ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চায়ের দেশে নতুন বেশে শান্তরা

চায়ের দেশে  নতুন বেশে শান্তরা

সিলেটে অনুশীলনে বাংলাদেশ দল। ছবি: বিসিবি

 জহির উদ্দিন মিশু, সিলেট থেকে

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ০০:৪৫

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ এত বাজেভাবে শেষ করবে বাংলাদেশ; বোধ হয় কেউ ভাবেননি। কত পরীক্ষা, কত বিচার ও কত সমীকরণ মিলিয়ে বিশ্বকাপের বহর করেছিল বিসিবি। কিন্তু তার ধারেকাছেও যেতে পারেননি টাইগাররা। সেই দুঃসহ স্মৃতির রেশ কাটতে না কাটতে ঘরের মাঠে ভিন্ন এক ফরম্যাটের লড়াই।

যেখানে প্রতিপক্ষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সাবেক মুকুটজয়ী নিউজিল্যান্ড, যারা কিনা বিশ্বকাপ শেষ করে সোজা বাংলাদেশের বিমান ধরেছিল। 

দু-একজন বাদে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই তারা বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা দলটাও নেই। সাকিব, তাসকিন, লিটনদের ছাড়া নতুন এক স্কোয়াডকে ঘিরে স্বপ্ন বুনেছে স্বাগতিকরা; অন্তত বিশ্বকাপের তিক্ততা যদি কিছুটা হলেও কমানো যায়। সেই আশা দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত থেকে শুরু করে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেরও। এক দিন আগেও এই লঙ্কান বস দলটিকে নতুন বাংলাদেশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাই চায়ের দেশ সিলেট থেকেই এই নতুনের কেতন দেখার অপেক্ষা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই টেস্টের প্রথমটি শুরু আজ থেকে। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে কিউইদের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা চলে না। কিন্তু ম্যাচটা যখন ঘরের মাঠ, তখন তো স্বপ্ন দেখাই যায়। তাও আবার সিলেটে, যেখানে ঘূর্ণির ঘূর্ণনে যে কোনো ব্যাটার হন কাবু। বাংলাদেশও চাইছে সেই কৌশলে এগোতে। যদিও শুরুতে একটা সবুজ উইকেটের চমক দেখেছিল কিউইরা। যেটা দেখে নিউজিল্যান্ড খেলোয়াড় ফিলিপসও অবাক হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবুজ উইকেট যে দেখা মিলছে না। ঘুরেফিরে স্পিন জালই তৈরি হচ্ছে, সেটা কিছুটা অনুমান করতে পেরেছেন গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসা টিম সাউদিও। উইকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের এই অভিজ্ঞ পেসার বলেন, ‘এই কন্ডিশনে খেলাটা মোটেও সহজ হবে না। উইকেট ব্যাটারদের জন্য কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে।’

তবে হোম ভেন্যুর সুবিধা বাংলাদেশও চাইবে আদায় করে নিতে। সেটা বলে হোক বা ব্যাটে। তা ছাড়া শান্তদের তো হারানোরও কিছু নেই। কারণ, টেস্টে তাদের সামনে নিউজিল্যান্ড একরকম দানবই। যাদের টেস্ট গৌরব বহু পুরোনো। তাদের চাপটা থাকবে বেশি। কারণ এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে দু’দলই। যেখানে বাংলাদেশ জিততে চাইবে মনেপ্রাণে কিন্তু নিউজিল্যান্ড চাইবে তার চেয়েও বেশি। কারণ তাদের চোখটা টেস্টে আবারও রাজা বনে যাওয়া।

যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের অতীত সুখকর। এখন পর্যন্ত ৯টি সিরিজ খেলেছে তারা। যার সাতটিতেই জিতেছে। বাংলাদেশ কেবল দুই টেস্ট ড্র করে। আর বাংলাদেশ সফরে এসেও টেস্টে দাপট দেখানোর ইতিহাস রয়েছে তাদের। যদিও সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলতে এসে সুবিধা করতে পারেনি কিউইরা। বাংলাদেশ চাইলে সেই সুখস্মৃতিও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে নিতে পারে।

তবে ধারেভারে বাংলাদেশ যে অনেকখানি পিছিয়ে, সেটা বলতেই হয়। এই ম্যাচে তার কয়েকটি উদাহরণ দিতেই হয়। যে দলে কেন উইলিয়ামসনের মতো তারকা আছেন, তাদের রানের জন্য কি ভাবতে হয়। যে দলে মিচেল স্যান্টনারের মতো সুদক্ষ স্পিনার আছেন, তাদের তো উইকেট স্পিন নাকি পেসসহায়ক হলো, সেটা নিয়েও চিন্তা করার কথা না। যদিও তাদের টেনশন দিচ্ছে আগের রেকর্ডগুলো। যে সিলেটে তাইজুল ইসলামের কাছে পরাভূত হয়েছিল অনেক তারকা ব্যাটারই। আজকের ম্যাচেও তাইজুল থাকবেন। এখন দেখার অপেক্ষা তাঁর ঘূর্ণিতে কতটা পরাস্ত হন কিউই ব্যাটাররা। শুধু তাইজুল নন, তাঁর সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের পানেও চেয়ে থাকবেন লাক্কাতুরার দর্শকরা। কারণ সাকিব আল হাসান নেই। যে দায়িত্ব এতদিন তিনি পালন করেছিলেন, এবার সেটা তাইজুল-মিরাজের কাঁধে।

আরও পড়ুন

×