তারুণ্যের জয়গান সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। আক্রমণের পসরা সাজিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীকে এলোমেলো করে দিয়ে প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠেছে পল পুটের দল। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা মঞ্চে রহমত মিয়া-রিয়াদুল হাসান রাফিরা। তবে ইতিহাস গড়ার ম্যাচটি বিষাদে রূপ নিয়েছে সাইফ স্পোর্টিংয়ের। দলের মিডফিল্ডার আল আমিনের পা ভেঙে যাওয়ায় ফাইনালে যাওয়ার উৎসব করতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত আজ বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিতে জয়ী দলের বিপক্ষে ১০ জানুয়ারি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলবে সাইফ।
কোয়ার্টার ফাইনালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর টাইব্রেকার রোমাঞ্চে জিতে সেমিতে ওঠা সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ, কোয়ার্টার এবং সেমিফাইনাল মিলে মোট পাঁচ ম্যাচ খেলেছে পল পুটের দল। টানা ম্যাচ খেলার মধ্যে থাকায় ক্লান্তির একটা ভাব চলে আসার কথা। কিন্তু সাইফের এই দলটিতে যে আছে একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড়। জাতীয় দলের তিন ফুটবলারের সঙ্গে চার বিদেশি মিলে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব বুধবার ছিল দুর্দান্ত। একে অপরের মধ্যে বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। পল পুটের তারুণ্যনির্ভর এই দলটিকে থামাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলোয়াড়দের। বিশেষ করে সাইফের তিন নাইজেরিয়ান জন ওকোলি, এমানুয়েল ও কেনেথর মাধ্যমেই আক্রমণগুলো শানায় সাইফ। শুরুতেই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। ৮ মিনিটে ফ্রি কিক পায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কেনেথ এনগোকে বক্সের সামান্য বাইরে ফেলে দেন চট্টগ্রাম আবাহনীর উজবেকিস্তান ডিফেন্ডার পুলাতোভ শুকুর আলী। সেই ফ্রি কিক থেকেই আসে সাইফের গোল। সিরোজউদ্দিনের ফ্রি কিক চট্টগ্রামের আবাহনীর চার্লস দিদিয়েরের গায়ে লেগে সামনে চলে আসে। বল পেয়ে যান সামনে থাকা এমানুয়েল। দুরূহ কোণ থেকে বাঁ পায়ের ভলিতে গোল করেন নাইজেরিয়ান এ ফরোয়ার্ড।
বিরতির পরও ছিল সাইফের আধিপত্য। শুরুতে গোল হজম করা চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণগুলোতে পরিকল্পনার অভাব ছিল। তাদের সামনে আক্রমণে ওঠার যে কৌশল নেন পল পুট, তা কাজে লাগে ম্যাচের ৭২ মিনিটে। বক্সের ভেতরে ঢুকে চট্টগ্রাম আবাহনীর তিন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে পাস দেন আরিফুর রহমান। বল পেয়ে যান কেনেথ। প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতে না পারলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তার নেওয়া শট চলে যায় চট্টগ্রাম আবাহনীর জালে। ফেডারেশন কাপের এবারের আসরে পাঁচ গোল করা কেনেথ সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া চট্টগ্রাম আবাহনীর ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রায় শেষ হয়ে যায় ৭৬ মিনিটে অধিনায়ক দিদিয়ের লাল কার্ড দেখলে। সাইফের আল আমিনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। মারাত্মক ট্যাকেল পা ভেঙে যাওয়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া সাইফের এ মিডফিল্ডারকে পরে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া চট্টগ্রাম আবাহনীর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সাইফের ইয়াসিন আরাফাত। ৯০ মিনিটে সতীর্থের থ্রু পাস ধরে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া ইয়াসিন আরাফাত দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান।