জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অনুশীলন ঘিরে 'বায়োসিকিউর বাবল' গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রিন ও রেড জোনে ভাগ করা হয়েছে পুরো স্টেডিয়াম। ক্রিকেটারদের মতো কভিড টেস্ট করা হয়েছে সাপোর্ট স্টাফদের। ১০ দিন একাডেমি ভবনে আইসোলেশন থাকার পর গ্রিন জোনে প্রবেশের বিশেষ কার্ড পেয়েছেন তারা। টাইগারদের বায়ো বাবলের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন আলী সেকান্দার

গ্রিন জোন

স্টেডিয়ামের ভেতরে ক্রিকেটাররা যে জায়গাগুলো ব্যবহার করেন তাকে গ্রিন জোন বা নিরাপদ এলাকা বলা হচ্ছে। ড্রেসিংরুম ও মাঠে প্রবেশের পথ, করিডোর, শেরেবাংলার সবুজ আউট ফিল্ড, একাডেমি মাঠ, ইনডোর, আউটার নেট, জিম ও গ্রিন জোনের অন্তর্ভুক্ত বলে জানান বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। গ্রিন জোনকে জীবাণুমুক্ত করে বুধবার থেকে ক্রিকেটারদের ফের একক অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিসিবি মেডিকেল বিভাগ থেকে দেওয়া কার্ডধারী সাপোর্ট স্টাফরা শুধু গ্রিন জোনে যেতে পারছেন।

রেড জোন

স্টেডিয়ামের বাকি জায়গাকে রেড জোন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেখানে বহিরাগতরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করতে পারেন। মিডিয়া প্লাজা, বিসিবি কার্যালয়, পার্কিং এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়ে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের তিন ও চার নম্বর গেট এবং ফার্নিচার দোকানের আশপাশের এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তাই গ্রিন জোনের কোনো সদস্য সেখানে যাতায়াত করেন না।

সাপোর্ট স্টাফের কভিড টেস্ট

কাজের প্রয়োজনে ক্রিকেটারদের সংস্পর্শে থাকেন- এমন সাপোর্ট স্টাফদের কভিড টেস্ট করা হয়েছে। ইনডোরের তিনজন কর্মী, ম্যাসাজ ম্যান ও টিম বয় মিলে ছয়জনের কভিড টেস্ট করা হলে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে সবার। মঙ্গলবার চার আর বুধবার দু'জনের কভিড পরীক্ষা হয়। এ ছাড়া ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ ও জাতীয় দলের ম্যানেজার সাব্বির খান, বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম, প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী, চিকিৎসক মনজুর হোসেন, মেডিকেল সহকারী নুরুল ইসলাম, ট্রেনার ও জিম স্টাফের কভিড টেস্ট করা হলে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তারা সবাই ক্রিকেটারদের সংস্পর্শে থাকেন। এ ছাড়া কভিড টেস্টে নেগেটিভ হওয়া বিসিবির ট্রেনাররাও গ্রিন জোনের সদস্য।

একাডেমি ভবনে সাপোর্ট স্টাফদের আইসোলেশন

মাঠকর্মী, ম্যাসাজ ম্যান ও টিম বয়দের ১০ দিন একাডেমি ভবনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। তাদের স্টেডিয়ামের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, জাতীয় দলের আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প শুরুর আগে আরও বেশিসংখ্যক সাপোর্ট স্টাফের কভিড টেস্ট করে আইসোলেশনে রাখা হবে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে সাপোর্ট স্টাফ রাখা হচ্ছে।

ক্রিকেটারদের চলাচলের পরিধি

যাদের জন্য গ্রিন জোন করা হয়েছে, সেই ক্রিকেটাররা অনুশীলন শেষ করে বাসায় ফেরেন। তবে ঝুঁকি এড়াতে ক্রিকেটারদের চলাচল সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মেডিকেল বিভাগ থেকে। এমনকি পরিবারের যেসব সদস্য কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত বাড়ির বাইরে যাতায়াত করেন, তাদের থেকে আলাদা থাকতে বলা হয়েছে। সাইফ হাসানের করোনা পজিটিভ হওয়ায় বাকি ক্রিকেটাররা সতর্ক রয়েছেন বলে জানান দেবাশীষ।