নিজেকে যতই স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করুন না কেন, বিতর্ক পিছু ছাড়ে না খালেদ মাহমুদের। বিসিবির পরিচালক, আবাহনীর কোচ, একাডেমিতে কোচিং করান, জাতীয় দলের ম্যানেজারও হন। এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। এ দিকগুলো পরিষ্কার করতে খোলামেলা কথা বললেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক, শুনলেন আলী সেকান্দার।

সমকাল: সাবেক ক্রিকেটাররা আপনার ওপর খুব নির্ভরশীল। কারণ কী?

খালেদ মাহমুদ: আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না, কেন ওরা আমার ওপর এত নির্ভরশীল। যারা আমার সঙ্গে খেলেছে বা যারা সদ্য সাবেক হয়েছে, তারা ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে চাইলে আমি সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করি। ক্রিকেটকে অনেক কিছুই দেওয়ার আছে তাদের। সেটা কোচ হতে পারে, ম্যানেজার বা ট্রেনার হতে পারে। আসলে তাদের অভিজ্ঞতা আমি কাজে লাগাতে চাই। এজন্যই হয়তো ওরা বিশ্বাস করে, আমার কাছে এলে ফিরিয়ে দেব না।

সমকাল: আপনার দলে খেললে জাতীয় দলে ঢোকা সহজ হয়, এমন বিতর্ক কেন?

খালেদ মাহমুদ: আমি কখনও জাতীয় দলের জন্য কাউকে 'পুশ' করি না। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, যোগ্যতা দিয়ে বাংলাদেশ দলে খেলা উচিত। আমার দলে খেলার কারণে জাতীয় দলে সুযোগ পাবে, এরকম হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং আমি ছেলেদের জাতীয় দলে খেলার টার্গেট দিই। প্রেরণা দিই, যাতে ওরা পরিশ্রম করে এবং ভালো খেলে নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে পারে। খেলোয়াড়দের আমি বলেই নিই, 'আমি তোমাদের পুশ করতে পারব না।' দেশে যে পরিমাণ মিডিয়া আছে, মানুষের চোখ ক্রিকেটে থাকে, সবাই খেলা দেখে, ভালো করলে এমনিতেই সুযোগ পাবে। মিডিয়াই বলবে, ভালো খেলার পরও ছেলেটা সুযোগ পাচ্ছে না। সবাইকে আমি মুশফিকের উদাহরণ দিই, কষ্ট করতে বলি। আমাদের সময়ে হতো আবাহনী-মোহামেডানে না খেললে জাতীয় দলে ঢোকা কঠিন হতো। তখন কোচের পছন্দ ছিল, বোর্ড পরিচালকের পছন্দে জাতীয় দলে ঢোকার সুযোগ থাকত। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সমকাল: আপনি বোর্ড পরিচালক হওয়ায় মাঠে বাড়তি সুবিধা পায় আবাহনী- এমন অভিযোগও তো আছে?

খালেদ মাহমুদ: আবাহনী যে দল বানায় তাদের চুরি করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দরকার পড়ে না। এ বছরও আবাহনীতে জাতীয় দলের নয়জন খেলছে। বাকিরাও জাতীয় দলে খেলার মতো। আম্পায়ারিং ভুল হয় বা খারাপ হয়, সেটা তো আমার দায় নয়। এ বছর আবাহনীতে লিটন, নাঈম শেখ, শান্ত, মুশফিক, আফিফ, মোসাদ্দেক, সাইফুদ্দিন, বিপ্লব, আরাফাত সানি খেলছে। এই দলের চ্যাম্পিয়ন না হলে কষ্টের ব্যাপার। জানি না মানুষ এগুলো কেন বলে। আবাহনী প্রভাব খাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়, এটা বলা হলে ক্রিকেটারদের ছোট করা হয়। এতগুলো জাতীয় দলের ক্রিকেটার খেলে আবাহনীতে, তাদের ম্যাচ জিততে আম্পায়ারের সাহায্য নিতে হবে কেন? আবাহনীতে কাজ করি সুযোগ-সুবিধা ভালো হওয়ায়। এই চাকরি করেই জীবিকা নির্বাহ করি। একটা কথা বলতে চাই, ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমি সতর্ক থাকতে চাই, ক্রিকেটের জন্যই আজ আমি খালেদ মাহমুদ সুজন। এই খেলার সঙ্গে আমি বেইমানি করতে পারব না।

সমকাল: আপনি তো একসঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন?

খালেদ মাহমুদ : এ জায়গাটা আমি পরিষ্কার করতে চাই। ঢাকা লিগ চললে আমি রাজশাহীতে কোচিং করাতাম না। রাজশাহীতে কাজ না করালে আমার বেতন নেই। রাজশাহী একাডেমিতে মাসে ১২ দিন কাজ করার কথা, একদিন কাজ না করলে ওই পারিশ্রমিক কেটে রাখা হয়। বেক্সিমকোর কথায় আসুন, তারা আবাহনীতে আমার সার্ভিস পেলেই খুশি। কাজের ফাঁকে রাজশাহী একাডেমিতে গেলে তাদের কোনো সমস্যা নেই। সেভাবে কথা বলাও আছে। বিসিবিতে ম্যানেজারের যে কাজগুলো করি, তখন রাজশাহীতে কাজে যেতে পারি না এবং বেতন পাই না। বিসিবিকে একটা কথাই বলেছি, আমাকে বেতন দিতে হবে। বেতন দিলে আমি কাজ করব, না দিলে করব না। কারণ রোজগার না করলে আমার চলবে না। আপনি বিসিবির অ্যাকাউন্টস বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন- কোনোরকম বাড়তি সুবিধা নিই না। বিসিবিতে কাজ করা আমার জন্য আর্থিক ক্ষতি। সভাপতি পাপন ভাই বলেন তাই কাজ করি। কারণ তিনি আমাকে খুব স্নেহ করেন। আরেকটি ভুল ধারণা হলো, আমি নির্বাচকের কাজ করি। আমি কোনো সময় নির্বাচক ছিলাম না। সভাপতি আমাকে বাড়তি একটা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দেড় বছর পর আমি পাপন ভাইকে বলেই বেরিয়ে গেছি। আমার কাজ বেসিক্যালি দুটি- বেক্সিমকোতে চাকরি করা আর রাজশাহী একাডেমিতে কোচিং করানো। এ ছাড়া আর কিছু করি না। সবার ভুল ধারণা আমি অনেক কিছু করি।

সমকাল: মোটিভেটর না স্কিল কোচ? নিজেকে কোনটা ভাবতে ভালো লাগে।

খালেদ মাহমুদ: আমার কোচিংয়ের একটা বড় রোল হলো মোটিভেশন। আমি মোটিভেট করতে পছন্দ করি এবং করতে পারি। খেলোয়াড়দের মানসিকতা বোঝার ক্ষমতা আমার মধ্যে আছে এবং তাদের ভালো খেলার জন্য, উন্নতি করার জন্য, ছেলেদের কাছ থেকে শতভাগ আদায় করে নেওয়ার জন্য উজ্জীবিত করতে পারি। আমি স্কিল নিয়েও কাজ করি। যার যেখানে ছোটখাটো সমস্যা আছে সেগুলো ঠিক করে দিই। তবে ছেলেদের সঙ্গে আমি কখনও বাড়তি কথা বলি না।

সমকাল: একাডেমির বাচ্চাদের কীভাবে তৈরি করেন?

খালেদ মাহমুদ: বাচ্চাদের তৈরি করা একটু কঠিন। টেকনিক্যাল দিক বেশি থাকে, সেখানে টেকনিক নিয়ে তখন বেশি চিন্তা করি। ১৩-১৪ বছরের বাচ্চাকে টেকনিক্যাল দিক নিয়ে শেখানো যায়। সিনিয়রদের ক্ষেত্রে মোটিভেশনাল কাজটা বেশি করতে হয়।