করোনায় অনিশ্চিত বিশ্ব ফুটবলের চলতি মৌসুম। অজানা ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বৈশ্বিক মহামারিতে স্থগিত বাফুফে নির্বাচন। বেড়েই চলেছে করোনার প্রাদুর্ভাব। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করতে পেশাদার লিগের ১৩টি ক্লাবকে গত বুধবার চিঠি পাঠিয়েছে বাফুফে। চিঠিতে প্রিমিয়ার লিগ, ফুটবলারদের বেতন এবং চুক্তি নিয়ে ক্লাবগুলোর মতামত জানতে চেয়েছে ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ক্লাবগুলোর মতামত পাঠানোর শেষ তারিখ আজ। করোনার কারণে বন্ধ বেশিরভাগ ক্লাব। কয়েকটি ক্লাব চিঠি পেয়েছে, আবার কেউ কেউ পায়নি। এ অবস্থায় বাফুফের চিঠির উত্তর পাঠাতেও তৈরি নয় বেশ কয়েকটি ক্লাব। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছুদিন সময় চাইবে ক্লাবগুলো। তবে করোনার যে অবস্থা, তাতে এ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কয়েকটি ক্লাব তো লিগ না খেলার পক্ষে। আবার বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেডের মতো বড় কয়েকটি ক্লাব এখনই লিগ বাতিলের পক্ষে নয়। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে এখন তেরোটি ক্লাবের ওপর।

বিপিএলের হয়েছে মাত্র ছয় রাউন্ড। দ্বিতীয় লেগ নিয়ে এখনই ভাবছেন না পেশাদার লিগ কমিটি। দুই লেগ মিলিয়ে যদি খেলা হয়, তাহলে ফুটবলারদের সঙ্গে ক্লাবগুলোর চুক্তি নিয়ে পড়তে হবে সমস্যায়। কারণ বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তিটা হয় মাসভিত্তিক। আবার অনেকে এক মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি করেন। সে হিসাব করতে গেলে জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের; কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রতিটি দল মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি করে ম্যাচ খেলেছেন। লিগের সব ম্যাচ শেষ করতে হলে জুলাই পার হয়ে যাবে। আর জুন-জুলাইয়ে ফের লিগ চালু হবে কিনা তা নিয়েও আছে শঙ্কা। সব মিলিয়ে একটা জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে। 

সর্বশেষ ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল পেশাদার লিগ। করোনার কারণে ক্যাম্প বন্ধ করে ফুটবলারদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে ক্লাবগুলো। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিদেশি ফুটবলারদের অনেকেই আটকা পড়েছেন ঢাকায়। লিগ হবে না ধরে নিয়ে আবার অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের টাকা-পয়সা বুঝিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ এ মৌসুমে লিগ বাতিলের পক্ষে। অবস্থান পরিবর্তন হলে খেলতে রাজি আবাহনী-ব্রাদার্সের মতো ক্লাব। তবে এ মৌসুমে লিগ আর খেলতে চায় না আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী লিগ বাতিলের পক্ষে, 'করোনাভাইরাসের প্রকোপ কেটে গেলে কবে নাগাদ পরিস্থিতি ঠিক হয় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। লিগ মাঠে গড়ানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়ও দিতে পারেনি বাফুফে। তা ছাড়া আমরা দেশি-বিদেশি সব ফুটবলারের অর্থ পরিশোধ করে চুক্তি শেষ করে দিয়েছি। বিমান আকাশে উড়লেই বিদেশিরা চলে যাবেন। তাই আমরা এ বছর আর লিগ খেলছি না বলেই বাফুফেকে জানিয়ে দিয়েছি।' আর গত ১৭ মার্চে লিগ কমিটির সভায় বসুন্ধরা ও আবাহনী ছাড়া বাকি ১১টি ক্লাবই নাকি লিগ বাতিলের পক্ষে ছিল বলে জানিয়েছেন ইয়াকুব আলী, 'পৃথিবীর অনেক দেশেই লিগ বাতিল হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আমাদেরটা বাতিল হলে সমস্যা কোথায়?'

চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। আরামবাগের মতো এখনই লিগ বাতিলের পক্ষে নন তিনি, 'আমরাও চিঠি পেয়েছি। তবে করোনার অবস্থা না দেখে বাফুফেকে কোনো উত্তর দিতে পারছি না।' একই সুর ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খানেরও। তবে লিগ বাতিলের মতো কোনো সিদ্ধান্ত এখনই নিতে চাইছে না ফেডারেশন। এ প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, 'আমরা ক্লাবগুলোর মতামত জানতে চেয়েছি। তাদের সিদ্ধান্তই সব নয়। আমরা আগেই বলেছি, এপ্রিল পর্যন্ত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাই সবার মতামত না আসা পর্যন্ত বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটিও কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।'