'ভাবিনি আর কখনও টেস্ট খেলতে পারব'

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

স্পোর্টস ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারি ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। সেটি হতে যাচ্ছে কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলরের শততম টেস্ট। অবশ্য এই মাইলফলক টেলরের আগে নিউজিল্যান্ডেরই আরও তিনজন স্পর্শ করেছেন। তবে ওয়েলিংটনে আরেকটি বিরল কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন টেলর। নিউজিল্যান্ডের তো বটেই, ক্রিকেট ইতিহাসেই তিনি প্রথম ক্রিকেটার যিনি কিনা তিন ফরম্যাটে একশ'টি করে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন! ঐতিহাসিক সেই মাইলফলক টেস্ট খেলার ঠিক এক সপ্তাহ আগে টেলর বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম দুটি টেস্টে বাজে পারফরম্যান্সের পর আর কোনো তার টেস্ট খেলা হবে কিনা, সেটা নিয়েই সন্দিহান ছিলেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগা সেই ছেলেটি এখন কিউই ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারদের একজন। অসংখ্য রেকর্ড তার নামের পাশে। গত জানুয়ারিতে স্টিফেন ফ্লেমিংকে টপকে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শুরুতে শততম টি২০ ম্যাচটি খেলেছেন। আর সপ্তাহ খানেক পরে শততম টেস্টটি খেলতে যাচ্ছেন। সে তুলনায় ওয়ানডে খেলেছেন অনেক বেশি, ২৩১টি। তবে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে সেঞ্চুরি করাটাকে খুব একটা বড় করে দেখতে রাজি নন টেলর। শততম টেস্ট খেলাটাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ঘটনা বলেও মনে করছেন ৩৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিষেক সিরিজের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে নাকি বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্যই লাগে, 'আমার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। ওই সিরিজের বাজে পারফরম্যান্সের পর মনে হয়েছিল, আর কোনো দিন হয়তো টেস্টই খেলতে পারব না। ২০০৫ সালে টি২০ ফরম্যাট চালু হওয়াটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। টি২০-তে আমার অভিষেক ২০০৬ সালে। সময়ের কারণেই সবার প্রথম আমার তিন ফরম্যাটে একশ'টি করে ম্যাচ হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যে অনেকেরই তিন ফরম্যাটে একশ'টি করে ম্যাচ হয়ে যাবে।'

টেলর যখন এই কথা বলছিলেন তখন তার পেছনে নেটে ব্যাট করছিলেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় অধিনায়কের দিকে ইশারা করে টেলর বলেন, 'আমার তো মনে হয় এই ছেলে (কোহলি) তিন ফরম্যাটে দুইশ'টি করে ম্যাচ খেলবে। এই কীর্তি দেখার জন্য আমাদের কেবল কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।' তবে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন তিনি, 'দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজে পারফরম্যান্সের পর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে বাদ পড়ি। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পাই। সম্ভবত হ্যামিলটনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টটি খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করেছিলাম। ওই প্রথমবার আমার ভেতরে বিশ্বাস জন্মায় যে, আমার পক্ষে এই পর্যায়ে খেলা সম্ভব। তৃতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি পেয়ে যাওয়াটাও আমার জন্য সৌভাগ্যের ছিল।' টেলরের আরও সৌভ্যাগ্য হচ্ছে, নিজ শহর ওয়েলিংটনে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের সামনে মাইলফলক টেস্টটি খেলতে নামবেন।