'আবেগে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না'

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০     আপডেট: ১৭ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

ছবি: ফাইল

ছবি: ফাইল

কভিড-১৯ মোকাবিলা করে ক্রিকেটে ফেরার চেষ্টা করছে কিছু দেশ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও সে পর্যায়ে আসেনি বলে মনে করেন তামিম ইকবাল। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত খেলায় ফিরতে চান ওয়ানডে অধিনায়ক। ক্রিকেট ও তামিমের ব্যক্তিজীবন নিয়ে নিবিড় আলাপনে যোগ দিয়েছিলেন আলী সেকান্দার

সমকাল: লম্বা বিরতি শারীরিক এবং মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে?
তামিম : তিন মাস ধরে ব্যাট ধরি না। এ রকম না যে, কাল প্রস্তুতি শুরু হলো আর পাঁচ দিনের মধ্যে আমি খেলার মতো ফিট হয়ে যাব। একটা ভালো শেপে আসতে গেলে ১৫টি সেশন লেগে যাবে। ব্যাটসম্যানদের ১৫ সেশন লাগলে বোলারদের ২০ সেশন লাগতে পারে। এক্ষেত্রে ট্রেনার, ফিজিও এবং টিম ডাক্তারের পরিকল্পনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সমকাল : একটা সময়ে সবাই মাশরাফিকে ফোন দিত, এখন তামিমকে দেয়?
তামিম : সব সময়ই দেয়। মাশরাফি ভাই থাকার সময়ও দিত। এতে অধিনায়কত্বের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আগেও আমাকে এভাবে প্রয়োজনে ফোন দিত। আমিও দিতাম। আমি আগে যে রকম ছিলাম সে রকমই আছি। মানুষজনও আমাকে আগের মতোই দেখে।

সমকাল : জাতীয় দল প্রসঙ্গে আসি, বর্তমান দল নিয়ে কতটা আশাবাদী?
তামিম : আমি আশাবাদী। আগামী এক থেকে দেড় বছর দলটাকে তৈরি করতে হবে। এরপর বড় বড় ইভেন্টগুলো খেলবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আগের মতো অত ওয়ানডে খেলার সুযোগ হয় না। যত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব সবাইকে চেষ্টা করতে হবে কাজে লাগানোর।

সমকাল : অফ দ্য ফিল্ড অধিনায়কত্ব কেমন উপভোগ করছেন?
তামিম : আমি যে কাজগুলো করছি সব সময় এগুলোই করি। আমাকে যারা কাছ থেকে চেনে তারা জানেন। এখন নামের সঙ্গে অধিনায়ক জুড়ে যাওয়ায় অনেকের মনে করতে পারে এই কাজগুলো করছি। আসলে মন থেকে যেটা সায় দেয় সেটাই করি। সব সময় যা করতাম এখনও করছি। 

সমকাল : এই বিশেষ গুণ কি বাবার কাছ থেকে পাওয়া?

তামিম : কোনো সন্দেহ নেই বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। বাবার পর্যায়ে যদি যেতে পারলে আরও ভালো লাগত। আমার বাবা মানুষের জন্য ১০ গুণ বেশি করতেন।

সমকাল : স্যোশাল মিডিয়ায় আপনার লাইভ শোগুলো কতটা উপভোগ করেছেন?

তামিম : আমি কেমন উপভোগ করেছি সেটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষজন কেমন উপভোগ করেছে। এটা করার কারণ ছিল এই কঠিন সময়ে মানুষ অন্তত এক ঘণ্টা বিনোদন দেওয়া। তাদের মুখে হাসি ফোটানো। এর থেকে বেশি কিছু না। আমাদের কথা তো মানুষ পেপার, টেলিভিশনের মাধ্যমে কম বেশি শোনেন। ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে গল্পগুলো কেমন হয় জানত না। সেটাই জানাতে চেষ্টা করেছি। যে ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তাতে মনে হয় যে উদ্দেশ্যে এটা শুরু করা সেখানে সফল হতে পেরেছি।

সমকাল : কোন শো-টা আপনার নিজের ভালো লেগেছে?

তামিম : দুর্জয় ভাই, সুজন ভাই ও সুমন ভাইকে নিয়ে করা শো-টা আমার ভালো লেগেছে। পুরো আলোচনাটা মজার ছিল।

সমকাল : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের ক্রিকেটীয় বার্তাগুলো কাজে লাগার মতো ছিল নিশ্চয়ই?

তামিম : অবশ্যই। যারা দেখেছে তারা কীভাবে নিচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। আমি কোনো শো মনোযোগ দিয়ে দেখলে বা শুনলে ওখান থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করি। কোহলি, রোহিত, ডু প্লেসিস, উইলিয়ামসন ছিলেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন উনারা। মাশরাফি ভাই, মুশফিক, মুমিনুল, লিটনরাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সেখান থেকে কিছু নিতে পারলে উপকৃত হবেন ক্রিকেটাররা।

সমকাল : কভিড-১৯-এর কারণে অন্তর্বর্তী সময়ে ক্রিকেটের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এসেছে। অধিনায়কের জন্য নিয়মগুলো কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তামিম : অধিনায়কের চেয়ে ব্যক্তির ক্ষেত্রে বেশি চ্যালেঞ্জ থাকবে। এত বছর একটা নিয়মে খেলে এসেছি। অভ্যাসগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। হঠাৎ পরিবর্তিত নিয়মে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবে। অভ্যাসবশত কিছু ভুল হতে পারে। প্র্যাকটিস করে অভ্যস্ত হতে হবে।

সমকাল : কভিড-১৯ পরবর্তীতে যেসব দেশে খেলা শুরু হচ্ছে সেগুলো দেখলে আপগ্রেড হতে পারবেন নিশ্চয়?

তামিম : অবশ্যই। ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা ভালোভাবে হলে, সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ থেকে বাড়ি ফিরলে; পুরো পৃথিবীর ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দেবে। সবাই বুঝতে পারবে, সঠিকভাবে নিয়মকানুন মানলে খেলা যায়। তখন খেলোয়াড়রাও অন্যভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

সমকাল : দেশে প্র্যাকটিস শুরুর ব্যাপারে আপনি কী ভাবছেন?

তামিম : বিভিন্ন দেশ প্র্যাকটিস শুরু করেছে তা ঠিক। তারা কিন্তু কভিড-১৯ পরিস্থিতির কঠিন সময়টা পার করে এসেছে। আমাদের দেশের পরিস্থিতি এখনও অনুকূলে আসেনি। সেদিক থেকে চিন্তা করলে আবেগপ্রবণ হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঠিক হবে জানি না। ক্রিকেটারদের কাজ হলো প্র্যাকটিস করা আর খেলা। এই যে তিন মাস আমরা বাসায় বসে আছি সবার জন্য খুব কষ্টকর। বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই আমরা মাঠে ফিরে চাই। কিন্তু সবার আগে তো জীবন। আমি মাঠে গিয়ে আক্রান্ত হলে আমার পরিবার আক্রান্ত হতে পারে। অবশ্যই যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্রিকেট শুরু হওয়া উচিত। তবে সবকিছু মাথায় রেখে। আমি নিশ্চিত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বিসিবি উপযুক্ত সময়ে খেলা শুরু করবে।

সমকাল : মাশরাফির পরবর্তী সময় সাকিব না থাকায় আপানার ওপর চাপটা কি বেশি থাকবে?

তামিম : তিন ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক এবং ২৫ জন ক্রিকেটার আছে। আমার কাছে মনে হয়, দায়িত্ব ২৫ জন ক্রিকেটারেরই। যে কেউ লিডার হতে পারে। সবাই মিলে চেষ্টা করব দলটাকে এগিয়ে নিতে।

সমকাল : তিন অধিনায়কের চর্চা থেকে অনেক দেশ বেরিয়ে এসেছে। বিসিবিকে কি সে পথে হাঁটা উচিত?

তামিম : তিন সংস্করণে এক অধিনায়ক থাকলে সুবিধা আছে। আবার তিন অধিনায়ক থাকারও সুবিধা আছে। বাংলাদেশ তিন সংস্করণে কেমন খেলছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সময়ই বলে দেবে, এক না তিন অধিনায়ক থাকবে। আমি নিশ্চিত ক্রিকেট বোর্ড সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

সমকাল : জাতীয় দলের আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধায় ভারসাম্য আনার প্রস্তাবকে আপনি কীভাবে দেখেন?

তামিম : যত উন্নতি হবে তত ভালো। তবে কোনো কিছু বলার জন্য বলা, আমি তেমন মানুষ না। একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে অনেক কিছু থাকে, যেটা আমি-আপনি জানি না। এর জন্য ক্রিকেট বোর্ড আছে, বোর্ড ভালো বুঝবে।

সমকাল : পঞ্চপাণ্ডবের রিপ্লেস কি জাতীয় দলে আছে?

তামিম : আমি বিশ্বাস করি আছে। লিটন, সৌম্য, মুস্তাফিজ এখন অভিজ্ঞ। চার-পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেছে তারা। তরুণ বলব নাজমুল হোসেন শান্তকে। লিটন ভালো খেলা শুরু করেছে। সৌম্যও ভালো করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট ওদের এত বছর ব্যাক করেছে। এখন ওদের পারফরম্যান্স করার সময়।