সাকিব না ফেরা পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ অধিনায়ক?

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: বিসিবি

ছবি: বিসিবি

বিশ্বকাপের মাঝপথেই গুঞ্জনের শুরু- শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু তারপর সাত মাস কেটে গেলেও অবসর বা শেষ ম্যাচ নিয়ে বিসিবি কিংবা মাশরাফি- কোনো পক্ষ থেকেই পরিষ্কার সিদ্ধান্ত আসেনি মিডিয়ার সামনে। বিসিবির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে যে অবসরের সিদ্ধান্তটি মাশরাফির নিজের।

মাশরাফিও এ ব্যাপারে বিপিএল চলাকালে তার সর্বশেষ মন্তব্যটি করেছিলেন এভাবে- আমি খেলা চালিয়ে যাব। নির্বাচকরা যদি মনে করেন আমাকে দলে রাখবেন, তাহলে রাখতে পারেন; না রাখলে নেই। বছর সাঁইত্রিশের মাশরাফি বিন মুর্তজা মনে করেন, মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার কোনো ব্যাপার তার প্রয়োজন নেই। তবে তিনি বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নামটি প্রত্যাহার করেছেন। ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকে দলে নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতায় রাখবেন না বিসিবিকে।

এই পুরো ব্যাপারটির মধ্যে ক্রীড়াপ্রেমীরা হ্যাঁ কিংবা না-এর কোনো একটি উত্তর খুঁজতে গিয়ে ধন্ধে পড়ে যাচ্ছেন বারবার। বুধবার বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, জিম্বাবুয়ে সিরিজে তিন ম্যাচের ওয়ানডেতে মাশরাফি বিন মুর্তজাই অধিনায়ক থাকছেন। এবং পরবর্তী এক মাসের মধ্যে তারা নতুন অধিনায়ক খুঁজে বের করবেন। ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য সাকিব আল হাসানকেই অধিনায়ক ধরে নিয়েছে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এখন অক্টোবরে সাকিব দলে ফিরে না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো অধিনায়ককে বেছে নিতে পারে বিসিবি।

সেক্ষেত্রে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সম্ভাবনা বেশি। তবে মাশরাফি এ সিরিজের পরও তার পারফরম্যান্স দিয়ে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। তার এ কথার পর তাহলে মাশরাফিকে নিয়ে কী দাঁড়াচ্ছে? বুধবারের পর দুটো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে- এক. মাশরাফি আনুষ্ঠানিক অবসর নেবেন না; দুই. বিসিবি জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর তাকে আর অটো চয়েজ হিসেবে দেখবে না। এ সিরিজের পর মাশরাফিকে 'বাদ' দিতে পারে, আবার নাও দিতে পারে।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের তিনটি ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে 'অটো চয়েজ' হয়েই খেলবেন মাশরাফি। এবং অটো চয়েজ হিসেবে এটাই তার শেষ সিরিজ। এ সিরিজে যদি প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেন, তাহলে এপ্রিলে পাকিস্তান সফরে একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচেও খেলবেন মাশরাফি। তবে অধিনায়ক থাকবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মতামত নিয়েই জানাবে বিসিবি।

পাকিস্তান সফরের পর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে মে মাসে তিনটি ওয়ানডে রয়েছে বাংলাদেশের। যদি ফিটনেস আর পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ওই সিরিজেও খেলতে পারেন মাশরাফি।

কোচ রাসেল ডমিঙ্গো চাইছেন, ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দল গড়তে। কিন্তু অক্টোবরের আগে সাকিব না ফেরা পর্যন্ত দলের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন তিনি। সেখানে মাশরাফিও থাকবেন অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। যদি জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তান সিরিজে অধিনায়ক মাশরাফি ভালো করেন, তাহলে আয়ারল্যান্ড সফরেও অধিনায়ক হিসেবে থাকতে পারবেন। সাকিব না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো অধিনায়কের পথে হয়তো হাঁটবে না বিসিবি। কিন্তু ফল বিপর্যয় হলে সেই পথে যাবেন বিসিবি সভাপতি।

মাশরাফি নিজে কী চাইছেন, তা জানার আগ্রহ আছে সবার। এ ব্যাপারে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলোচনায় মাশরাফি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন, যত দিন পর্যন্ত নিজেকে ফিট মনে করবেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবেন এবং সেখানে পারফর্ম করলে যদি নির্বাচকরা জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলবেন। অধিনায়ক না হয়ে দলের সদস্য হিসেবে খেলতেও রাজি মাশরাফি। অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না যদি এভাবে ২০২৩ বিশ্বকাপেও বছর চল্লিশের মাশরাফিকে শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে দেখা যায়।