'পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ'

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

ছবি: ক্রিকট্রেকার

ছবি: ক্রিকট্রেকার

কিছুদিন আগেও আকবর আলী ছিলেন আর দশজন ক্রিকেটারের মতো। পরিচিতির গণ্ডি ছিল সীমিত। বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রাতারাতি তারকা বনে গেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। তার নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বে। এতকিছুর পরও আকবর আছেন মাটির কাছাকাছি। বিশ্বকাপ জয়কে দেখছেন একটা শুরু হিসেবে। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ফোনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক খোলামেলা কথা বলেন, নিজেদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ক্রিকেট নিয়ে। আলাপনের চুম্বক অংশ তুলে ধরছেন আলী সেকান্দার
সমকাল: অভিনন্দন আকবর।
আকবর: ধন্যবাদ আপনাকে।
সমকাল: বিশ্বকাপ বিজয় উদযাপন কেমন হলো?
আকবর :হাসি...। ভালো। ড্রেসিংরুমে আমরা খুব আনন্দ করেছি। যাকে বলে মন খুলে আনন্দ করা, তাই করেছি। যার যা মনে ছিল সে তা প্রকাশ করেছে। হোটেলে ফিরে সবাই মিলে রাতের খাবার খাওয়ার পর পাঁচ-ছয়জনের গ্রুপে গ্রুপে আনন্দ হয়েছে। রাতটা খুব ভালো কেটেছে। খেলার চিন্তা নেই, ঘুমাতে যাওয়ার তাড়া নেই। একটা স্বাধীন রাত ছিল। এই রাতটার জন্য গত দুটি বছর আমরা কষ্ট করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ আমরা বিশ্বকাপ জিততে পেরেছি।
সমকাল: আজ (গতকাল) কী করলেন?
আকবর: আজ তেমন কিছু করা হয়নি। পচেফস্ট্রুম থেকে জোহানেসবার্গে এলাম। নিজেকে এখন একটু হলেও ভারমুক্ত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমরা তা ভালোভাবে পালন করতে পেরেছি। এটা ভেবে বেশ স্বস্তি পাচ্ছি।
সমকাল: নিশ্চয়ই অভিনন্দনে ভাসছেন?
আকবর: আমি তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেই। তাই দেখতে পাই না। তবে স্যাররা দেখে বলেছেন, দেশের মানুষ খুব খুশি। আমাদের প্রশংসা করছে, অভিনন্দন জানাচ্ছে।

ফাইনালে ভারতকে হারানোর নায়ক আকবর আলীকে কাঁধে তুলে সতীর্থদের উদযাপন- টুইটার

সমকাল: বিজয়ের পর রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে কোনো ফোন পেয়েছিলেন?
আকবর: সেমিফাইনালের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। আমাদের উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেছেন, নিজেদের মতো করে খেলতে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কোনো ফোন আসেনি। শুনেছি জাতীয়ভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সমকাল: দেশে ফেরার পর আপনাদের তো সংবর্ধনা দেবে?
আকবর: বিসিবি হয়তো সংবর্ধনা দেবে। চ্যাম্পিয়ন হলেও আমরা স্বাভাবিক আছি। সংবর্ধনা পেলেও স্বাভাবিক থাকব। প্রত্যেক ক্রিকেটারের পা মাটিতে আছে। কারণ এই চ্যাম্পিয়নশিপ একটা শুরু মাত্র। আমাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমরা কেউ জাতীয় দল বা বড় কিছু নিয়ে চিন্তা করছি না। সবাই জানি অনূর্ধ্ব-১৯ হলো ক্যারিয়ারের প্রথম পর্যায়ের ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পার্থক্য অনেক। ওই পর্যায়ে যেতে চাইলে প্রত্যেককে প্রতিটি ধাপে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের ফোকাস থাকবে ব্যক্তিগত স্কিল বাড়িয়ে পরের ধাপে যাওয়া।
সমকাল: পরের ধাপ কি জাতীয় দল?
আকবর: জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন সবারই থাকে। আমাদেরও আছে। সে জন্য নিজেকে আগে তৈরি করতে হবে। আগামী তিন-চার বছর নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে হবে।
সমকাল: বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আপনি তো রীতিমতো সেলিব্রেটি?
আকবর: আমি ওইভাবে দেখছি না। আমরা একটা বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট জিতেছি। যাদের সঙ্গে খেলেছি তারা আমাদের বয়সী। আমরা একটা দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। দেশে ফিরেই আমরা সব ভুলে যেতে চাই। আমরা জানি, এখন থেকে নতুন শুরু করতে হবে। কারণ সামনের খেলাগুলো হবে বড়দের সঙ্গে। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি। অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা খেলেন।
সমকাল: মাশরাফি বিন মুর্তজা এক স্ট্যাটাসে লেখেন- আকবরের কাছে শিখলাম কীভাবে ইমোশন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়?
আকবর: আমি মাশরাফি ভাইয়ের স্ট্যাটাস দেখিনি। উনার মতো একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার যদি আমার প্রশংসা করে থাকেন, সেটা প্রেরণার। মাশরাফি ভাইকে ধন্যবাদ, প্রেরণা দেওয়ার জন্য।
সমকাল: আপনার কি মনে হয়, এই চ্যাম্পিয়নশিপের পর দেশের ক্রিকেটে একটা পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে?
আকবর: আমার মনে হয় একটা পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নিচের লেভেলের ক্রিকেটাররাও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখবে। ছোটদের মধ্যে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। যেটা ভালো ক্রিকেটার উঠে আসতে সাহায্য করবে।
সমকাল: গত দুই বছর একসঙ্গে থাকলেন, এখন থেকে তো আবার আলাদা হবেন?
আকবর: প্রথমে বিসিবিকে ধন্যবাদ যে, গত ১৫ মাস আমাদের এক ছাদের নিচে রেখেছে। বিশ্বকাপের আগে আমরা ৩৫টি ওয়ানডে খেলেছি, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকায় খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। খেলতে খেলতে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধন তৈরি হয়েছে। আশা করব, ভবিষ্যতেও বিসিবির ছাতার নিচে থাকার সুযোগ হবে। আর আলাদা হওয়ার ব্যাপার যেটা বললেন, একটা সময়ে তো আলাদা হতেই হবে। এখন থেকে প্রত্যেকেই স্বাধীন। প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবেচিন্তে নিতে হবে।
সমকাল: এই দুই বছরে কোচিং স্টাফদের সাপোর্ট কেমন ছিল?
আকবর : খুবই ভালো। কোচরা তো আছেনই, ট্রেনার রিচার্ড স্টনিয়ার এবং ফিজিও সানি মাজেদ ভাইকে বেশি কৃতিত্ব দেবো। রিচার্ড ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন, সানি ভাই আমাদের ইনজুরিমুক্ত থাকতে সাহায্য করেছেন। মৃত্যুঞ্জয় ছাড়া আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত ফিট থেকে খেলতে পেরেছি।
সমকাল: দর্শকদের জন্য কিছু বলতে চান?
আকবর: দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ, আমাদের পাশে থাকার জন্য। আশা করি আগামীতেও এভাবে পাশে থাকবেন তারা। বাংলাদেশের দর্শকরা সব সময় আমাদের দ্বাদশ খেলোয়াড়। গতকাল (রোববার) দর্শকরা মাঠে এসে যেভাবে সাপোর্ট করেছেন, সেটা আমাদের ভালো খেলতে উজ্জীবিত করেছে। আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।