মর্ডান ক্রিকেটের 'আল্ট্রা' ফিটনেসের এই সময়ে কর্নওয়াল যেন এক বিস্ময়। ১৪০ কেজির শরীর নিয়ে টানা প্রায় ৩০ ওভার বোলিং করেন তিনি, আবার স্লিপে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচও ধরেন। শারীরবিদ্যা কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের ভারসাম্যের সূত্র যেন তার বেলায় প্রযোজ্য নয়। তাই বলে ভাববেন না, সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার এই ক্রিকেটার ওজনদার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য নামকাওয়াস্তে মাঠে নেমেছিলেন। পারফর্ম করে দলকে জিতিয়ে মিরপুর টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে জনৈক আলোচক চোখেমুখে অবিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন, '১৪০ কেজি ওজনের একজন মানুষ ক্রিকেট খেলবেন!' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজের ওজন নিয়ে কম ট্রলের শিকার হতে হয়নি কর্নওয়ালকে। পারফরম্যান্স দিয়ে এসব সমালোচনার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন কর্নওয়াল।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর গতকাল শেষ দিনে তার শিকার চার উইকেট। গতকাল অল্প পুঁজি নিয়েও ক্যারিবীয়রা জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পেরেছে তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই। তার ওপর ক্যারিবীয়দের বোলিং যে কতটা নির্ভরশীল ছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় একটি উদাহরণেই। অধিনায়ক ব্রাথওয়েট উভয় ইনিংসেই দীর্ঘদেহী এই অফস্পিনারকে দিয়ে বোলিংয়ের সূচনা করিয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ের সূচনা করার পর টানা হাত ঘুরিয়ে গেছেন তিনি। মাঝখানে কেবল এক ওভার তাকে দেখা যায়নি। সেটাও প্রান্ত বদলের জন্য। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ৬১.৩ ওভারের মধ্যে তিনি ৩০ ওভার বোলিং করেছেন। বিরাট কোহলি, বেন স্টোকসের মতো সুপার ফিট ক্রিকেটারের পক্ষেও এটা সম্ভব!

উচ্চতার কারণে বোলিংয়ে সময় একটু বাড়তি বাউন্স পেয়ে থাকেন কর্নওয়াল। মিরপুরে এই বাউন্স দিয়েই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন তিনি। গতকাল নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ মিঠুন তার বাড়তি বাউন্সেই পরাস্ত হয়েছেন।

তবে সবচেয়ে অবাক করেছে তার স্লিপ ফিল্ডিং। এই ওজন নিয়ে যেখানে মানুষের নড়াচড়া করতেই কষ্ট হওয়ার কথা, সেখানে তিনি স্লিপে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত সব ক্যাচ ধরছেন! গতকাল শেষ বিকেলে মিরাজের ক্যাচটা তো অবিশ্বাস্য ছিল। এই ১৪০ কেজি ওজনের শরীরকে নিয়ে পুরোপুরি সামনে ঝুঁকে মাটির ইঞ্চিখানেক ওপর থেকে ক্যাচটি লুফে ভারসাম্য ধরে রেখে শেরেবাংলার সবুজ ঘাসে দুটো গড়াগড়িও খেয়েছেন তিনি।

গতকাল জয়ের পর এই স্লিপ ফিল্ডিংয়ের রহস্য জিজ্ঞাসা করতেই স্মিথ হেসে তার জবাব, 'সকালে এই স্লিপ ফিল্ডিং নিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছি! যখনই আমার দিকে বল আসুক, আমি সেটা ধরতে চাই।'

উইন্ডিজের এই স্কোয়াডে ব্ল্যাকউড, মোসেলের মতো সুপার ফিট ফিল্ডার থাকার পরও স্লিপে দাঁড়ান তিনি। ইচ্ছা থাকলে বিশাল শরীর যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, সেটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই কর্নওয়াল। তাই তো এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাকে বিশ্বের সেরা অ্যাথলেট হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নামের দুর্বোধ্য বিচিত্র জগৎকেও জয় করে ফেলেছেন কর্নওয়াল!

মন্তব্য করুন