জাতীয় দল নির্বাচন করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে যেতে হয় নির্বাচকদের। ক্রিকেটারদের চোট, ফর্ম এবং দল সমন্বয় নিয়ে ভাবতে হয় বেশি। এত বছর ধরে এ নিয়ম অনুসরণ করে এসেছে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নির্বাচক প্যানেল। এ প্রক্রিয়া সহজে মানিয়ে নিয়েছিলেন তারা। শ্রীলঙ্কা সফরের দল নির্বাচনে সেখানে নতুন করে যোগ হয়েছে কভিড-১৯।

অপরিহার্য ক্রিকেটারের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়লে তাকে বাদ পড়তে হবে স্কোয়াড থেকে। নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, কভিডের কারণে তারকাদের কেউ বাদ পড়লেও মেনে নিতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য ২০ জনের স্কোয়াড করা হবে। ৩৮ জনের জাতীয় পুল থেকে নির্বাচন করা হবে খেলোয়াড়দের। কভিডের কারণে মূল একাদশের কেউ বাদ পড়লে বিকল্প নেওয়া হবে পুল থেকে।

বাশার বলেন, 'কভিড টেস্টে কেউ পজিটিভ হলে কিছু করার থাকবে না। বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করা হচ্ছে। আমি মনে করি, যত দ্রুত ক্রিকেটারদের হোটেলে নেওয়া সম্ভব হবে, ততই ভালো। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্কোয়াড দিয়ে দেব। এরপরও কভিড টেস্টের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে। প্রথম কভিড টেস্টের পরই পজিটিভ নেগেটিভ জানা যাবে। আশা করি সমস্যা হবে না। স্কোয়াডের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দেরও কভিড টেস্ট করা হতে পারে। যাতে করে প্রয়োজন হলে বিকল্প নেওয়া যায়।'

ক্রিকেটারদের হোম কভিড টেস্ট হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। এর দু'দিন পর হোটেলে উঠবে দল। দ্বিতীয় টেস্ট হবে ২১ সেপ্টেম্বর। দেশ ছাড়ার আগে হবে তৃতীয় টেস্ট।
কভিডের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং ফিটনেসের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে নির্বাচকদের। ১৭ মার্চের পর থেকে খেলার বাইরে ক্রিকেটাররা। ব্যাটে বলের অনুশীলনও ছিল না গত চার মাস। হোম ফিটনেসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রস্তুতি। যদিও একক অনুশীলন করে ফিটনেস অনেকটাই পুনরুদ্ধার করছেন খেলোয়াড়রা।

ইনডোর নেটের পর আউটারেও ব্যাটিং অনুশীলন করছেন তারা। নেটে বল করছেন বোলাররা। বোলারদের নেটে ব্যাটিং করছেন কেউ কেউ। গতকাল মুশফিকুর রহিম আর তামিম ইকবাল ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেন সেন্টার উইকেটে। এরপরও দল নির্বাচনে আগের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করতে হবে নির্বাচকদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফেব্রুয়ারি-মার্চে শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে টাইগাররা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা হয়েছে এক রাউন্ড। সাত মাস বিরতি দিয়ে আবার খেলায় ফিরছে দল।

তবে নির্বাচকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, সিরিজ শুরুর আগে অন্তত তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাবেন তারা। নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে খেলবেন দুটি ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে দল। প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স এবং ফিটনেস দেখে চূড়ান্ত স্কোয়াড গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। জাতীয় দল ম্যানেজমেন্টও খুব কাছ থেকে খেলোয়াড়দের দেখে নিতে পারবে একাদশ সমন্বয় করতে। সেক্ষেত্রে জাতীয় দল সতীর্থদের কাছ থেকে প্রস্তুতি পর্বে ম্যাচের ফোকাসে থাকার পরামর্শ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের, 'আমরা যদি ম্যাচের বোলিং এবং ব্যাটিংটা নেটে করি, ফিটনেস ট্রেনিংয়ে সর্বোচ্চটা দিতে পারি, তাহলে লম্বা বিরতি টেস্ট কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।' খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নেওয়ার গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকেই।