বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টারবয় এখন জামাল ভূঁইয়া। ডেনমার্ক প্রবাসী এ মিডফিল্ডার নিজের প্রতিভাগুণে জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে। প্রথম প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে ২০১৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া জামাল এখন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি ম্যাচে সাফল্য পেয়েছে লাল-সবুজের দলটি। জামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েই তার মতো আরও কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারের সন্ধানে নামে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলার আলাদা করে নজর কাড়েনি বাফুফের। লিস্টার সিটিতে খেলা হামজা দেওয়ান চৌধুরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল; কিন্তু ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখা এ ফুটবলারকে পাওয়ার আশা দেখছেন না কোচ জেমি ডে। ব্যক্তিগতভাবে আরও অনেক প্রবাসী ফুটবলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের কোচ। নতুন করে দুই বছরের চুক্তি করার পর জামালের মতো আরেকজন ফুটবলারকে খুঁজছেন ব্রিটিশ এ কোচ। বাফুফেতে জমা হওয়া পাঁচ প্রবাসী ফুটবলারের বায়োডাটা দেখেছেন তিনি। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবরও রাখছেন জেমি ডে।

যে পাঁচ প্রবাসী ফুটবলারের নাম জমা পড়েছে ফুটবল ফেডারেশনে, তাদের মধ্যে দু'জন জার্মানিতে এবং তিনজন যুক্তরাজ্যে আছেন। জার্মানির দুই ফুটবলার হলেন গ্যাব্রিয়েল লুইস শামসুল এবং জেসে সামির শামসুল। যুক্তরাজ্যের তিনজন হলেন ইব্রাহিম খান, মিনাজ মিয়া ও মোহাম্মদ সামাদ নূর। পাঁচজনের মধ্যে বয়সে বড় হলেন জার্মানির সামির। তার বয়স ২৯। আর সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার মিনাজের বয়স ১৬।

বাফুফের কাছে নাম আসা পাঁচ প্রবাসী ফুটবলারের মধ্যে যুক্তরাজ্যের তিনজন সম্পর্কে ধারণা আছে জেমির। বাংলাদেশের কোচের বাড়িও যেহেতু ইংল্যান্ডে, তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটাও তার জন্য সহজ। এতদিন চুক্তি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না আসতে পারায় প্রবাসী ফুটবলার খোঁজার কাজটাও শুরু করেননি জেমি। এখন ২৪ মাসের জন্য বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রাখছেন তিনি, 'পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। তিনজনই যুক্তরাজ্যের। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন তো সবই বন্ধ। যে কারণে তাদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। আমি তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। বায়োডাটা পাঠালেই তো সব নয়। জাতীয় দলে খেলতে হলে যে কোনো প্রবাসী ফুটবলারের মধ্যে বিশেষ কিছু থাকতে হবে। আমি যেহেতু আরও দুই বছরের জন্য কোচ হয়েছি, আশা করি জামাল ভূঁইয়ার মতো ফুটবলার খুঁজে বের করতে পারব।'

প্রবাসী ফুটবলারদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলায়, এখনও এসব খোঁজখবর নেয়নি বাফুফে। এসব ফুটবলারকে আগে ঢাকায় এনে ট্রায়াল দেওয়া হবে। তারপর যদি কোনো ফুটবলার আলাদা করে জেমি ডেসহ বাকি কোচদের নজর কাড়েন, তখনই হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সবেমাত্র জেমির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, তার ওপর সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। আগস্ট থেকে শুরু হবে ক্যাম্প। আপাতত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চারটি ম্যাচের দিকে নজর রাখছে ফেডারেশন। এরপরই প্রবাসী এসব ফুটবলারের ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হবে। এটা ঠিক যে, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর জেমির ওপর কিছু শর্তও দিয়েছে বাফুফে। তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসী ফুটবলার খুঁজে বের করে আনা। জামাল ভূঁইয়ার মতো আরও কয়েকজন ফুটবলার খোঁজার ব্যাপারে আন্তরিক জেমি ডেও।