ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ডাচদের প্রোটিয়া সেনানী

ডাচদের প্রোটিয়া সেনানী

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডাচদের উইকেট উদযাপন। ছবি: এএফপি

তরিকুল ইসলাম রাজন

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৬:৫০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৬:৫০

দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেলেই কেন জানি জ্বলে ওঠে নেদারল্যান্ডস। অ্যাডিলেডে গত বছর টি২০ বিশ্বকাপেও প্রোটিয়াদের হারিয়ে রূপকথা লিখেছিলেন ডাচরা। সংস্করণ বদলে ধর্মশালায় মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। তবু গল্প বদলাল না, নয়নাভিরাম ধর্মশালায় প্রোটিয়াদের উড়িয়ে স্মরণীয় জয় পেয়েছে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশটি।

নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ে রোমাঞ্চিত কমলা জার্সির দলটি। তবে প্রোটিয়াদের এমন হারে আলোচনায় আসছে তিন দক্ষিণ আফ্রিকানের নাম। যারা নিজেদের জন্মভূমিকে হারিয়ে লিখেছেন ডাচ রূপকথা। তারা হলেন কলিন অ্যাকারম্যান, রুফল ভ্যান ডার মারউই ও সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট।

এ তিনজন বাদেও নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন দুই দক্ষিণ আফ্রিকান– রায়ান ক্লেইন ও ওয়েসলি বারেসি; যারা মঙ্গলবার একাদশে ছিলেন না।

কলিন অ্যাকারম্যানের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম কেপ প্রদেশের জর্জ শহরে। দেশটির হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলেছেন। একসময় মনে হয়েছিল, দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে ডাক পাবেন অ্যাকারম্যান। তবে সুযোগ না পেয়ে কোলপ্যাক চুক্তি করে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখান থেকে টি২০ দিয়ে নেদারল্যান্ডসের জার্সিতে অভিষেক হয় ২০১৯ সালে।

এরপর ১০ ওয়ানডে ও ২২ টি২০ খেলেছেন ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১২ রানের পাশাপাশি বল হাতেও ১ উইকেট নিয়েছেন। মঙ্গলবার ধর্মশালায় ব্যাট হাতে বিপর্যয়ের সময় ১৯ বলে ২৯ রান করে রুখে দাঁড়ানো।

এর পর বাঁহাতি স্পিনে ২ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়া-বধের অন্যতম নায়ক রুফল ভ্যান ডার মারউইর জন্ম ও বেড়ে ওঠা জোহানেসবার্গে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলেছেন তিনি। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে অভিষেক হয় বাঁহাতি এই স্পিনারের। প্রোটিয়াদের হয়ে ১৩টি করে ওয়ানডে ও টি২০ খেলেছেন তিনি। ২০১৫ সালে ডাচ পাসপোর্ট পেয়ে ওই বছরেই টি২০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস স্কোয়াডে জায়গা করে নেন মারউই। কমলা জার্সির দলটির হয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই স্পিনার খেলেছেন ৬টি ওয়ানডে ও ৩৯টি টি২০।

সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্ম নেওয়া ডাচদের আরেক অলরাউন্ডার। ২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের হয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলে জায়গা না পেয়ে একসময় পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে। গত আগস্টে আইসিসির অনুমতির সুবাদে ডাচদের জার্সিতে বিশ্বকাপ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে তাঁর।

মঙ্গলবারের একাদশে না থাকলেও ডাচদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ডানহাতি পেসার রায়ান ক্লেইন জন্মেছেন কেপটাউনে। ক্রিকেট খেলাটা দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু করলেও ডাচদের হয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় অভিষেক হয় তাঁর। ২০১০ সালে ডাচদের হয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয় আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান ওয়েসলি বারেসির। ২০১১ বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ডাচদের সম্পর্ক বের করতে খুঁজতে হবে ইতিহাস, যার শুরুটা হয়েছিল সপ্তদশ শতাব্দীতে। তখন ব্যবসা এবং আর্থিক কারণে ডাচরা বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত। ওই সময়ে ডাচদের একটি দল দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অঞ্চলে এসে বসতি গড়ে। এক পর্যায়ে তারা খামার ও খাদ্য উৎপাদন শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এ অঞ্চলে একটি আলাদা জনবসতি গড়ে ওঠে, যা ‘ডাচ কেপ কলোনি’ নামে পরিচিত। পরে ফরাসি, জার্মান ও ইংরেজি সমাজের ব্যক্তিবর্গ এসে এই অঞ্চলে বসতি গড়ে। 

এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় মিশ্র বর্ণ ও সংস্কৃতির লোক প্রতিষ্ঠিত হয়, যাদের ডাকা হয় আফ্রিকানার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলেও তাই খেলে গেছেন আফ্রিকানার্স বংশোদ্ভূত অনেকেই। এবারের প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ দলে আছেন এমন তিন আফ্রিকানার্স। তারা হলেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, হেইনরিখ ক্লাসেন ও জেরাল্ড কোটজে।

আরও পড়ুন

×