অন্ধকারে দূর থেকে পড়া আলোও পথ দেখায়। কিন্তু চোখের পাতায় ঠিকরে পড়া আলোর ঝটকা গর্তে ঠেলে দেয়। বার্সেলোনারও হয়েছে তাই। লিগ শিরোপা হারানোয় তাদের সব আলো ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের দিকে। অতি প্রত্যাশা কিংবা প্রমাণের চেষ্টাই কাল হয়েছে তাদের। শুক্রবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ৮-২ গোলের লজ্জায় ডুবেছে বার্সা। বায়ার্ন তাদের আগুনে নির্দয়ভাবে বার্সাকে পুড়িতে ছারখার করে ইউরোপ সেরার লড়াই থেকে বিদায় করে দিয়েছে।

পর্তুগালের লিসবনে দর্শক শূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই রঙ চড়ে যায়। চার মিনিটের মাথায় বার্সার জালে প্রথম বল জড়িয়ে দেন ‘সাইলেন্ট কিলার’ টমাস মুলার। তিন মিনিট পরেই সমতায় ফেরে বার্সা। বায়ার্ন রাইট ব্যাক আলাবার আত্মঘাতী গোল তাদের ম্যাচে ফেরায়। কিন্তু মেসি-সুয়ারেজরা বেশিক্ষণ ম্যাচে টিকে থাকতে পারেননি। এক লেগের এই লড়াইয়ে ম্যাচের ২১-৩১ মিনিটেই টমাস মুলাররা দলের সেমিফাইনালের টিকিট কেটে ফেলেন।

ম্যাচের ২১ মিনিটে গোল করেন ক্রোয়াট তারকা পেরিসিচ। ছয় মিনিট পরে জালে বল জড়ান তরুণ জার্মান সেনসেশন গিনাব্রি। ৩১ মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন মুলার। বার্সাকে ৪-১ গোলে কোনঠাসা করে ফেলেন প্রথমার্ধেই। তবে দ্বিতীয়ার্ধেই ঘুরে দাঁড়ানোর রূপকথার আভাস দেন লুইস সুয়ারেজ। ৫৭ মিনিটের মাথায় গোল ব্যবধান ৪-২ এ নামিয়ে আনেন তিনি। পরের সময়টা শুধুই বায়ার্নের।

বায়ার্ন ডিফেন্ডার জসুয়া কিমিখ ৬৩ মিনিটে দ্বিতীয় ধাপে বার্সার জালে গোল দেওয়া শুরু করেন। দলকে এগিয়ে নেন ৫-২ গোলে। পঞ্চম গোল খেতেই জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েন বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে-জর্ডি আলবারা। ম্যাচের ৮২ থেকে ৮৯ মিনিটে তাই আরও তিন গোল হজম করতে হয় বার্সার। ৮২ মিনিটে দলের হয়ে গোল করেন সবচেয়ে আলোয় থাকা বায়ার্নের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কি। আর ঘরের শত্রু বিভীষিকা হয়ে বার্সার কফিনে শেষ পেরেক দুটি ম্যাচের ৮৫ ও ৮৯ মিনিটে ঠোকেন ফিলিপে কুতিনহো। বদলি নেমে বুঝিয়ে দেন তার ভেতরে কত আগুন!

বায়ার্নের বিপক্ষে বার্সার এই হার শুধু হার নয়, মান খোয়ানো। ঐতিহাসিক হারও বটে। ইউরোপের প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ ১৯৭৫ সালে এক ম্যাচে পাঁচ গোল খেয়েছিল বার্সা। তাও এক ’অখ্যাত’ ক্লাবের বিপক্ষে। বুলগেরিয়ার লেভিস্কি সোফিয়ার কাছে মার্চ মাসে বার্সা হেরেছিল ৫-৪ গোলে। ৪৫ বছর পরে এই প্রথম কাতালানরা চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে হজম করলো পাঁচটির বেশি গোল।

আর আট গোলের হিসাব টানলে ১৯৪৬ সালের পর এই প্রথম! সেবার কোপা দেল রের শেষ ষোলোয় সেভিয়ার বিপক্ষে তারা হেরেছিল ৮-০ গোলে। বার্সেলোনাকে রেকর্ড ব্যবধানে হারিয়ে উড়তে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ আগামী ১৯ আগস্ট সেমিফাইনালে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ও ফ্রান্স ক্লাব লিঁওর বিপক্ষে জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে। অপর সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স ক্লাব পিএসজি এবং জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ।