বাংলাদেশ জাতীয় দলের ডানহাতি স্পিনার নাঈম হাসান হতে পারেন অসাধারণ এক অলরাউন্ডার। তিন ফরম্যাটে দীর্ঘদিন খেলার সুযোগ আছে তার। বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি এমনটাই মনে করছেন। এছাড়া মেহেদি মিরাজেও আছে লম্বা সময় ভালো করার দারুণ সুযোগ। কিউই কোচের মতে, নাঈম-তাইজুল ও মিরাজের স্পিন জুটি হতে পারে বিষাক্ত ত্রিফলা।

ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএনকে তিনি বলেছেন, ‘নাঈম সত্যিই অসাধারণ, মুগ্ধ করার মতো। সে বল স্পিন করাতে পারে, ভেরিয়েশন অসাধারণ, দারুণ টপ স্পিন করতে পারে। ডানহাতি স্পিনে এমনটা আপনি নাথান লায়নেই দেখতে পাবেন। তার উচিত হবে নাথান লায়নে বেশি বেশি চোখ রাখা। লায়ন কিভাবে বল ছাড়ে তা দেখা।’

নিউজিল্যান্ড থেকে দেশটির সাবেক বাঁ-হাতি এই স্পিনার বলেছেন, ‘অন্য স্পিনারদের মতো, নাঈম খুবই পরিশ্রম করে। অলরাউন্ডার হিসেবে তিন ফরম্যাটে তার সামনে লম্বা ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে সে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আমি আশা করছি, সে নিয়মিত দলে সুযোগ পাবে। সে-তাইজুল এবং মেহেদি মিরাজের জুটি ভয়াবহ স্পিন ত্রিফলা হয়ে উঠতে পারে।’

মেহেদি হাসান মিরাজের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা দেখেন ভেট্টরি। তবে টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে মিরাজ যেহেতু নিয়মিত খেলেন, দুই ফরম্যাটের মধ্যে তাকে ভারসাম্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের স্পিন কোচ। তার মতে, বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং দিয়ে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হওয়ার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা আছে মিরাজের মধ্যে।

টেস্টে তাইজুল ইসলাম বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও তাকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাইজুল ইসলাম ঘরের মাঠের মতো বিদেশে অতো সফল নন। ভেট্টরি তাই তাইজুলের বোলিং অ্যাকশনে বদল এনেছেন। নতুন ওই অ্যাকশনে আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাইজুলের এখনও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে তাইজুলকে নিয়ে আশাবাধী ভেট্টরি।

তিনি বলেছেন, ‘তাইজুলের নতুন অ্যাকশনে বল করতে অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হয়নি। বরং তার জন্য অনেক বেশি স্বাভাবিক অ্যাকশন মনে হয়েছে। তাইজুলই এটার ভালো উত্তর দিতে পারবে। তবে আমার মনে হয়েছে, সহজেই মানিতে নিতে পেরেছে তাইজুল। এখন আগের থেকে প্রয়োজন মতো সিম পজিশন বদলাতে পারছে সে। সিমের ব্যবহারের এই ভেরিয়েশন বিদেশের মাটিতে ভালো করতে সহায়তা করবে তাইজুলকে।’

বাংলাদেশে অফস্পিনার অহরহ পাওয়া গেলেও লেগ স্পিনারের বড় অভাব। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ওই জায়গা পূরণ করবেন বলেও আশা করছেন ভেট্টরি, ‘আমিনুল ইসলাম অল্প ক’টা টি-২০ খেলেছে এবং আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেও খুবই পরিশ্রমী। তার বলে ভেরিয়েশন আছে এবং শিখতে মুখিয়ে থাকে সে। লেগ স্পিনে ভালো করতে সময় লাগে, সে আবার ব্যাটিং পজিশন থেকে এসেছে। কিন্তু খারাপ করছে না। একেবারে গুগলি করতে না পারা থেকে সে ভালো গুগলি দেওয়া শিখে ফেলেছে। রাসেল ডমিঙ্গোও লেগ স্পিনারের বড় ভক্ত। তাইজুল, মিরাজ, নাঈমের সঙ্গে বিপ্লব; বাংলাদেশের স্পিনের বড় প্রাপ্তি বলতে হবে।’