পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে যেন অন্তঃপীড়ায় ভুগছেন মুশফিক। জাতীয় দলের খেলা টিভিতে দেখতে হবে- সেটাই বেশি ভাবাচ্ছে তাকে। সোমবার সমকালের সঙ্গে আলাপনে জাতীয় দলের এই সিনিয়র ক্রিকেটার মন খুলে কথা বলেছেন ক্রিকেট নিয়ে। বিপিএলে সেঞ্চুরি করতে না পারা, জাতীয় দলের পাকিস্তান সফর, টি২০ বিশ্বকাপ ও জাতীয় দলের নেতৃত্বের বিষয় উঠে এসেছে। মুশফিকের খোলামেলা আলাপ শুনেছেন আলী সেকান্দার

সমকাল: বিপিএল শিরোপা জিতে বছর শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু পারলেন না...

মুশফিক: স্বাভাবিক, এত দূর এসে সবাই চায় চ্যাম্পিয়ন হতে। সত্যি বলতে, ফাইনালে আমরা ভালো খেলিনি। যারা ভালো খেলেছে তারাই জিতেছে। গত ছয় বছরে ফাইনালে উঠতে পারিনি, এ বছর ফাইনালে উঠতে পারাও তাই সান্ত্বনা। পরবর্তী সময় এ রকম সুযোগ এলে কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।

সমকাল: ৯৬, ৯৮ নটআউট, দলের জন্য সেঞ্চুরি সেক্রিফাইস?

মুশফিক: আমি জীবনে যতটুকু ক্রিকেট খেলেছি, দলের চিন্তা করেছি। বিপিএলে এই দুই ম্যাচে নন স্ট্রাইক পার্টনার বলেছে, এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেবে কিনা। আমি বলেছি না, দলের জন্য যেটা দরকার সেটাই করতে হবে। ১০ রান বেশি করতে পারলে করতে বলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটাই সব সময় হওয়া উচিত। শুধু ৯৬ বা ৯৮ রানে না ৯৯ রানে থাকলেও এটা পরিবর্তন হবে না। আমি দুটি একশ' করলাম আর দল হেরে গেল, এর চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না। যেদিন আমি ৯৮ রান করি সেদিন ৬ রানে জীবন পেয়েছিলাম। ছয়ের চেয়ে ৯৮ কিন্তু অনেক ভালো।

সমকাল: ব্যাট হাতে ছন্দে থেকেও পাকিস্তানে যাচ্ছেন না, কেন?

মুশফিক: যে কোনো জায়গায় বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা বড় সম্মানের। আসলে পরিবার যখন শঙ্কিত থাকে, তখন মন সায় দেয় না। শরীর ও মন একসঙ্গে কাজ না করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। খেলতে যাচ্ছি না বলে অবশ্যই খারাপ লাগছে। তবে বাংলাদেশ দল এখন সেই জায়গায় নেই যে, এক-দু'জন খেলোয়াড় না গেলে খারাপ করবে। ভারতে টি২০ সিরিজের কথা চিন্তা করেন, আমরা দু'জন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ছাড়া খেলেও জিতেছি। এটা ভালো লক্ষণ। তরুণরা আছে, তারা ভালো খেলবে, সে প্রত্যাশা করি।

সমকাল: পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?

মুশফিক: পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানই ফেভারিট। তাদের হারানো যাবে না, তা নয়। নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। আমরা আন্ডারডগ হিসেবে যাচ্ছি। তবে সবাই খুব ভালো ফর্মে আছে, আশা করি ভালো কিছু হবে। আর খুবই খারাপ লাগবে বাইরে থেকে দেশের খেলা দেখতে।

সমকাল: পাকিস্তানে না যাওয়ার পেছনে নিউজিল্যান্ডের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে?

মুশফিক: তা তো অবশ্যই। ওই ঘটনার পর কিন্তু আমার পরিবার খেলতে যেতে বারণ করেনি। এই প্রথম আপত্তি করল। আমি কিন্তু বলিনি, পাকিস্তানে কখনোই যাব না। আমার কাছে মনে হয়েছে, পরবর্তী সময় কয়েকটা বড় দল ওখানে গেলে যে সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হবে এবং তারা যেভাবে যাবে সেটার ফিডব্যাক পেলে আমার জন্য পরিবারকে বোঝাতে সহজ হবে।

সমকাল: বিসিবি সভাপতি এবং প্রধান কোচ বলেছেন, আপনাকে খুব মিস করবেন?

মুশফিক: আমিও মিস করব। যেমন গত সিরিজে আমরা সাকিবকে অনেক মিস করেছি। তামিম ছিল না, তাকেও মিস করেছি। স্বাভাবিক আমাকেও বাংলাদেশ দল মিস করবে। তবে আমার জায়গায় যারা আছে, তারা ভালো খেলবে আশা করি।

সমকাল: টি২০ দল দেশে ফিরে ভালো ফিডব্যাক দিলে টেস্টে যাবেন?

মুশফিক: এত কম সময়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা কঠিন। আমি কখনোই চাই না সফরটা মিস করতে। পাকিস্তানে আগেও ট্যুর করেছি। ওখানকার সুযোগ-সুবিধা, খাবার সবকিছু আমার পছন্দের। তাদের আতিথেয়তা মিস করব। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই চেষ্টা থাকবে পাকিস্তানে যাওয়ার।

সমকাল: পাকিস্তান সমর্থকরা বলছে, আপনি আইপিএলে দল পেয়েছেন, তাই পাকিস্তানে যাচ্ছেন না?

মুশফিক: না  না, এরকম কিছু না। আইপিএলে কতবারই নাম দেওয়া হয়েছে কিন্তু হয়নি। আমরা খুবই খারাপ লাগছে না যেতে পেরে।

সমকাল: ব্যাটিংয়ে ফোকাস করতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও কি কিপিং ছাড়বেন?

মুশফিক: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আমি কিপিংটা খুব উপভোগ করি। আমি মনে করি, টি২০ আর ওয়ানডেতে কিপিং এবং ব্যাটিং দুটোই করার সামর্থ্য আমার আছে। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি ভবিষ্যতে চায়, সেটা তাদের ব্যাপার। যদি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে জিজ্ঞেস করেন তাহলে আমি দুটিই করতে চাই।

সমকাল: টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট আপনার সঙ্গে কথা বলেছে?

মুশফিক: শেয়ার করা বলতে আমাদের পার্সোনাল গোল থাকে। আমরা কী করব, কাকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সবকিছু নিয়ে আলোচনা হয়। আমরা চার-পাঁচজন যারা আছি সবসময় কথা হয়।

সমকাল: বিসিবি তো আপনাকে অধিনায়ক হিসেবে চায়; আপনি কি ভাবছেন?

মুশফিক: আমি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে জানাচ্ছি, এ মুহূর্তে অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। আর যাদের কাছে দায়িত্ব আছে তারা উপযুক্ত ব্যক্তি। আমাদের উচিত হবে, তাদের সাপোর্ট করা। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে সাপোর্ট করেছি এবং করব।