ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নেদারল্যান্ডসের কাছেও হার

নেদারল্যান্ডসের কাছেও হার

১৪ বলে ৫ রান করে মিকরেনের বলে খোঁচা দিয়ে আউট হয়ে সাজঘরের পথে সাকিব আল হাসান -ক্রিকইনফো

কলকাতা থেকে, সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৩ | ০৬:৫২

নিক্তি দিয়ে আত্মবিশ্বাস পরিমাপ করা না গেলেও অনুধাবন করা যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস কোথায় রয়েছে বিশ্বকাপের ছয় ম্যাচ দেখে ফেলার পর নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পেরেছেন? যেখানে অতলান্তে ডুবুরি পৌঁছাতে পারে, সেখানে। তাই তো নেদারল্যান্ডসও প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের জন্য। বড় দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে না। পরাজয় দেখে সমর্থকদের হাবুডুবু খেতে হচ্ছে হতাশার নৈরাজ্যে। ধর্মশালা থেকে কলকাতা– টানা পাঁচ ম্যাচ হারার ব্যর্থতার গল্প। গতকাল দেখা হলো বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ। বিশ্বকাপ সুপার লিগের তিন নম্বর দল গতকাল ইডেন গার্ডেনে ৮৭ রানে হেরে গেল নেদারল্যান্ডসের কাছে। ২২৯ রানে ডাচদের আটকে দিয়ে সাকিবরা নিজেরা গুটিয়ে গেল ১৪২ রানে!

বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিশাল ব্যবধানে হেরে মুম্বাই থেকে ভালো খেলার স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেটাররা এসেছিলেন কলকাতায়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় দিয়ে ছন্দে ফেরার মন্ত্র জপছিলেন তারা। অথচ ডাচদের কাছেও চুরি গেল স্বপ্নে দেখা জয়। বিশ্বকাপের ভেন্যু থেকে দেশে ফিরে বিতর্ক ছড়ানো সাকিব আল হাসানের ব্যাট হাসেনি। তবে কী ছোটবেলার মেন্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিমের দেখিয়ে দেওয়া কৌশলে জাদুমন্ত্র ছিল না। আফসোস দাম দিয়ে বিতর্ক কিনেও রানে ফিরতে পারেননি সাকিব। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিমরা কোথায় হারালেন? অথচ বিশ্বকাপের শান্ত ছিলেন উড়ন্ত বলাকা। কী সুন্দর ব্যাটিং করতে দেখা গেছে তাঁকে। ব্যাটিং অর্ডার হারিয়েও লজ্জায় ডুবে যাননি মুশফিক। বরং রানের মণিমুক্তা ফলিয়েছেন নতুন জায়গায়। ক্ল্যাসিক ব্যাটসম্যান লিটনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও প্রতিভা নিয়ে কথা ওঠেনি। এভাবে চলতে থাকলে লিটনের প্রতিভা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে একদিন।

কলকাতার বিশ্বকাপ শুরু হলো গতকালই। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ থেকে শত শত মানুষ পাড়ি জমিয়েছিলেন কলকাতায়। কে জানত আনন্দ নগরীতে নিরানন্দের চাষ করবেন সাকিবরা। সাত উইকেট পড়ে যাওয়ার পরই একটু একটু করে গ্যালারি খালি হতে থাকে। শেখ মেহেদীর রানআউটের মধ্য দিয়ে ফলাফলের ঘরে পরাজয় ছবি আঁকা হতে থাকে বাংলাদেশের নামের পাশে। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশ দল তো ২৩০ রান তাড়া করে অভ্যস্ত। দেশ-বিদেশ যেখানেই খেলা হোক আড়াইশর নিচে রান তাড়া করতে পারেন সাকিবরা। নিউজিল্যান্ডকে ২২৯ রানে বেঁধে ফেলে বোলাররা ভালো সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কে জানত আট ব্যাটার নিয়ে খেলেও ২৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারবে না। ইডেনের সতেজ উইকেটে পেসার ও স্পিনার– সবার বোলিং ভালো ছিল। শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান দুই উইকেট করে নেন। তিন পেসার ২৯ ওভার শেষ করেন। বাকি ২১ ওভার করেন তিন স্পিনার। সাকিব, শেখ মেহেদী ভালো বোলিং করেন। এরপর নেদারল্যান্ডসের ব্যাটাররা চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তোলেন। ওয়েসলি ব্যারেসলি ৪১, স্কট এডওয়ার্ড ৬৮ ও সেবর‍্যান্ড ৩৫ রান করে দলের পুঁজি দেন। সেই একই কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খাবি খেলেন।

ওপেনিং জুটি দেখে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেস ইউনিটকে মোকাবেলা করছে। ১১ বলে ৩ রান করা লিটন দ্বাদশ বলে আউট হন রিভার্স সুইপ শটে। তানজিদ হাসান তামিম দেখাতে পারলেন না প্রতিভা। মেহেদী হাসান মিরাজ কষ্টেসৃষ্টে ৩৫ রান করতে পারলেও এলো গেল! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মাহমুদউল্লাহ হারিয়ে গেলেন পরের ম্যাচেই। পঞ্চপাণ্ডবের তিন সদস্যের বিদায়ী বিশ্বকাপ হয়ে থাকল বির্সজনের। ম্যাচের শেষ দিকে এসে মোহাম্মদ আশরাফুল আক্ষেপ প্রকাশ করলেন, ‘ডাচরা কি সুন্দর টার্ন করাল। অথচ দেখেন আমরা কিছুই করতে পারলাম না।’ প্রতিদিন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে ব্যাখ্যা দেন ক্রিকেটাররা। পরের ম্যাচ ঘুরে দাঁড়াবেন। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখান। এই কলকাতাতেও তাসকিন আহমেদ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, টানা চার ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখেন তারা। কিন্তু বিশ্বকাপে লেখা হলো স্বপ্নভঙ্গের গল্প।

আরও পড়ুন

×