টেস্টের রিপোর্টে হতভম্ব ফুটবলাররা

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২০     আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: ফাইল

ছবি: ফাইল

বিশ্বনাথ ঘোষ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে করা করোনা টেস্টে সবারই রিপোর্ট এসেছিল নেগেটিভ। কভিড-১৯-এর সেই রিপোর্ট ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানেই পাল্টে যায়। বাফুফের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করা পরীক্ষায় দু'দিনে ২৪ জনের মধ্যে ১৮ ফুটবলারের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

এর মধ্যে প্রথম দিন ১২ জনের মধ্যে পজিটিভ হয়েছিলেন চারজন। বাকি আটজনের রিপোর্ট নেগেটিভ ধরে তাদের গাজীপুরের সারাহ রিসোর্টে জাতীয় দলের ক্যাম্পে পাঠায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু দু'দিন পর জানা গেল আট ফুটবলারের মধ্যে সাতজনের করোনা পজিটিভ।

এই জন্য প্রযুক্তি জটিলতাকে সামনে আনে বাফুফে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে নেগেটিভ আর বাফুফে উদ্যোগে করা পরীক্ষায় পজিটিভ; ব্যাপারটি বুঝতেই পারছেন না ফুটবলাররা। নেগেটিভ-পজিটিভ রিপোর্টে হতভম্ব শহিদুল আলম সোহেল-বিপলু আহমেদরা। করোনায় পজিটিভ হওয়া ১৮ ফুটবলার এবং একজন কোচিং স্টাফের আজ আবারও পরীক্ষা করা হবে ঢাকার দুটি হাসপাতালে। ন্যাশনাল টিমস কমিটিও তাকিয়ে আজকের দিকে। প্রথম দু'দিন পজিটিভের খবর এলেও শনিবার তৃতীয় দিনে করা ছয় ফুটবলারের রিপোর্ট নেগেটিভ হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ১৮ জন নেগেটিভ।

চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেস্ট করিয়েছিলেন ঢাকা আবাহনীর গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। একই হাসপাতালে ব্যক্তি উদ্যোগে পরীক্ষা করিয়েছিলেন মামুনুল ইসলামও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করা পরীক্ষায় মামুনুল নেগেটিভ হলেও সোহেলের রিপোর্ট হয়েছে পজিটিভ। রিপোর্টের ভিন্নতা দেখে অবাক এ গোলরক্ষক, 'আমি ৪ তারিখে চট্টগ্রামের সবচেয়ে নামকরা হাসপাতালে টেস্ট করেছিলাম। সেখানে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।

কিন্তু ঢাকায় এসে পেলাম পজিটিভ। নিজেকে নিরাপদে রাখার জন্য সরাসরি ফ্লাইটে ঢাকায় এসেছিলাম। ক্লাবে আসার পর কেউ ছিল না। কারও সংস্পর্শেও যাইনি। আর আমার মধ্যে কোনো উপসর্গও নেই। বুঝতে পারতেছি না, কীভাবে পজিটিভ হলো। সারাহ রিসোর্টে আমি আইসোলেশনে আছি।' অনেক দিন পর যখন সবাইকে একসঙ্গে অনুশীলন করতে নামবে, তখন করোনা ধাক্কায় মনোবল ভেঙে গেছে বলে জানান সোহেল।

নেগেটিভ ধরে যে আটজনকে ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল, তাদের একজন মিডফিল্ডার বিপুল আহমেদ। ৪৮ ঘণ্টা পর যখন জানলেন পজিটিভ হয়েছেন, তখন অবাক বিপলু। সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বাফুফের উদ্যোগে করোনা টেস্টে পজিটিভ হওয়া বিপলু আছেন ধোঁয়াশায়, 'ঢাকায় আসার আগে সিলেটে করোনা পরীক্ষা করেছিলাম। সেখানে রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল। ঢাকায় করার পর যখন আমাদের নেগেটিভ ধরে ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল, তখন মনের মধ্যে থাকা শঙ্কাটা কেটে গিয়েছিল। কিন্তু দু'দিন পর যখন জানলাম পজিটিভ, তখন একটু অবাক হয়েই যায়। আমি এখনও সুস্থ আছি। আমার মধ্যে কোনো উপসর্গ নেই।'

ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন ৩৬ ফুটবলার। এর মধ্যে বসুন্ধরা কিংস তাদের তিন খেলোয়াড়- মাসুক মিয়া জনি, আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মতিন মিয়াকে ছাড়েনি। আর ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া ও ফিনল্যান্ড প্রবাসী কাজী তারিক রায়হান ফ্লাইট জটিলতায় আসতে পারছেন না। তবে এ দু'জন এ মাসের মধ্যেই দেশে ফিরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্যাম্পে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল টিমস কমিটি। ১৯ আগস্ট তারিক এবং ৩১ আগস্ট জামালের দেশে ফেরার কথা।