জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দারুণ কেটেছে তামিম ইকবালের। স্ট্রাইক রেট নিয়ে তারকা এ ওপেনারের সমালোচনা চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। জোড়া সেঞ্চুরিতে সে জবাব দিয়েছেন তামিম। আজ থেকে শুরু হচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০ সিরিজ। টি২০ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের প্রত্যাশা, ওয়ানডের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০-তে সেঞ্চুরি করবেন তামিম। টি২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিটি তামিমের ব্যাট থেকেই এসেছিল ২০১৬ বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন মাহমুদুল্লাহ। তার সংবাদ সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো...

-কতটা চ্যালেঞ্জিং...

মাহমুদুল্লাহ: চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। প্রতিটি খেলাই চ্যালেঞ্জিং; যার সঙ্গেই খেলেন না কেন। তবে টেস্ট ও ওয়নাডে সিরিজে আমরা যে রকম আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলেছি, সেটা ধরে রাখতে পারলেই আশা করছি সাফল্য আসবে। তার পরও আমার মনে হয়, টি২০-তে জিম্বাবুয়ে বেশ শক্তিশালী দল। তাদের ব্যাটিং অর্ডার বেশ ভালো। আমাদেরও খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আসতে হবে। কারণ, আমরা যদি সহজভাবে নেই, আমাদের জন্য খারাপ হবে।

-কোচের সঙ্গে কৌশল নিয়ে আলোচনা

মাহমুদুল্লাহ: কৌশলগত দিক নিয়ে কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি বেশ পরিস্কার। আমি কী চাচ্ছি, কোচ কী চাচ্ছে। আশা করি যারা খেলবে তারা পজিশন অনুযায়ী খেলবে। যেহেতু সাইফউদ্দিন ঢুকেছে, আমার মনে হয় দলের অবস্থা আগের চাইতে ভালো। একজন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ওর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, সাইফউদ্দিন ঢোকাতে আমাদের জন্য আরও সহজ হবে।

-ক্রিকেটারদের কাছে বিশ্বস্ততা

মাহমুদুল্লাহ: আমি সবসময় যেটা বিশ্বাস করি ও চেষ্টা করি, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ওই বিশ্বস্ততা পেতে। ওরাও যেন অধিনায়ক হিসেবে আমাকে বিশ্বাস করতে পারে। কারণ টি২০ সংস্করণটা এমন যে, এক-দুইটা ম্যাচ হয়তো খারাপ হতেই পারে। তার মানে এই না যে, সে অনিশ্চয়তা বোধ করবে। অধিনায়ক হিসেবে আমার একটি দায়িত্ব আছে, যাতে করে তারা নিশ্চয়তা বোধ করে এবং স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারে। আমার কাছে এই পরিকল্পনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। টি২০ বিশ্বকাপও খুব বেশি দূরে নেই। আমার মনে হয়, দলকে ভালোভাবে গড়ার জন্য এটা সঠিক সময়। প্রতিটি ম্যাচই যদি আমরা ধাপে ধাপে খেলতে পারি ও জিততে পারি তাহলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে।

-অধিনায়কের হাতে কর্তৃত্ব থাকার যৌক্তিকতা

মাহমুদুল্লাহ: সত্যি বলতে কী, আমার মতে, যে অধিনায়ক হবে তার ওই অথরিটি (কর্তৃত্ব) নেওয়া উচিত ও টিমের প্রতি বিশ্বাসটা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে খেলোয়াড়রা অনুভব করতে পারে অধিনায়কের, কোচের ও টিম ম্যানেজমেন্টের সাপোর্টটা আছে। আমার মনে হয়, এটা খেলোয়াড়দের পারফর্ম করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া অনেক সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার সুযোগও কম থাকে। আমি অধিনায়ক হিসেবে এগুলো তুলে ধরব এবং আমি চেষ্টা করব আমার তরফ থেকে ওই সমর্থনটা যেন খেলোয়াড়রা পায়।

-তামিম প্রসঙ্গে

মাহমুদুল্লাহ: হয়তো ওর স্ট্রাইক রেট নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, সে যদি নিজের মতো ব্যাটিং করতে পারে, তাহলে এই সিরিজেও একটা সেঞ্চুরি করতে পারবে। আমি এই ইস্যু নিয়ে খুব একটা চিন্তিত না। কারণ তামিম খুবই ভালো ছন্দে ব্যাটিং করছে। টি২০ সংস্করণে সে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক। আর এরকম সুনির্দিষ্ট কিছু বলাও হয়নি যে, সে কীভাবে ব্যাটিং করবে। পিচ বুঝে ব্যাটিং করবে, সেটা হলেই যথেষ্ট। আর যেভাবে তামিম-লিটন ব্যাটিং করছে, এমন সাবলীল ব্যাটিং যদি করতে পারে তাহলে আমার মনে হয় সেঞ্চুরিটা (টি২০-তেও) খুব বেশি দিন বকেয়া থাকবে না।

-মাশরাফি প্রসঙ্গে

মাহমুদুল্লাহ: মাশরাফি ভাইয়ের সবচেয়ে ভালো গুণ যেটা ছিল, উনার মধ্যে একটা ক্যারিশমেটিক পাওয়ার ছিল। যখনই আমরা একটু নার্ভাস থাকতাম, চিন্তা করতাম বেশি, তখন উনি আমাদের ঠান্ডা করে বোঝাতেন বা বলতেন, কীভাবে কী করলে আগানো যায় বা কোন জিনিসটা করলে নির্দিষ্ট কারও জন্য ভালো হবে। ওই গুণ ছিল মাশরাফি ভাইয়ের। আমিও চেষ্টা করব, আমার চিন্তাধারা দিয়ে কীভাবে টিমকে সাহায্য করা যায় এবং টিমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আসলে মাশরাফি ভাই সবকিছু সামলে যেভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সেটা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তার পরও আমি এটা জিনিস বলতে চাই, যে-ই অধিনায়ক হোক তার জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ যদি আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই আর ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই; এর কোনো বিকল্প নেই, চ্যালেঞ্জটা নিতেই হবে এবং ওই অনুযায়ী কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় যে, মাশরাফি ভাই খুব ভালো উদাহরণ তৈরি করে দিয়ে গেছেন।

-ব্যাটিং অর্ডার

মাহমুদুল্লাহ: একটু আগেই যেটা বললাম, বিশ্বাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন যেখানেই ব্যাটিং করুক, সেটা তিন হোক চার হোক পাঁচ হোক ছয় হোক বা সাত হোক, তারা যেন তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা অনুযায়ী ওইভাবে চিন্তা করতে পারে। আর বিশেষ করে টি২০-তে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে অবগত থাকলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। টি২০-তে ছয়-সাতে ব্যাটিংয়ে নেমে পরিস্থিতির কারণে মারতে গিয়ে অনেক সময় প্রথম বলেই আউট হতে পারে। এটাও সবাইকে বুঝতে হবে।