বিপিএল শুরুর আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুটি আক্ষেপের কথা বলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। অপূর্ণতা থেকে তৈরি হওয়া ওই আক্ষেপ দুটি এবার ঘুচিয়ে ফেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। প্রথম লক্ষ্য ছিল- একটি সেঞ্চুরি করা। দুই দফায় লক্ষ্য পূরণে বেশ এগিয়েও গিয়েছিলেন। একবার ৯৬ রানে থেমে গেছেন, আরেকবার মাঠ ছাড়তে হয়েছে ৯৮ রানে অপরাজিত থেকে। মুশফিকের দ্বিতীয় আক্ষেপ নিঃসৃত লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন টিমে থাকা।

আগের ছয় আসরে একবারও বিপিএল ট্রফি হাতে তুলতে পারেননি। সপ্তম আসরকে 'লাকি সেভেন' বানাতে চান এবার। মুশফিকের সেই লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ আজ। ব্যাট হাতে প্রথম তিন অঙ্কের ইনিংস আর খেলাশেষে ট্রফি নিয়ে উৎসব- দুটিই হাতছানি দিচ্ছে বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের মালিককে। মুশফিকের আক্ষেপ কি ঘুচবে আজ, লক্ষ্য পূরণ হবে কি?

গেল ছয় আসরের সবক'টিতে ভিন্ন ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুশফিক। নিজে খেলেছেন যেমন তেমন, দল ফাইনালে ওঠেনি একটিতেও। ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে খেলেছিলেন দুরন্ত রাজশাহীতে। দল বাদ পড়ে প্লে-অফে, ১১ ম্যাচে মুশফিক করেন ২৩৪ রান। পরেরবার ছিলেন সিলেট রয়্যালসে। এ দফায় ১৩ ম্যাচে করেন ৪৪০ রান, দলের বিদায় ঘটে সেরা চার থেকে। তৃতীয় আসরেও ছিলেন সিলেটে, তবে ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সুপারস্টার্স নামের দলের সঙ্গে। আর চতুর্থ আসরে ছিলেন বরিশাল বুলসে। দুটি আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে তার দল।

এর মধ্যে সুপারস্টার্সের হয়ে ১০ ম্যাচে মাত্র ১৫৭ রান করলেও বরিশালের হয়ে ১২ ম্যাচে ৩৪১ রান করেছিলেন। নতুন মালিকানার রাজশাহী কিংসে খেলেন পঞ্চম আসরে। এটিও ছিল ব্যক্তিগত ও দলগত দিক থেকে বাজে আসর; ১২ ম্যাচে করেন মাত্র ১৮৫ রান, দল বাদ পড়ে ষষ্ঠ হয়ে। ব্যক্তিগতভাবে ভালোর পর মন্দ, আবার মন্দের পর ভালোর ধারাবাহিকতায় গত আসরে ছিলেন ফর্মে। চট্টগ্রামের হয়ে ১৩ ম্যাচে করেন ৪২৬ রান, দল খেলে এলিমিনেটরে।

এবার আর এলিমিনেটরে খেলতে হয়নি। খুলনা টাইগার্সের হয়ে নিজে যেমন ফর্মে ছিলেন, সতীর্থরাও ছিলেন ছন্দে। লিগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হয়ে খেলেছেন প্রথম কোয়ালিফায়ার। যেটিতে রাজশাহী রয়্যালসকে সহজে হারিয়ে প্রথমবার ফাইনালের মঞ্চে মুশফিক। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জিতে রাজশাহীই মুশফিকের শেষ বাধা। আন্দ্রে রাসেলদের দলটির বিপক্ষে চট্টগ্রাম পর্বের খেলায় ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ডানহাতি এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

এরপর ঢাকায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে আরেকবার তিন অঙ্ক হাতছানি দিচ্ছিল। কিন্তু এ যাত্রায় দলের প্রয়োজন মাথায় রাখায় মাঠ ছাড়তে হয় ৯৮ রানে অপরাজিত থেকে। তবে দুর্দান্ত এক আসর কাটিয়ে মুশফিক এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। ১৩ ইনিংসে ১৪৭.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪ ফিফটিতে তুলেছেন ৪৭০ রান, যা বিপিএল ইতিহাসের এক আসরে বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর ৭ রান হলেই টপকে যাবেন ২০১৬ সালে করা তামিম ইকবালের রান। অবশ্য সব আসর মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানে এরই মধ্যে তামিমকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ৬৯ ইনিংস খেলা তামিমের রান ২২২১ আর ৮০ ইনিংস খেলে মুশফিকের ২২৫৩।