গোলের বদলা গোল; আক্রমণের জবাব আক্রমণে। ৫০ সেকেন্ডেই গোল; ৪৫ মিনিটের মধ্যে চার গোল। বাকি ৪৫ মিনিটে হয়নি কোনো গোল। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও সমতা। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দল নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানেও নাটকীয়তা। প্রথম পাঁচ শটে ৪-৪ গোলে সমতা। সাডেন ডেথেও নাটকীয়তা। দু'দলই প্রথম দুই শটে করে গোল। তৃতীয় শটে মোহামেডানের আতিকুজ্জামান পোস্টের বাইরে বল মারেন। আর সাইফের সিরাজউদ্দিন পরাভূত করেন পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক আহসান হাবিব বিপুকে। তাতেই সমাপ্তি হয় রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে। যেখানে টাইব্রেকারে সাডেন ডেথে ৭-৬ গোলে মোহামেডানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে সাইফ। উপভোগ্য ফুটবল বলতে যা বোঝায়, তার সবই দেখা গেছে গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

৫০ সেকেন্ডেই গোল

সেন্টার হওয়ার পরই মাত্র ১০ সেকেন্ডে আক্রমণ শানায় মোহামেডান। বক্সের বাইরে থেকে ফরহাত মনার শট চলে যাচ্ছিল গোলপোস্টের দিকে। দৌড়ে এসে কর্নারের বিনিময়ে তা ফেরান রহমত মিয়া। সেই কর্নার থেকে ৫০ সেকেন্ডে গোল পায় মোহামেডান। হাবিবুর রহমান সোহাগের উড়ন্ত কর্নারে বরুকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুনজির কুলাদিয়াতির মাথা ছুঁয়ে যাওয়া বলে হেডের মাধ্যমে গোল করেন মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান। ফেডারেশন কাপের এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির গোল এটি।

১১ মিনিটে তিন গোল

ম্যাচের শুরু থেকেই গতির লড়াই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচের ১১ মিনিটেই হয়েছে তিন গোল। প্রথম মিনিটে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব গোল করার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব সমতা আনে ৭ মিনিটে। শাহেদুল আলম শাহেদের কর্নারে দৌড়ে এসে ডান পায়ের শটে গোল করেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এমানুয়েল আরিওচুকা। ঘুরে দাঁড়ানো সাইফ এগিয়ে যায় ১১ মিনিটে। এই গোলের জন্য সম্পূর্ণ দায় মোহামেডানের তিন ডিফেন্ডার মুনজির, আতিকুজ্জামান এবং হাবিবুর রহমান সোহাগের। সাইফের এক খেলোয়াড়ের উড়ন্ত দুর্বল শট এই ত্রয়ীর মাঝখান দিয়ে মোহামেডানের বক্সের মধ্যে ঢুকে যায়। দৌড়ে এগিয়ে ডান পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ইকেচুকো এনগোকে।

 মোহামেডানের দিয়াবাতের জাদু

লিড নিয়েও তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তু হাল ছাড়েনি তারা। তারুণ্যনির্ভর দল নিয়েও সাইফের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে সাদা-কালো জার্সিধারীরা। সবুজ গালিচায় দুর্দান্ত ফুটবল খেলা মোহামেডানকে ম্যাচে ফেরান মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে দারুণ এক প্রতিআক্রমণ থেকে গোল করে মোহামেডানকে সমতায় ফেরান তিনি। সজীবের ছোট পাসে বল নিয়ে দিয়াবাতে ঢুকে পড়েন। তিনি সাইফের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল দেন জাফর ইকবালকে। তার নেওয়া শট সাইফ গোলরক্ষকের পায়ে লেগে চলে যায়। কর্নার পায় মোহামেডান। কর্নার থেকে গোল পরিশোধ করে সাদা-কালো জার্সিধারীরা। শাহেদ মিয়ার কর্নারে লাফিয়ে উঠে দিয়াবাতের হেড সাইফের জাল কাঁপায়।

গোলরক্ষক বিপুর বীরত্ব

ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। পুরো ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে থাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক আহসান হাবিব বিপু নব্বই মিনিটে অসাধারণ এক সেভ করে মোহামেডানকে ম্যাচে রাখেন। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে ঢুকে পড়েন সাইফের জন ওকোলি। তার সামনে শুধুই ছিলেন মোহামেডান গোলরক্ষক। দৌড়ে এসে ওকোলির শট ফেরান তিনি। তার এই সেভেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মিনিটে একইভাবে ওকোলির শট ঠেকিয়ে বীরত্ব দেখান মোহামেডান এই গোলরক্ষক।

টাইব্রেকার রোমাঞ্চ

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। ১২০ মিনিটের মতো পেনাল্টি শুটআউটটিও ছিল রোমাঞ্চকর। টাইব্রেকারে মোহামেডানের হয়ে দিয়াবাতে ও সাইফের এনগোকে প্রথম শটে গোল করেন। মোহামেডানের সজীবের নেওয়া দ্বিতীয় শটটি ঠেকিয়ে দেন সাইফ গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেন। গোল করে সাইফকে এগিয়ে নেন শাহেদ। বাকি তিন শটে মোহামেডানের উরু নাগাতা, সোহাগ ও মিঠুন গোল করেন। কিন্তু সাইফের হয়ে ইয়াসিন আরাফাত মিস করলে সাডেন ডেথে গড়ায় টাইব্রেকারে। ৪-৪-এ সমতা এই পাঁচ শটে সাইফের হয়ে গোল করেন ওকোলি ও এমানুয়েল। সাডেন ডেথেও হয়েছে তিনটি শট। সেখানে মোহামেডানের মুনজির, বাপ্পি গোল করলেও পারেননি আতিকুজ্জামান। আর সাইফের হয়ে রহিম, রহমত ও সিরাজউদ্দিন গোল করেন। ৭-৬ গোলে জিতে প্রথমবার সেমিফাইনালে ওঠে সাইফ স্পোর্টিং।