তখন আরামবাগ মাঠে টার্ফ বসেনি। ছিল বালুর মাঠ। আর সেখানেই কিনা ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকতেন মোহাম্মদ জুয়েল। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার পর বদলে যায় জুয়েলের ফুটবল ক্যারিয়ার। পেশাদার হিসেবে খেলতে থাকেন। ২০১৬ সালে ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলার পরের বছরই আরামবাগ ক্লাব তাকে দলে নেয়।

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা জুয়েল এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবে খেলছেন। লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডের। ২৩-২৯ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের চূড়ান্ত দলে জুয়েল। বালুর মাঠে খেলা জুয়েল এখন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপেক্ষায়।

নেপাল টুর্নামেন্টের জন্য গত ৯ মার্চ ঘোষিত দলের প্রথম ২৪ জনের মধ্যে ছিলেন না জুয়েল। ছিলেন স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ডাক পাওয়া সাত ফুটবলারের একজন। অনুশীলনে কোচের মন জয় করা জুয়েল এখন ২৫ সদস্যের দলে।

২০১৩ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছিলেন। এবার জাতীয় দলের হয়ে হিমালয়ের দেশে যাচ্ছেন জুয়েল। সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে চান পুলিশ ফুটবল ক্লাবের এ ফরোয়ার্ড, 'আমার জন্য বড় সুযোগ এটা। কারণ আমি এর আগে কখনোই অনূর্ধ্ব-২৩ বা জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাইনি। এর আগে আমি বয়সভিত্তিক অনেক দলে খেলেছি। দীর্ঘদিন পর আমি জাতীয় দলে চান্স পেয়ছি। এখন আমি যাই করব, ভালোভাবে করার চেষ্টা করবো।'

বাংলাদেশ দলে স্কোরিংয়ে বড় সমস্যা। এই জিনিসটা ভালো করেই জানা জুয়েলের। তাই তো গোল করাকেই মূল টার্গেট তার, 'আমার জন্য এটা অনেক সুযোগ। আমি ছোটবেলা থেকেই স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলছি। এখন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি, এখানেও ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলব। খুবই ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। আর আমার টার্গেটই হলো গোল করা।'