নভেল করোনাভাইরাসে পুরো বিশ্বই থমকে গেছে। থমছে গেছে ক্রীড়াঙ্গন। বৈশ্বিক মহামারিতে কোথাও নেই খেলাধুলা। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের খেলাধুলা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০টি ইভেন্টের আয়োজন করা হলেও সেগুলো সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। মহামারি ভাইরাসে বিশ্বে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুও মিছিল।

এমন অবস্থায় ফুটবল বিশ্বের অনেক নামি-দামি ক্লাব ও ফুটবল তারকা কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু, ম্যানচেস্টার সিটি ইত্তিহাদ স্টেডিয়াম করোনা চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশই তাদের স্টেডিয়ামগুলোকে করোনা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করছে। সেই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি খারাপ হলে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব স্টেডিয়াম বিশেষ করে ইনডোর স্টেডিয়ামসমূহ প্রয়োজনে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে করোনা চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। একই সঙ্গে সরকার চাইলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম ও ইনডোর ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে বলে জানান বিসিবির কর্তারা।

এরপর সোমবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানালেন, করোনা চিকিৎসায় স্টেডিয়াম ব্যবহারের কথা, 'সরকার করোনা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানি ও সরকারের গৃহীত সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি রূপ ধারণ করেনি। তবে আমাদের আত্মতুষ্টি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। তাই আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছি। দেশের সব স্টেডিয়াম বিশেষ করে ইনডোর স্টেডিয়ামগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদামাফিক করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করতে পারবে।

আমরা এরই মধ্যে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের প্রধান প্রধান স্টেডিয়ামকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। ঢাকা মহানগরীতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ও সব জেলা স্টেডিয়ামসহ মোট ৮০টি এবং ১২৫টি উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে।'

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। মহামারি এই ভাইরাসের প্রকোপ যাতে না বাড়ে সেই জন্য সরকার দশ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সবাইকে ঘরে থাকতে বলেছে। জাহিদ আহসান রাসেলও একই কথা বলেছেন, 'দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্য মজুদ আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। ঘরে অবস্থান করুন।'

বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'বিদেশফেরতরা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মেনে চলুন। ইনশাআল্লাহ বৈশ্বিক এই সমস্যা আমরা সমাধান করতে সক্ষম হবো। আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য দোয়া করুন। করোনা মোকাবিলায় সব পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সার্বিক সহযোগিতা করবে।'