শেরেবাংলা স্টেডিয়াম হঠাৎ সিসি ক্যামেরায় মোড়া

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে সিসি ক্যামেরার নেটওয়ার্কে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি সিসি ক্যামেরা। চার নম্বর গেটের অদূরে ফুটপাতের ল্যাম্পপোস্টে ক্যামেরার চোখ। গভীর রাতে স্টেডিয়ামের বাইরে থাকে বিসিবির নিরাপত্তা কর্মীদের পাহারা। দেখে মনে হতে পারে বড় কোনো নিরাপত্তা হুমকি আছে। যদিও বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা নেই। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শুরুর দিকে কে বা কারা রাতের আঁধারে বোর্ডের বর্তমান কমিটির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পোস্টারিং করেছিল। এর পরই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্পটে অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা লগানো এবং স্টেডিয়ামের বাইরে পাহারা দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা প্রহরী রাখা হচ্ছে। বিসিবি কর্মকর্তাদের ধারণা, বিরোধী পক্ষ পোস্টারিং করে থাকতে পারে।

সোমবার গভীর রাতে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা প্রহরী দেখা গেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বাইরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে কেউ যেন রাতের আঁধারে স্টেডিয়ামের ভেতরে অনিয়মের তালিকা নিয়ে পোস্টারিং করতে না পারে। এ নিয়ে বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পোস্টারিংয়ের বিষয়টি তার জানা নেই। আসলে তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং, বিসিবির কিছু পরিচালকের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে চাপের মুখে থাকা কিছু সংগঠক তিক্ত বিরক্ত। তারাই মূলত সন্দেহের তালিকায়। 

যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, ভোর হওয়ার আগেই পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। বিসিবির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর (অব.) হোসেন ইমামের কাছে পোস্টারিং সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি মুচকি হেসে বিষয়টি এড়িয়ে যান। আর সিসি ক্যামেরা দিয়ে স্টেডিয়াম মুড়ে ফেলার কারণ জানতে চাওয়া হলে সিইও বলেন, 'নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো কিছু নেই। বিপিএল টুর্নামেন্টে বিদেশি ক্রিকেটার খেলছে এবং নতুন নতুন ক্রিকেটার আসছে, সে কারণেই কিছু ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্মীরা কাজ করছে।'

এমনিতেই মাঠের ক্রিকেটে গত বছর খুব একটা ভালো যায়নি; বরং বছরজুড়েই ছিল বিতর্ক। বিসিবি সভাপতির বন্ধু পরিচালক ও মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার ক্যাসিনোণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে বিসিবির ক্ষমতাশালীদের হস্তক্ষেপ, অধিকার আদায়ে ক্রিকেটারদের আন্দোলন, বিপিএল থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বিতাড়নের ঘটনা আলোচিত ইস্যু। 

প্রথম বিভাগ ক্রিকেটেও অনিয়ম কম হয়নি। গত ১৯ ডিসেম্বর বিকেএসপিতে প্রথম বিভাগের রেলিগেশন লিগের ম্যাচে সূর্যতরুণের প্রতিপক্ষ ছিল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচটি আলোস্বল্পতার অজুহাতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় আজাদ। রিফিউজ টু প্লে আইন অনুযায়ী সূর্যতরুণকে দুই পয়েন্ট দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেটা না করে ম্যাচ রেফারি আসিফ হোসেন দিদার পরের দিন বিসিবিতে রিপোর্ট দেন। পরে সিসিডিএম ম্যাচটিকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে দুই দলকেই এক পয়েন্ট করে দেয়। ওই ম্যাচের আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইশতিয়াক আহমেদ নাদিম ও আলী আমহেদ রাজন। মঙ্গলবার নাদিমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সিসিডিএমে যোগাযোগ করেন, সব পাবেন।' আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি আবার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ। আর সূর্যতরুণ হলো বিসিবির প্রায়ত পরিচালক ও বিপিএলের সাবেক চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহার ক্লাব।