বাংলাদেশ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভালো খেলে। বিশেষ করে ওয়ানডেতে একটা জায়গা করে নিতে পেরেছে। টেস্ট এবং টি২০-তে এখনও সেভাবে দল হয়ে উঠতে পারেনি। এর বড় কারণ হলো, বিসিবি কর্মকর্তাদের দ্রুত ফল পাওয়ার মানসিকতা। বিদেশি কোচরাও এদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের মানসিকতা বুঝে সীমিত ওভারে ফোকাস করে গেছেন। জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম। টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। বিশ্বাস করেন, টেস্টে ভালো দল হতে পারলেই ওয়ানডে ও টি২০-তেও সফল হওয়া যাবে। দক্ষিণ আফিকা থেকে সমকালের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে নতুন বছরে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন রাসেল ডমিঙ্গো

সমকাল :বাংলাদেশ দল নিয়ে নতুন বছরে আপনার পরিকল্পনা কী?

ডমিঙ্গো :এ বছর বেশিরভাগ খেলাই বিদেশে। ১০টি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমার প্রথম ও প্রধান কাজই হলো ভালো একটা টেস্ট দল গড়ে তোলা। টেস্টে ভালো খেললে অন্য দুই ফরম্যাটে অটোমেটিক ভালো করবে। এ ছাড়া আইসিসি ও এসিসির যে দুটি টি২০ টুর্নামেন্ট আছে, সেখানে ভালো করার একটা চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে দল গড়ে তুলতে হবে।

সমকাল :দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কী আছে?

ডমিঙ্গো :পারফরমার এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় নিতে হবে। যারা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী, এমন ক্রিকেটার লাগবে ভালো করতে হলে। এই জায়গাটায় ফোকাস করছি। টেস্টের জন্য তিনজন পেস বোলার বেছে নেব। ব্যাটিং অর্ডারেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যারা পারফরমার এবং লম্বা সময় দেশের হয়ে খেলতে পারবে, তেমন খেলোয়াড় বেছে নিতে হবে।

সমকাল :শুধু দলে পরিবর্তন আনাই কি যথেষ্ট?

ডমিঙ্গো :শুধু দল পরিবর্তন করে হবে না। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হতে হবে। এনসিএল ও বিসিএল এখন ভালো উইকেটে খেলা হয়। আশা করি সামনে আরও ভালো উইকেট হবে। ক্রিকেটারদের স্পোর্টিং কন্ডিশন দেওয়া হবে, যাতে করে বোলার ও ব্যাটসম্যান দুই বিভাগের জন্যই সুবিধা থাকে।

সমকাল :বিপিএলের ম্যাচ দেখছেন?

ডমিঙ্গো :টিভিতে খেলা দেখতে পাচ্ছি না। তবে স্কোর কার্ডে নিয়মিত চোখ রাখছি। নতুন অনেকেই ভালো করছে। ঢাকার পেসার হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রামের মেহেদী হাসান রানা, খুলনার সুমন খান আর মুগ্ধ- এরা জোরে বোলিং করছে। এদের একটা নেটওয়ার্কের ভেতরে আনতে হবে। 'এ' দল, এইচপির ম্যাচ খেলাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার জন্য স্পোর্টিং কন্ডিশন পেলে আরও ভালো ভালো বোলার উঠে আসবে। অফস্পিনার মেহেদী হাসান ভালো করছে। সে একজন ভালো অলরাউন্ডার হতে পারে। দুটি ফিফটি ইনিংস দেখলাম। বোলিং সে আগে থেকেই ভালো করে। তবে আমি চিন্তিত, লেগস্পিনার বিপ্লব ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না।

সমকাল :১৪০ থেকে ১৪৩ কিলোমিটার গতির বলও দেখা গেছে বিপিএলে?

ডমিঙ্গো :এটা খুবই ভালো দিক। বলে গতি আছে, বৈচিত্র্যও দেখতে পাচ্ছি। এই বোলারদের নিয়ে কাজ করলে আরও সৃশৃঙ্খল হবে। জাতীয় দলের ক্যাম্পে রেখে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

সমকাল :এবাদতও ভালো করছে?

ডমিঙ্গো : সে ভালো বোলার। ভারতে ইকোনমি অতটা ভালো ছিল না। বোলিং নিয়ে সে কাজ করছে। নিয়ন্ত্রিত ডেলিভারি দেওয়ার অভ্যাস করে ফেলতে পারলে লাভবান হবে।

সমকাল :মুস্তাফিজ এখন কিছুটা ভালো করছেন, তার কি আরও বৈচিত্র্য আনা দরকার?

ডমিঙ্গো :আমি তা মনে করি না। মুস্তাফিজ ভারতে ছন্দে ছিল না। টি২০ খেললেও টেস্টে সুযোগ দিতে পারিনি। বিপিএলে গত দু-তিনটা ম্যাচে ধারাবাহিক ছিল। মুস্তাফিজকে ছন্দে পাওয়া খুব জরুরি। আর বোলিং বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজন দেখছি না।

সমকাল :বিপিএলের পরই টি২০ দলটা চূড়ান্ত করতে চেয়েছিলেন?

ডমিঙ্গো :আমরা দুটি আন্তর্জাতিক সিরিজ দেখেছি। এখন বিপিএলেও দেখছি। এবার ঢাকায় ফিরে নির্বাচকদের সঙ্গে বসব। এখনই দল গুছিয়ে ফেলতে হবে। কারণ বিশ্বকাপের বেশি দেরি নেই। যেটুকু সময় হাতে আছে চেষ্টা করতে হবে, ছেলেদের একটা ভালো প্রস্তুতি দিতে।