অভিষেক মানেই নতুনের আত্মপ্রকাশ। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তামিম ইকবালের অভিষেক হয়েছে সেই ১৪ বছর আগে, ২০০৭ সালে। বাঁহাতি এ ওপেনারের নামের পাশে এখন লেখা হয় অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আনুষ্ঠানিক ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবেও তো আত্মপ্রকাশ করেছেন ২০ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচে। তবুও আজ তামিমের অন্যরকম এক অভিষেক হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। কাজীর দেউরির খান বাড়ির ছোট ছেলের নেতৃত্বেই আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আর চট্টগ্রাম তো জন্মসূত্রেই তামিমের হোম ভেন্যু। সেদিক থেকে ঘরের ছেলের আজ অন্যরকম এক অভিষেক।

নিজের শহরে জাতীয় দলের ম্যাচ খেলতে পারলে কার না গর্ব হয়। নেতৃত্ব দিতে পারা তো আরও গর্বের। এই অহংকার ছুঁয়ে যায় আঞ্চলিক সমর্থকদেরও। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে স্থানীয় দর্শকরা মাঠে বসে নিজেদের ছেলের নেতৃত্ব উপভোগ করতে পারবেন না। তামিমও হয়তো মিস করবেন চট্টগ্রামের সমর্থকদের। তবে কোনো সন্দেহ নেই টিভিতে খেলা দেখার সময়ও টাইগার ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ককে নিয়ে গর্ব করবেন তারা। সে কারণেই নিজের অন্যরকম এই অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা থাকবে তামিমের। ব্যাটসম্যান হিসেবে সমর্থকদের ভালো একটি ইনিংস উপহার দিতে চাইবেন। দেশকে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে জয় উপহার দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে অধিনায়ক হিসেবে। তার গতকালের কথায় ফুটে উঠেছে দলের ভাবনা, 'আমাদের দল খুব অল্পসংখ্যক পরিবর্তন আসবে। আশা করি, আমাদের এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। কালকের (আজ) ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ জিতেছি; কিন্তু আরও ১০ পয়েন্ট পাওয়ার রয়েছে।'

উইন্ডিজের বিপক্ষে ছোট স্কোরের ম্যাচ হয়েছে ঢাকায়। আশা করা হচ্ছে চট্টগ্রামে রানের উইকেট হবে। দু'দলই সমর্থকদের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিতে সক্ষম হবে। উইন্ডিজ কোচ ফিল সিমন্স তার দলের কাছে ২৩০ থেকে ২৫০ রান আশা করছেন। সত্যি সত্যি তেমন কিছু হলে ঘরের মাঠে চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলতে হবে তামিমকে। গত দুই ম্যাচের চেয়ে উন্নতিও দেখাতে হবে দলকে। অধিনায়কেরও ফোকাস সেদিকে, 'খুব কম সময়ই একই ছন্দে খেলা যায়। আমরা তিনি বিভাগেই উন্নতি করতে পারি। ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু করে শেষ করতে পারিনি। এই জায়গাগুলোতে আমাদের উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। কারণ বর্তমান সময় ওয়ানডে সংস্করণে বিশ্বকাপের সুপার লিগের ম্যাচ খেলছি আমরা। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে উন্নতি করতেই হবে। কারণ হোমের মতো অ্যাওয়ে সিরিজ সহজ হবে না। তাই সুযোগ এলে সেটা কাজে লাগাতে হবে সবাইকে।' তামিম তার ঘরের মাঠ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৪টি ওয়ানডে খেলে ৪৯৭ রান করেছেন। যেখানে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৫ রান জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে। তবে গড় ও স্ট্রাইক রেট তুলনামূলক ভালো। গড় ৪১.৪১। স্ট্রাইক রেট ৮০.৪২। যেটা তার বর্তমান পারফরম্যান্সের সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে দুর্বল স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রতিনিয়তই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। আজ নিজের ও স্থানীয় সমর্থকদের প্রত্যাশা মেটাতে নিজের মাঠে অন্তত স্ট্রাইক রেট ভালো রাখতে পারলে হয়। 

যে রেকর্ড ভুলতে চাইবে উইন্ডিজ

বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের তারকাখ্যাতি বেশ ভারি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ব্যাটে-বলে প্রতিপক্ষ দলকে কম তো নাকানিচুবানি খাওয়ায়নি তারা। কিন্তু এমন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব। যে দল এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে এসেছে সেখানে বেশিরভাগই অনভিজ্ঞ। আর সেটাই যেন লজ্জার রেকর্ড গড়ে দিল তাদের রেকর্ডবুকে। দুই ম্যাচ বাজেভাবে হার মানা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং গড়ের দিকে তাকালে যে কারও চমকে ওঠার মতো অবস্থা হতে পারে। ১৩.৫০- ভাবা যায়, এতটা বাজে ব্যাটিং গড়। হ্যাঁ, এটাই তাদের ওয়ানডে সিরিজে সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং গড়। এর আগে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডেতে হেরেছিল দলটি। সেখানে ব্যাটিংয়ে বেশ এলোমেলো উইন্ডিজকে দেখা গিয়েছিল। আর গড়টা ছিল ১৬.৭১। এতদিন এটাই ছিল তাদের ওয়ানডে সিরিজের সর্বনিম্ন ব্যাটিং গড়। কিন্তু বাংলাদেশ সফরে এসে ১৬-এর ঘর থেকেও নিচে নামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

 মাশরাফিকে টপকানোর সুযোগ সাকিবের

২০০১ সালে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার। চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তিনি নেই। এই সুযোগে চাইলে মাশরাফির রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন সাকিব আল হাসান। ২১৮ ওয়ানডে খেলা মাশরাফি নিয়েছেন ২৬৯ উইকেট। যেটা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আজ চট্টগ্রামে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে চার উইকেট নিলেই মাশরাফিকে ছাড়িয়ে যাবেন সাকিব আল হাসান। এ মুহূর্তে সাকিবের ওয়ানডে উইকেট ২৬৬টি। ২০০৬ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় সাকিবের। সে থেকে এখন পর্যন্ত ২০৮ ওয়ানডেতে অংশ নিয়েছেন তিনি। ম্যাচের বিচারে যেটা মাশরাফির থেকে ১০ কম। আর দু'জনের মধ্যে উইকেট শিকারের তফাৎ তিনটি। অর্থাৎ আজ তিন উইকেট পেলেই মাশরাফিকে ছুঁবেন সাকিব। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সাকিব বল হাতে উজ্জ্বল। এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে চারটি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ৯ বার। ৫টি করে উইকেট শিকার করেছেন ২ বার। তার বোলিং ইকোনমিও অন্যদের তুলনায় ভালো, ৪.৪৬। যেখানে মাশরাফিও তার পেছনে। ২৬৯ উইকেট নেওয়া মাশরাফির বোলিং ইকোনমি ৪.৮৬। প্রতিপক্ষ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন চার উইকেট পাওয়া সাকিবের জন্য কঠিন কিছু নয়। প্রথম ওয়ানডেতেও পেয়েছেন। তা ছাড়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তার বল যে কার্যকর, সেটা অতীতেও দেখা মিলেছে। এ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০টি ওয়ানডে খেলেছেন সাকিব। যেখানে ৩.৭৯ ইকোনমিতে ২৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।