বিয়ের নামে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম স্বর্ণা। স্বর্ণার সাবেক স্বামী ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েল বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুর থানায় এই মামলা করেন। পরে ওইদিন বিকেলেই পুলিশ রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে রোমানাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সৌদি প্রবাসী কামরুলের সঙ্গে স্বর্ণার পরিচয় হয়। পরে ফেসবুকে কথোপকথন। ২০১৯ সালের মার্চে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর কামরুল সৌদি আরবে চলে যান। গাড়ি, ব্যবসা, ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন স্বর্ণা। সম্প্রতি কামরুল দেশে আসেন এবং স্বর্ণার বাসায় যান। এ সময় স্বর্ণা জানিয়ে দেন, তাকে অনেক আগেই তিনি তালাক দিয়েছেন। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় কামরুলকে।

কামরুল ইসলাম জুয়েল (বাঁয়ে) ও স্বর্ণা 

প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, স্বর্ণার ব্যবহৃত মোবাইল, ঘড়ি, গাড়ি সবই আমার কিনে দেওয়া। সে যে দামি গাড়িতে চড়ছে ওটা আমার। তার হাতে ৫ লাখ টাকা মূল্যের ঘড়িও আমার দেওয়া। হাতে থাকা দু'টো আইফোন প্রো মোবাইল ফোনও আমি কিনে দিয়েছি। সবমিলিয়ে আমার থেকে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্বর্ণা।

তিনি বলেন, এরপর মোহাম্মদপুর থানায় আমার নামে জিডি করে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে বলে জানায় স্বর্ণা। কিন্তু বিষয়টি মিথ্যা। সে ডিভোর্স দেয়নি। আমি এমন কোনো পেপার পাইনি। অবশেষে আমি আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

কামরুল আরও বলেন, দেশে আসার পর স্বর্ণার বাসায় গেলে আমাকে কিছুদিন আটকে রাখে তারা। অথচ স্বর্ণাকে বিয়ে করার কথা শোনার পর আমার আগের স্ত্রী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।

উল্লেখ্য, বিয়ের নামে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার স্বর্ণাসহ তিনজনকে একদিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার শুক্রবার রিমান্ড ও জামিন না মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

শুক্রবার স্বর্ণাকে আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ -ফোকাস বাংলা

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করতে হবে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- আশরাফি আক্তার শেলী এবং আন্নাফি ইউসুফ ওরফে আনান। 

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক দুলাল হোসেন তিনজনের ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের একদিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

মন্তব্য করুন