ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দরে সামাজিক দূরত্বের বলয় তৈরি করা হয়েছিল ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কথা ভেবে। তাই টার্মিনালে পৌঁছাতে বায়োসিকিউর বাবলের বাইরের কারও সঙ্গে দেখা হয়নি খেলোয়াড়দের। চট্টগ্রামে হোটেলে পৌঁছে রুমের চাবির জন্য যেতে হয়নি রিসিপশনে। নিয়মের বৃত্তে থেকে বিশেষ ফ্লাইটে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও উইন্ডিজ দল। এই ভেন্যুতেই কাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে তারা।

টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হলেও উইন্ডিজকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের। শেষ ম্যাচের একাদশে খুব বেশি পরিবর্তনের পক্ষে নন তিনি। বোর্ড সভাপতির ইচ্ছার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশলেও। বড়জোর দুই থেকে তিনটি পরিবর্তন আনা হতে পারে। মেহেদী মিরাজের জায়গায় খেলাতে পারে শেখ মেহেদীকে। পেসার হাসান মাহমুদের জায়গায় দেখা যেতে পারে তাসকিন আহমেদকে। ফিট থাকলে সুযোগ মিলতে পারে সাইফউদ্দিনেরও।

ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য সেরা দল বেছে নিতে হোম সিরিজে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা বাকি রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। বিশেষ করে বিকল্প স্পিনার এবং পেসারদের দেখে নেওয়া। সিরিজ জিতে যাওয়া রিজার্ভ বেঞ্চের সামর্থ্য দেখে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। সেটা সীমিত পরিসরে হলে বিসিবি সভাপতিরও আপত্তি নেই। গতকাল ঢাকার একটি মাঠ উদ্বোধনের পর মিডিয়াকে তিনি বলেন, 'একাদশে পরিবর্তন আসতেই পারে। কিন্তু এমন কোনো পরিবর্তন করতে চাই না, যাতে উইন্ডিজকে খাটো করে দেখা হয়।' শুধু প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখানোর জন্য এটা বলেননি পাপন। বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট অর্জনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি, 'এটা ওডিআই সুপার লিগের খেলা। দুটি ম্যাচ জিতে ২০টি পয়েন্ট পেয়েছি আমরা। তাই প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলতে গেলে যাতে অসুবিধা না হয়, এ জন্য প্রতিটি খেলা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিতে হচ্ছে।'

পাপনের এই ভাবনার পেছনে কারণও রয়েছে। অ্যাওয়ে সিরিজে টাইগারদের সাফল্য কম। হোম সিরিজ থেকে পয়েন্ট অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি, 'সব শক্তিশালী দেশের সঙ্গেই বাইরে খেলা। আমরা সাধারণত ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছি দেশে। বিদেশে গিয়ে দু-একটি ম্যাচ জিতেছি। সিরিজ জিতেছি মাত্র দুটি। কাজেই প্রতিটি খেলা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং জিততে হবে।'

করোনার কারণে ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। প্রত্যাবর্তনে ছন্দ ফিরে পেতে ক্রিকেটারদের কাজ সহজ করে দিয়েছে মাজুল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঢাকায় খেলা দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন পাপন। তার মতে, 'বোলিং এবং ফিল্ডিং দেখে আমি খুশি। তামিমের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এসেছে। সাকিবকে নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম ছন্দে ফিরতে কতদিন লাগে। এখন দেখতে পাচ্ছি বেশিদিন লাগছে না, ও ফিরে এসেছে।' টাইগার স্কোয়াডের রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়েও খুশি বোর্ড সভাপতি।