চতুর্থদিন কঠিন হতে যাচ্ছে। উইন্ডিজ স্পিনার রাকিম কর্নওয়াল জানিয়ে রেখেছিলেন কথাটা। মেহেদি মিরাজ আশার বেলুন ফুলিয়ে বলেছিলেন, সিনিয়ররা দৃঢ়তা দেখালে জয় সম্ভব। দু’জনের কথাই ফলে গেল। জয় খুবই সম্ভব এমন টেস্টে সিনিয়রদের হেলায় মাত্র ১৭ রানে হারল বাংলাদেশ।ধবলধোলাই হয়ে হারাল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পূর্ণ পয়েন্ট। 

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১১৭ রানে। প্রথম ইনিংস থেকে ১১৩ রানের লিড পায় ক্রেগ ব্রাথওয়েটের দল। বাংলাদেশকে তাই জয়ের জন্য দিতে পারে ২৩১ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ ইনিংসে শেরেবাংলার উইকেটে ওই রান তোলা সহজ ছিল না।

কিন্তু ওপেনার তামিম ইকবাল দারুণ ব্যাটিং শুরু করে দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন। ওপেনিং জুটিতে তিনি সৌম্য সরকারকে নিয়ে তুলে ফেলেন ৫৯ রান। কিন্তু তামিম ঝড়ো ৪৬ বলে ৫০ রান করে আউট হতেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় বাংলাদেশ। একে একে ফিরে যান দলের ভরসা মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিমরা। 

তাদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের দায় ঘোচাতে পারেননি শেষে দারুণ লড়াই করা মেহেদি মিরাজ। চতুর্থ দিন শেষ বেলায় জমে ওঠা টেস্টে তিনি ৩১ রান করে ফিরতেই হারের হতাশায় ডোবে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক মুমিনল হক ২৬ রান করেন। মুশফিকুর রহিম ফিরে যান ১৪ রান করে। লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। তাদের একজন বুক চিতিয়ে লড়তে পারলেই হতাশা রপান্তরিত হতো জয়ে।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ২৯৬ রানে প্রথম ইনিংস থামে বাংলাদেশের। ক্যারিবীয়দের হয়ে সর্বোচ্চ ৯২ রান করেন জসুয়া  ডি সিলভা। এছাড়া এনক্রুমাহ বোনার ৯০ এবং আলজারি জোসেপ ৮২ রানের ইনিংস খেলেন।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসেও শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। তবে সাতে নামা লিটন দাস ৭১ রানের ইনিংস খেলে এবং আটে মেহেদি মিরাজ ৫৭ রান করে সেই বিপর্যয় এড়ান। এছাড়া প্রথম ইনিংসেও ঝড়ো ৪৪ রানের ইনিংস খেলে উইকেট বিসর্জন দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। মুশফিকুর রহিম করেন ৫৪ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে চারটি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ এবং তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল চারটি এবং নাঈম হাসান নেন তিন উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে রাকিম কর্নওয়াল নেন পাঁচ উইকেট। পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েল দখল করেন তিন উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার কর্নওয়াল তুলে নেন চার উইকেট। ক্রেগ ব্রাথওয়েট ও জোমেল ওয়ারিকেন তিনটি করে উইকেট নেন।