সুসময়ের অপেক্ষায় মুমিনুল

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২০     আপডেট: ০৯ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

সারা বিশ্বে কভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে ক্রিকেট ফিরতে শুরু করেছে মাঠে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলংকার পর আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রাও নেমে পড়েছেন মাঠে। বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক অপেক্ষা করবেন দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত। বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে মুমিনুলের অভিমত জেনেছেন আলী সেকান্দার

সমকাল :করোনার কারণে খেলা কি মন থেকে ধূসর হওয়ার পথে?

মুমিনুল :খেলা ধূসর হয়ে যায়নি। হবেও না। কিছু দিনের জন্য নীরব থাকতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব শিগগিরই ফিরব খেলার মাঠে।

সমকাল :অন্য দেশে অনুশীলন শুরু হচ্ছে, আপনারা মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত?

মুমিনুল :অন্য দেশে খেলাধুলা শুরু হয়েছে বলে আমাদেরও শুরু করতে হবে তা নয়। দেশের পরিস্থিতি ভালো হলে আমরাও ফিরব। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকারই কথা। আমরা জানি না কখন খেলায় ফিরতে পারব।

সমকাল :শ্রীলংকা সফর নিয়ে আপনাদের মতামত কী?

মুমিনুল :এটা পুরোপুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কী করবে। এটা নিয়ে আগে থেকে কোনো মন্তব্য করা কঠিন।

সমকাল :এই যে লম্বা বিরতি, টেস্ট ক্রিকেটে কি প্রভাব পড়তে পারে?

মুমিনুল :আমার কাছে মনে হয় না। এই পরিস্থিতি তো সব দেশকেই মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রতিটি দেশকেই নতুন করে শুরু করতে হবে। খেলতে পারছি না দেখে পিছিয়ে যাব, তা নয়। স্কিল তো আর ভুলে যাওয়ার নয়। একটু প্র্যাকটিস করলেই আগের অবস্থায় ফিরে আসা যাবে। এদিক থেকে বলব, যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি।

সমকাল :যেসব দেশে খেলা শুরু হচ্ছে তাদের দিকে দৃষ্টি রাখবেন নিশ্চয়ই?

মুমিনুল :হ্যাঁ, ফলো করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা কীভাবে প্র্যাকটিস করেছে, ম্যাচ খেলছে সেটা দেখতে হবে। যেটা পরবর্তীতে আমাদের খুব কাজে দেবে। কীভাবে সংক্রমণমুক্ত থেকে খেলা যায় আমরা বুঝতে পারব। মোট কথা নতুন পরিস্থিতিতে তারা কীভাবে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে জানতে পারব, শিক্ষা নিতে পারব এবং নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারব।

সমকাল :এই সময়ে আপনার সতীর্থদের কী ধরনের বার্তা দেবেন?

মুমিনুল :এই পরিস্থিতিতে তো তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। যেটা করতে পারে ক্রিকেট সম্পর্কে একটু ধারণা নিতে পারে। অবসর সময়ে নিজের ব্যাটিং ভিডিও দেখতে পারে। টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা চোখে পড়লে ওগুলো নিয়ে শ্যাডো করতে পারে। কোচদের পরামর্শ নিতে পারে। আর ফিটনেস নিয়ে প্রত্যেকেই হয়তো কম-বেশি কাজ করছে। একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে থাকলে ভালো।

সমকাল :আপনি পুরোনো ভিডিও দেখেন?

মুমিনুল :হ্যাঁ, দেখি। '৮০, '৯০-এর ম্যাচগুলো দেখি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগের সময়ের বোলারদের বোলিং দেখি। বাংলাদেশের প্রথম দিকের টেস্ট ম্যাচ দেখি। ওগুলো দেখে নিজের কাছে ভালো লাগে, উজ্জীবিত হই।

সমকাল :বিশ্বপ্রেক্ষাপটে '৮০-এর দশকের টেস্ট ক্রিকেট আর বর্তমান টেস্ট ক্রিকেটের বেসিক পার্থক্য কী?

মুমিনুল :আগের টেস্ট ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। '৭০ বা '৮০-র দশকে টেস্ট খেলা অনেক কঠিন ছিল। পেস বোলাররা ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করত। হেলমেট ছাড়াই ব্যাট করতে হতো। ওইরকম কোনো সেফটি গার্ড ছিল না। তখন উইকেটের ওপর কোনো কাভার দেওয়া হতো না। ক্রিকেটের প্রতি মানুষের ফোকাসও ছিল কম। আর্থিকভাবেও সুযোগ-সুবিধা ছিল কম। এখন অনেক বেশি মানুষ ক্রিকেট ফলো করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হয়। তবে ব্যাটিং করা আগের চেয়ে সহজ। ব্যাটিং উইকেট হয়, টেকনোলজি যোগ হয়েছে। তখন টেকনোলজি ছিল না বললেই চলে।

সমকাল :আপনার টেস্ট দলে তো ওয়ানডে বা টি২০'র মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নেই।

মুমিনুল :টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনেক বেশি মূল্যায়ন হয়। কারণ যে যত বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলবে সে তত বেশি গেম বুঝবে। আমার ক্ষেত্রে অত বেশি সূক্ষ্ণভাবে চিন্তা করতে হয় না। আমাদের যারা জুনিয়র খেলোয়াড় আছে, তারা অসম্ভব প্রতিভাবান। গাইড করা গেলে ভালো কিছু দিতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। মুস্তাফিজ ছাড়া পেস বোলারদের সবাই নতুন। তাসকিন সেভাবে টেস্ট খেলেনি। রাহি, ইবাদত গেমটাকে বুঝতে পেরেছে। যত খেলবে তত উন্নতি করবে। বিশ্বের সব বড় বড় দলেই কিন্তু তিন-চারজনের বেশি সিনিয়র ক্রিকেটার থাকে না। সেভাবে চিন্তা করলে বাংলাদেশ দল ঠিক পথেই আছে।

সমকাল :অনেক ক্রিকেটারই তো চায় ব্যক্তিগতভাবে প্র্যাকটিসে ফিরতে?

মুমিনুল :দেশে করোনাভাইরাসের এখন যা পরিস্থিতি তাতে বিভিন্ন জায়গায় রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কারও যদি মনে হয় প্র্যাকটিস করবে, করতে পারে। আমি যেমন প্র্যাকটিসে যাব না। আমার কাছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সবার আগে। দেখা গেল প্র্যাকটিসে গেলাম এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলাম, তখন জিনিসটা অন্যরকম হবে। প্র্যাকটিস করা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।