বিশ্বকাপ বাছাইয়ের লম্বা দৌড় শুরু

ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে আজ

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়ানডে ক্রিকেটের পরবর্তী বিশ্বকাপ হবে ২০২৩ সালের শেষদিকে- এখন থেকে আরও তিন বছরেরও বেশি সময় পর। তবে আমেজ শুরু হয়ে যাচ্ছে বলা যায় আজই। করোনা-পরবর্তী ক্রিকেটে আজ সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগ টুর্নামেন্ট। নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ১২টি টেস্ট খেলুড়ে দলের এই টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে ২০২৩ বিশ্বকাপের বাছাইও। করোনার হানা না হলে যা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল মে মাসে বাংলাদেশ দলের আয়ারল্যান্ড সফরের মধ্য দিয়েই। দুই বছর মেয়াদি ওয়ানডে সুপার লিগ টুর্নামেন্টটি আসলে কীভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে, বিশ্বকাপে জায়গা করার প্রক্রিয়া কী, আর পয়েন্ট বণ্টন ব্যবস্থাই বা কেমন- সব প্রশ্নের উত্তর থাকছে এখানে।

ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগ কী এবং কেন?

চার বছর পরপর আইসিসির আয়োজনে বিশ্বকাপ, আর মাঝামাঝি সময়ে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ- দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই হয়ে আসছে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেট। কিন্তু একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ যতক্ষণ চলছে ততক্ষণই যা উত্তেজনা, যারা খেলছে তাদের মধ্যেই যা রোমাঞ্চ; বিশ্বকাপের মতো এক দল অন্য দলগুলোর দিকে তাকানোর দরকার পড়ে না, অন্যদের মধ্যে খুব একটা চাঞ্চল্য থাকে না। ক্রিকেট যেন এভাবে যে খেলছে কেবল তারই অংশ না হয়ে থাকে, উত্তেজনা-রোমাঞ্চ যেন অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে- এ জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার পথে এগিয়েছে আইসিসি। আর তারই অংশ হিসেবে প্রচলন ঘটেছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের। এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ওয়ানডেতে শুরু হচ্ছে সুপার লিগ। এখান থেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপের দল চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তবে দুটি জায়গা ফাঁকা রাখা হবে যেন সুপার লিগ না খেলা দলগুলোও লড়াই করে বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে পারে।

কারা অংশ নিচ্ছে সুপার লিগে?

সুপার লিগের এবারের পর্বে খেলছে ১৩টি দল। এর মধ্যে আছে টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশ- যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ভারত, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। এদের সঙ্গে ১৩তম দল হিসেবে থাকছে ২০১৫-১৭ চক্রে সুপার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নেদারল্যান্ডস। ১৩টি দলের মধ্যে যে দলের পয়েন্ট বেশি থাকবে তারা হবে চ্যাম্পিয়ন। এ ছাড়া পয়েন্ট টেবিলের প্রথম সাত দল ২০২৩ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেলবে। যদি এই সাত দলের মধ্যে ওই বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত থাকে, তাহলে অষ্টম দলেরও একই সুযোগ থাকবে। কারণ স্বাগতিক হিসেবে ভারত এমনিতেই বিশ্বকাপ খেলতে পারবে।

যারা নিচের দিকে থাকবে

ভারতসহ সেরা আটটি দল বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলে নিচের দিকে থাকা পাঁচ দলের কী হবে? তারা সুযোগ পাবে আরও একটি। ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলবে ১০টি দেশ। বাকি দুটি জায়গা পূরণের জন্য হবে আরেকটি বাছাইপর্ব। সেখানে সুপার লিগের নিচের পাঁচ দলের সঙ্গে খেলবে পাঁচটি সহযোগী দেশ। দশ দল থেকে দুই দল কাটবে বিশ্বকাপের টিকিট।

পয়েন্ট ব্যবস্থা কেমন?

খুবই সরল। প্রতিটি জয়ের জন্য দশ পয়েন্ট, হারের জন্য শূন্য। আর টাই হলে, বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে দুই দল পাবে সমান পাঁচটি করে পয়েন্ট।

কে খেলবে কার বিপক্ষে

মোট অংশগ্রহণকারী ১৩ হলেও সবাই সবার বিপক্ষে খেলবে না। একটি দল বাকি ১২ দলের মধ্যে আটটির বিপক্ষে খেলবে। এর মধ্যে চারটি হবে ঘরের মাঠে, অন্য চারটি প্রতিপক্ষের মাঠে।
প্রতিটি সিরিজ হবে তিন ম্যাচের। অর্থাৎ ঘরে-বাইরে আটটি সিরিজে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলবে প্রতিটি দল। একটি দল সর্বোচ্চ ২৪০ পয়েন্ট পর্যন্ত অর্জন করতে পারবে। সব মিলিয়ে সুপার লিগে ম্যাচ হবে মোট ১৫৬টি। অবশ্য এর বাইরেও বোর্ডগুলো আলোচনার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে পারবে।

সুপার লিগে বাংলাদেশের সূচি

অন্য সবার মতো বাংলাদেশও মোট আটটি সিরিজ খেলবে; চারটি দেশে, চারটি বিদেশে।

দেশের মাটিতে খেলা শ্রীলঙ্কা (ডিসেম্বর ২০২০), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (জানুয়ারি, ২০২১), ইংল্যান্ড (অক্টোবর, ২০২১) ও আফগানিস্তানের  (ফেব্রুয়ারি, ২০২২) বিপক্ষে।
বিদেশের মাটিতে খেলা নিউজিল্যান্ড (ফেব্রুয়ারি, ২০২১), জিম্বাবুয়ে (জুন, ২০২১), দক্ষিণ আফ্রিকা (মার্চ, ২০২২) ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এর মধ্যে আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজটি এ বছরের মে মাসে হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে স্থগিত হওয়ার পর পুনঃসূচি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের খেলা নেই ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।