে পারফরম্যান্সের পর এই বক্সার কিনা এখন অলিম্পিকে খেলার স্বপ্নও দেখছেন। তাঁর স্বপ্ন পূরণ হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানের বিচারের চেয়ে পরিচয়ের বিচারে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ব্যতিক্রম অবশ্য ফুটবলে। ডেনমার্কপ্রবাসী জামাল ভূঁইয়া জাতীয় দলের অধিনায়ক। ফিনল্যান্ডপ্রবাসী তারিক কাজী যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়া ইমরানুর রহমানকে ঘিরেই যেন বুঁদ হয়ে যান কর্তারা। কিন্তু ওই একটি পদকের উচ্ছ্বাসে তারা হয়তো ভুলে যান ৬০ আর ১০০ মিটার এক জিনিস নয়। হ্যাংঝুর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে লন্ডনপ্রবাসী অ্যাথলেটের টাইমিং দেখে সেটা হয়তো বুঝেছেন তারা। বুঝলেও প্রবাসীদের প্রতি মোহ এতটুকু কমেনি কর্মকর্তাদের।

আরও প্রবাসী অ্যাথলেটের খোঁজে নামবেন বলে সমকালকে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা, ‘পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই প্রবাসীরা বড় বড় গেমসে অংশ নিয়ে থাকেন। এই যেমন মরক্কোর বক্সারদের অনেকেই কিন্তু প্রবাসী। আমাদের দেশে যারা খেলেছিলেন এবং খেলছেন, তাদের মান কিন্তু ভালো। আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালো মানের প্রবাসীকে খুঁজে বের করব, যারা কিনা দেশকে সাফল্য এনে দিতে পারবে।’

এটা ঠিক, বিশ্বের অনেক দেশেই প্রবাসী অ্যাথলেটের মিলনমেলা হয় এবং যারা আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় পদকও এনে দেন। তাদের দলে নেওয়ার আগে সত্যিকারের ট্রায়াল দেওয়া হয়। মান বুঝে, সবকিছু যাছাই-বাছাই করে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুধু সম্পর্কের জোরেই লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়াচ্ছেন এমন প্রবাসীরা, যারা কিনা সেই দেশের জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান না!

আরও পড়ুন

×