শশাঙ্ক মনোহর আইসিসির চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন একদিনও হয়নি, এরই মধ্যে তাকে ঝাঁজালো ভাষায় আক্রমণ করে বসেছেন ভারতীয় বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এন শ্রীনিবাসন। ভারতীয় এই প্রশাসককে ভারতবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শ্রীনিবাসন। তার কারণেই নাকি ক্রিকেটবিশ্বে ভারতের গুরুত্ব কমে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন! শ্রীনিবাসনের এসব কথা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আইসিসিতে প্রাধান্য বাড়াতে আবারও সংস্থাটির নেতৃত্ব কবজা করতে মরিয়া ভারত।

দুই মেয়াদে প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে আইসিসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শশাঙ্ক মনোহর। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি। গত বুধবার সন্ধ্যায় আইসিসি থেকে জানানো হয়, নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহসভাপতি ইমরান খোয়াজা। সিঙ্গাপুরের ক্রিকেট প্রশাসক খোয়াজা আইসিসিতে শশাঙ্ক মনোহরের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে আইসিসির বোর্ডসভায় চেয়ারম্যান প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচনে ১৬টি দেশের মধ্যে ১১টি দেশের ভোট যিনি পাবেন, তিনিই হবেন আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান।

এরই মধ্যে শশাঙ্ক মনোহরের উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কিছু নাম আলোচিত হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলীর নাম জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ডেভিড গাওয়ার, গ্রেইম স্মিথের মতো সাবেক অধিনায়করা সৌরভকে আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। তবে আইসিসির চেয়ারে সৌরভকে দেখা যাওয়াটা নির্ভর করছে কিছু বিষয়ের ওপর। বিসিসিআইয়ে সৌরভের মেয়াদ এই জুলাই পর্যন্ত। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে বিসিসিআই। কোর্ট বিসিসিআইর বর্তমান কমিটির মেয়াদ না বাড়ালে সৌরভের আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সৌরভের চাওয়া বিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা। যদি কোর্ট মেয়াদ বাড়িয়ে দেন তাহলে বিসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুরকে আইসিসির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে দেখা যেতে পারে। অবশ্য এজন্য অনুরাগকে ভারতের অর্থ প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে, এটাও একটা সমস্যা।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির প্রার্থী হওয়াটা প্রায় নিশ্চিত। বর্তমানে তিনি আইসিসির অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির প্রধান। এহসান মানির সঙ্গে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন ইসিবি (ইংলিশ অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড) চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস, ক্রিকেট উইন্ডিজের সাবেক চেয়ারম্যান ডেভ ক্যামেরন এবং নিউজিল্যান্ডের গ্রেগ বার্কলে। তবে আইসিসিতে কিছুটা ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা ভারতীয়রা কী করে, সেটার প্রতিই সবার আগ্রহ।