লংকান বোর্ডের বিপক্ষে মামলা ঠুকলেন হাথুরু

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে

বাংলাদেশ থেকে নিজের ইচ্ছায় চাকরি ছাড়ার পরও তাকে ছয় মাসের বেতন দেওয়া হয়েছিল শুধু চুক্তিতে দুর্বলতা থাকার কারণে। তাই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ছাঁটাই হওয়ার পর লংকান বোর্ডের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেবেন না, সেটা ভাবা ভুল। হয়েছেও তাই, লংকান বোর্ড তাকে চাকরিচ্যুত করার পর 'সম্মানহানি' ও 'আর্থিক ক্ষতি' চেয়ে লংকান বোর্ডের বিপক্ষে জেনেভার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে মামলা করেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।

তার দাবি, ক্ষতিপূরণ হিসেবে লংকান বোর্ডকে ৫০ লাখ ইউএস ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৩ কোটি টাকা) দিতে হবে। রোববারই মামলার এই কাগজ পৌঁছেছে লংকান বোর্ডের কাছে।

কলম্বোর একটি দৈনিকের খবর, হাথুরুর দিক থেকে এমন প্রত্যাঘাত যে আসতে পারে, সেটা ধরেই নিয়েছিলেন লংকান বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা। কেননা গত বছরের আগস্টে হাথুরুসিংহকে ছাঁটাই করার পর তার সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করেছিল শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি ছিল হাথুরুর। লংকান বোর্ড চেয়েছিল সমঝোতায় ছয় মাসের বেতন তাকে দিতে; কিন্তু সেটা মেনে নেননি হাথুরু। আর তার পরই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১২ সালে এভাবেই লংকান বোর্ডের ওপর মামলা ঠুকে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ জিতে নিয়েছিলেন জিওফ মার্শ। তাই এবারও সেই আশাতেই আছেন বর্তমানে সিডনিতে ঠিকানা গড়া চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের চাকরি ছেড়ে মাসে ৪০ হাজার ইউএস ডলার বেতনে লংকান জাতীয় দলের প্রধান কোচের চাকরি নিয়েছিলেন হাথুরু। বেতনের সঙ্গে বাসা ভাড়া ও অন্যান্য সুবিধাসহ মাসে প্রায় ৬০ হাজার ইউএস ডলার পেতেন তিনি। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপে লংকান দলের ভরাডুবির পর শ্রীলংকার ক্রীড়ামন্ত্রীর পরামর্শে হাথুুরুকে ছাঁটাই করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, দলের মধ্যে কোন্দাল তৈরি করছেন তিনি। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে একবার বল টেম্পারিংয়ে ক্রিকেটারদের প্রলোভিত করার অভিযোগ আনে তার বিরুদ্ধে লংকান বোর্ড।

হাথুরুসিংহেকে ছাঁটাই করার পর বর্তমানে মিকি আর্থারের নেতৃত্বে পাঁচ বিদেশি কোচিং স্টাফ নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলংকা। লংকান বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য আইল্যান্ডের খবর, 'হাথুরুর এক মাসের বেতন দিয়ে এখন মিকি আর্থার, গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, শেন ম্যাকডরমেট, ডেভিড সাকের আর টিম ম্যাকন্সিলকে বেতন দেওয়া হয়। হাথুরু পাঁচ মিলিয়ন ডলার দাবি করলেও আসলে তিনি এক মিলিয়ন ডলারের বেশি আমাদের কাছে পান না। যেহেতু তিনি এখন আদালতে গেছেন, সেহেতু সেখানেই এখন বাকিটা সম্পন্ন হবে।'