রবিউল ইসলামের মতো সম্ভাবনাময় এক পেসার দেশের ক্রিকেট আকাশ থেকে অকালেই খসে গেছে। হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে অভিমানে অবসর ঘোষণা করে বিসর্জন দেন গোছানো ক্রিকেট ক্যারিয়ার। আর এখন তাকিয়ে থাকেন সাতক্ষীরার লিগে খেলার জন্য।

খেলা ছাড়ার সঙ্গে রবিউলকে ছেড়ে গেছে জীবনের সুখ। অন্য পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে গিয়েও খেয়েছেন হোঁচট। আর্থিক টানাপোড়েনে পথ হাঁটছেন অনিশ্চিত গন্তব্যে। আর্থিক দিক দিয়ে চাপের ভেতরেই আছেন। এখন তাই ভাবছেন সৈয়দ রাসেল, আফতাব আহমেদের মতো কোচিং ক্যারিয়রা শুরু করবেন। সেজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও   ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সহায়তা চান রবিউল।

সমকালকে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আর্থিকভাবে চাপের ভেতরেই আছি। মাঝে ক্রিকেটার্স ক্যাফে নামে একটা রেস্তোরাঁ করেছিলাম, সেটাও ধরে রাখতে পারিনি। আর্থিকভাবে লাভবান করতে পারিনি। ওটাও বন্ধ করে দিয়েছি। এখন খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।'

অবসরের প্রসঙ্গে তিনি অভিমানের বাঁধন আগলা করে দেন, 'রাগ করেই অবসর ঘোষণা করেছিলাম। পরপর দুই মৌসুমে ঢাকা লিগে দল পাইনি। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তিন বছর প্রাথমিক স্কোয়াডেও রাখা হয়নি। ওই সময় চিন্তা করলাম- ঢাকা লিগে দল পাচ্ছি না, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মতো টুর্নামেন্টে জেলা দলে খেলার সুযোগ দেওয়া হয় না তাহলে তো ক্রিকেটে দেওয়ার মতো কিছু নেই আমার। ঝোঁকের মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি খেলা ছেড়ে দেওয়ার।'

১৫ বছর শীর্ষ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার পরও কেন আর্থিক কষ্টে পড়তে হয় একজন ক্রিকেটারকে? উত্তরে সাতক্ষীরার এ সাবেক পেসার বলেন, '১৭ বছর বয়স থেকে সংসারের হাল ধরেছি। খেলে তো খুব বেশি টাকা উপার্জন করতে পারিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পুলের ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে কম টাকায় খেলতে হয়েছে। পাঁচ বছর জাতীয় দলে খেলে একবারই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলাম, তাও রুকি বিভাগে। তাই সব ধরনের খেলা খেলেও আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারিনি।'

রবিউলের আক্ষেপ জাতীয় দলে টানা খেলে গেলে সব দিক থেকেই ভালো থাকতে পারতেন। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমে যাওয়ার পেছনে জাতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ হাথুরুসিংহেকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি, 'আসলে আমি কখনও চিন্তা করিনি এমন কিছু হতে পারে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শেষ খেলি জাতীয় দলে। ১০১৭ সালে যে আমি খেলার বাইরে চলে যাব, কখনও চিন্তা করিনি। সবাই তো জানে আমাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে হাথুরুসিংহের কারণে। আসলে ভাগ্য খারাপ হলে কিছুই করার থাকে না।'

জীবন-সংগ্রামে হোঁচট খাওয়া এ ক্রিকেট সৈনিক চেষ্টা করছেন কোচিং পেশায় ঢোকার। ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ, এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন কোচিং ক্যারিয়ার তার মতো প্রতিভাবান পেসারদের আলো দেওয়ার। রবিউল জানান, নতুন পথের সন্ধান পেতে তাকিয়ে আছেন খালেদ মাহমুদের দিকে।