নির্বাচনের প্রার্থী

'১২ বছরে ১২ ইঞ্চিও এগোয়নি ফুটবল'

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

--

মহিউদ্দিন আহমেদ মহি

মহিউদ্দিন আহমেদ মহি

ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় আর ফুটবলার হওয়া হয়ে ওঠেনি মহিউদ্দিন আহমেদ মহির। ফুটবলার না হলেও ফুটবল সংগঠক হয়েছেন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ তিনি। গত মেয়াদে কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সালাউদ্দিনের বিরোধী প্যানেল সমন্বয় পরিষদ থেকে সহসভাপতি পদে নির্বাচন করতে যাওয়া মহি সমকালের সঙ্গে জানালেন ফুটবল নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়

শেষ চার বছরে ফুটবল

গত চার বছর বলব না, ১২ বছরে বাংলাদেশের ফুটবল ১২ ইঞ্চিও এগোয়নি। বাংলাদেশের ফুটবলের র‌্যাংকিং আরও অনেক নিচে নেমে গেছে। বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, ডাবল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এটার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো পাইপলাইন থেকে নতুন ফুটবলার উঠে আসেনি। আর পাইপলাইনে ফুটবল সৃষ্টি হচ্ছে না এ কারণে যে, তৃণমূল পর্যায়ে জেলা লেভেলে কোনো লিগ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোনো উদ্যোগ ছিল না। ৫০ লাখ টাকা খরচ হয় একটা জিম করতে। কিন্তু সেটা করতে পারেনি বাফুফে। সবকিছু মিলিয়ে আসলে একটা অপরিকল্পিত প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এগিয়েছে।

ফুটবল নিয়ে পরিকল্পনা

৩ অক্টোবর নির্বাচনে আমাদের সমন্বয় পরিষদ যদি বিজয় সুনিশ্চিত হয় তাহলে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলকে ছড়িয়ে দেব। বয়সভিত্তিক লেভেল ও একাডেমি স্থাপন করব। একেবারে ছোট থেকে বিভিন্ন বয়সীদের নার্সিং করব, যেটা বিদেশে হয়। আমরা এমন একটা ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়ে যাব, যে প্লাটফর্মের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা না থাকলেও পরে যারাই আসবেন সেটা যেন ধারাবাহিকতা চলে। আমি বলব না একদিনেই এশিয়ান লেভেলে ভালো করতে পারব। অন্তত আমাদের ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারব। মাঠে দর্শক ফেরানোসহ আরও অনেক কাজ করব।

সংগঠকদের খোঁজখবর

নির্বাচন এলে তারা (সালাউদ্দিনের প্যানেল) কিন্তু সংগঠকদের খোঁজখবর নেয়। এরপর আর কোনো খবর থাকে না। এই জায়গাতে আমরা মনে করি প্রকৃত সংগঠক হিসেবে সংগঠকদের প্রতি আমাদের একটা হৃদয়ের টান আছে। আমরা মনে করি, এসব সংগঠকের ভালোবাসা আমরা আগামী ৩ তারিখের নির্বাচনে দেখতে পাব। 

কাউন্সিলরদের কাছে সাড়া

আমরা জেলা-উপজেলা বিভিন্ন লেভেলে গিয়েছি। আমরা দেখেছি সবাই একাট্টা। আমরা যেহেতু তৃণমূলের ফুটবলে নজর দিয়েছি আর আমাদের প্যানেলে তৃণমূলের সংগঠক রয়েছেন। যে কারণে তৃণমূলের সংগঠকরা মনে করেন, আমাদের প্যানেলকে ভোট দিলে দেশের ফুটবল উন্নয়ন হবে। আমরা ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছি। আর তারা (সালাউদ্দিন-সালাম প্যানেল) কিন্তু ডেকে এনে ভোট চাইছে। আমি মনে করেছি ভোটারদের কাছে আমাদের যাওয়া উচিত এবং তাদের কাছে গিয়ে ফুটবল নিয়ে পরিকল্পনা জানাতে হবে। আমরা সব জায়গাতেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।

সভাপতি পদে সমর্থন

সভাপতি পদে আমাদের কোনো প্রার্থী নেই। আর অন্য কাউকে সমর্থন (শফিকুল ইসলাম মানিক) দেওয়া এ রকম কোনো চিন্তা-ভাবনা আমরা এখনও করিনি। আমরা মনে করি, যদি বেশিরভাগ আমাদের প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়, তাহলে একক স্বৈরাচারিত্ব আর থাকবে না।