বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপের পর পরিবারের কাছ থেকে এক বছরের ছুটি নিয়ে নিতে পারেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা! ২০২১ সালে জাতীয় দলের এত খেলা যে, দেশে হোটেলবাস আর বিদেশ ভ্রমণে চলে যেতে পারে ৩৬৫ দিনের সিংহভাগ। বারো মাসে তেরো পার্বণের মতো আগামী বছরে হবে টাইগারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহাউৎসব। বছরজুড়েই কোনো না কোনো সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে তামিম-মুমিনুলদের।

বছর শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে, শেষ করবে নিউজিল্যান্ড সফরে। শুধু দ্বিপক্ষীয় সিরিজেই ৪৬টি ম্যাচ খেলতে হতে পারে টাইগারদের। এর সঙ্গে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ টি২০ টুর্নামেন্ট যোগ হবে। এককথায় বিশ্রামের ফুরসত নেই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। বিসিবি কর্মকর্তাদেরও ব্যস্ত থাকতে হবে ছয়টি হোম সিরিজ আয়োজনের কাজে। নির্বাচকদের ওপর দিয়েও ধকল যাবে দল নির্বাচন ও বিকল্প ক্রিকেটার প্রস্তুত রাখতে গিয়ে। মোটা দাগে, ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পঞ্জিকার বড় অংশজুড়ে থাকছে বাংলাদেশ।

কভিড-১৯ মহামারি না হলে ২০২০ সালও ব্যস্ততায় কাটাতে হতো বাংলাদেশকে। নয় মাস খেলার ভেতরে না থাকা পুষিয়ে দিচ্ছে পরের বছর। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে অভিযান শুরু হতে পারে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে, তিনটি টি২০ ও তিন টেস্টের সিরিজ এফটিপিতে থাকলেও সেটা সীমিত করা হচ্ছে তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টে। হোম সিরিজ শেষ করে ২৩ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিমান ধরবেন মাহমুদুল্লাহরা। মার্চে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ খেলবেন তারা।

এপ্রিলে বিরতি দিয়ে মে মাসে হোম সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওডিআই লিগের তিনটি ম্যাচ খেলবে দুই দল। জুনে শ্রীলঙ্কায় হবে টি২০ এশিয়া কাপ। এই টুর্নামেন্টের পরই জিম্বাবুয়ে সফরে করবে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে। দুটি টেস্ট, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি২০ খেলবে তারা।

আগস্টে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছে বিসিবি। বিসিবির এ প্রস্তাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া রাজি না হলে দুটি আলাদা সিরিজ হবে দেশে। অ্যারন ফিঞ্চরা তিন ম্যাচ টি২০ খেলবেন মাহমুদুল্লাহদের বিপক্ষে। সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট ও তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজ আয়োজন করবে বিসিবি। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি২০ খেলতে ইংল্যান্ড আসবে ঢাকায়। ইংলিশদের বিপক্ষে হোম সিরিজ শেষ করে ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। দেশে ফিরে নভেম্বর-ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট ও তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি নিতে হবে টাইগারদের।

নাকেমুখে সিরিজটি শেষ করে ডিসেম্বরেই নিউজিল্যান্ডের বিমান ধরতে হবে মুশফিকদের। সফরে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা। তবে ক্রিকেটারদের জন্য স্বস্তির খবর, ২০২১ সালের বেশিরভাগ ম্যাচই সীমিত ওভারের। টেস্ট খেলবে মোট ছয়টি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'এই সিরিজগুলো সূচিতে রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ে খেলা হবে।'

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক বছরে এত বেশি ক্রিকেট খেলার রেকর্ড নেই। এসিসি ও আইসিসি টুর্নামেন্ট মিলে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০টি ম্যাচ খেলতে হতে পারে টাইগারদের। এই একটি বছর ভালোয় ভালোয় পার করে দিতে পারলে পরের দুই বছর বেশি খেলা নেই। টি২০'র এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের পাশাপাশি ওডিআই লিগের খেলা বেশি। কারণ ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল নির্বাচিত হবে ওডিআই সুপার লিগ থেকে। অতএব আগামী বছরের জন্য এখন থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে ভালো করবেন ক্রিকেটাররা।