ওয়েন রুনি অনেকের চোখে অনেকভাবে লেগে আছেন। কারো কাছে তিনি ১৬ বছরের তরুণ। ২০০২ সালে যিনি আর্সেনালের বিপক্ষে ৩০ গজের বৃত্ত থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে লেগে আছেন অনেকের চোখে। কারো কাছে তিনি ২০০৪ ইউরোর বিস্ময় বালক। কেউ তাকে মনে রেখেছে দুর্দান্ত ওভারহেড গোলের কারণে। সামগ্রিক ক্যারিয়ারের বিচারে যিনি ইংলিশ ফুটবলের কিংবদন্তির তকমা পেয়েছেন।

সেই ইংলিশ ফুটবলার ওয়েন রুনির নামের পাশে বসে গেছে সাবেক শব্দটি। শুক্রবার বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শ্যুট-বুট পরে ডাগ আউটে দাঁড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। ফুটবলকে বিদায় বলেই ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের দল কাউন্টি ডার্বির কোচ হয়েছেন। চলতি মৌসুমে ওই ক্লাবের হয়েই খেলছিলেন তিনি।

রুনি ক্লাব ক্যারিয়ারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন ৭৬৩ ম্যাচ। গোল সংখ্যা ৩১৩টি। আর ইংল্যান্ডের হয়ে ১২০ ম্যাচে করেছেন ৫৩ গোল। দীর্ঘ ১৯ বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলেই থামলেন এই স্ট্রাইকার। তবে ক্যারিয়ারের সেরা এবং সবচেয়ে বেশি সময় তিনি কাটিয়েছেন রেড ডেভিলস খ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন স্বর্ণ যুগের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনিই।

তাকে বর্তমান প্রজন্মের সেরা ইংলিশ ফুটবলার বলা হয়। তুলনা করা হয় স্যার ববি কার্লটনের সঙ্গে। তবে অনেকে মনে করেন, প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ববি কার্লটনের চেয়ে অনেকে এগিয়ে রাখবেন রুনিকে। ম্যানইউতে তিনি খেলেছেন ১৩ মৌসুম। এর মধ্যে পাঁচটি লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। একটি চ্যাম্পিয়নস লিগের সঙ্গে জিতেছেন তিনটি লিগ কাপ। দুর্দান্ত ক্যারিয়ার পার করা রুনির জন্য তাই 'স্যার' উপাধি পাওয়া সময়ের অপেক্ষা।

দুর্দান্ত ফুটবল ক্যারিয়ার পার করা রুনিকে অবশ্য সতর্ক করেছেন গুরু স্যার আলেক্স ফার্গুসন। শুভ কামনা জানিয়েছেন কোচিং ক্যারিয়ারের জন্য। তবে জানিয়ে রেখেছেন, কোচিং ক্যারিয়ার কিন্তু ফল নির্ভর একটা ব্যবসা মাত্র। ভালো করতে না পারলে তাই ক্যারিয়ারের ঠিক উল্টো রথে ছুটতে হবে। বুট তুলে রেখেই ডাগ আউটে নেমে পড়া রুনি পরিষ্কারভাবেই নিশ্চয় জানেন তা।