৮ মার্চ মেলবোর্নে হওয়া নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে দর্শকসংখ্যার বিশ্ব রেকর্ড দেখেছিল ক্রিকেট। সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শকের রেকর্ড দেখা গেছে সর্বশেষ ফুটবল বিশ্বকাপেও। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া এভাবে গত কয়েক বছরের সব খেলার টুর্নামেন্ট আর বড় ম্যাচগুলোই গড়েছে গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড। কিন্তু করোনা-পরবর্তী সময়ে খেলার মাঠে এমন দর্শক জমায়েত আর কবে হবে তা নিয়ে সংশয় আছে। বরঞ্চ এটিই আপাতত নিশ্চিত যে, সামনের বড় একটা সময় খেলা হলেও দর্শক থাকবে না। গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া করোনাভাইরাসের গতিপ্রকৃতি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের পরামর্শ এরকমই।

ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের মানবিক বিপর্যয় এখনও চলমান। বন্ধ হয়ে যাওয়া খেলা ফের কবে থেকে পুরোদমে শুরু হবে তা বোঝা যাচ্ছে না একদমই। তবে সীমিত পরিসরে কিছু লিগ বা টুর্নামেন্টের অসমাপ্ত খেলা শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে কোথাও কোথাও। অবশ্য বেশিরভাগ খেলারই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে করোনার সামনের দিনগুলোর গতিপ্রকৃতির ওপর। এ অবস্থায় খেলা শুরু করলেও বা যখনই শুরু করা হোক, তা যেন গ্যালারি ফাঁকা রেখে হয়, এমন মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ছোঁয়াচে রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক অ্যান্থনি ফাউচি।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো সারাবিশ্বের স্থগিত হয়ে যাওয়া খেলা মাঠে ফেরানো নিয়ে তিনি বলেন, 'খেলা ফেরানোর একটাই উপায়। স্টেডিয়ামে কোনো দর্শক থাকবে না। খেলোয়াড়দের রাখতে হবে বড় হোটেলে, শারীরিক সংস্পর্শের সুযোগ যেন কম থাকে। পরীক্ষা করাতে হবে প্রতি সপ্তাহে। নজর রাখতে হবে পরিবারের সদস্যদের ওপরও।'

বিশেষজ্ঞদের 'ফাঁকা গ্যালারি'র পরামর্শ যে আগামীতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, সেটির আভাসও পাওয়া গেছে। ইউরোপিয়ান লিগের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আলবার্তো কলম্বো বিবিসিকে বলেন, 'এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, খেলা 'ক্লোডজ ডোরে' হবে। তবে এটা বলা সম্ভব নয় যে, খেলা আসলে কবে শুরু হবে? কেউই এটা বলতে পারবে না। আর আমরা এটাও জানি যে, সরকারগুলোর সিদ্ধান্তের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে।'

গত মাসে ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল লিগগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই অবশ্য একাধিক ম্যাচ 'ক্লোজড ডোরে' হয়েছিল। এখন ২০১৯-২০ মৌসুমের সমাপ্তি টানতেও অন্তত শূন্য গ্যালারিতে খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, বুন্দেসলিগা ও সিরি'আর কর্তৃপক্ষ।

ক্রিকেটে মৌসুম শেষ হয়েছে বলে এপ্রিল-মে মাসে খুব বেশি খেলা ছিল না। যাও ছিল, এরই মধ্যে স্থগিত হয়ে গেছে। তবে সংশয় দেখা দিয়েছে অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য টি২০ বিশ্বকাপ ঘিরে। এখনও ছয় মাস বাকি থাকলেও এ নিয়ে একাধিক বিকল্পের কথা ভেবে রাখছে আইসিসি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে গ্যালারি ফাঁকা রেখে খেলা আয়োজনের ভাবনা আছে অগ্রাধিকারভিত্তিতে।

সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসের (বছর দুইও হতে পারে) খেলাধুলা হতে যাচ্ছে দর্শকবিহীন। মাঠে থাকবেন খেলোয়াড়, গ্যালারি থাকবে ফাঁকা।