নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ওয়ানডে বা টি২০ স্কোয়াড আলাদা করে দেননি নির্বাচকরা। তামিম ইকবালের টি২০ সিরিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাই অজানাই ছিল এতদিন। বৃহস্পতিবার যেটা তামিম নিজেই জানালেন মিডিয়াকে। বিশ্রামের কারণ অবশ্য ব্যক্তিগত বলছেন তিনি। এর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকলেও তামিম বা ম্যানেজমেন্ট হয়তো প্রকাশ করবেন না।

তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তামিমের টি২০ না খেলার সিদ্ধান্তে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। তার এই বিরতি সাময়িক না দীর্ঘ মেয়াদে, জানা নেই বিসিবির কর্মকর্তাদের। এমনও শোনা যাচ্ছে, স্বেচ্ছায় টি২০ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাঁ-হাতি ওপেনার তামিম।  

ওয়ানডের মতো টি২০ সংস্করণেও দেশের সর্বোচ্চ রান তামিমের। এই সংস্করণে দেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ানও তিনি। এর পরও দিনের পর দিন তাকে সমালোচনা সয়ে যেতে হচ্ছে স্ট্রাইক রেটের কারণে। টি২০-তে ১১৬.৯৬ স্ট্রাইক রেট তামিমের। একজন ওপেনার হিসেবে যেটা কাঙ্ক্ষিত মনে করা হয় না। তামিমের টি২০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেলেও অস্বস্তি রয়েছে। কোচিং স্টাফও স্বস্তিতে নেই গত কিছুদিন। সে কারণেই হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন ওপেনার পরখ করে দেখার সুযোগ করে দিতে তামিমের এই ছুটি নেওয়া।

এ নিয়ে নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছে জানতে চাওয়া হলে নিউজিল্যান্ড থেকে তিনি বলেন, 'তামিম একটু বিরতি চায় পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য। ব্যক্তিগত কারণেই সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছে সে। নিউজিল্যান্ডে দুটো সিরিজ খেললে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যেতে হতো তাকে। এক সপ্তাহ পরই শ্রীলঙ্কা সফর। যেটা আসলে কঠিন। এ কারণেই সে ছুটি চেয়ে নিয়েছে।'

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলতে ১০ জানুয়ারি থেকে বায়োসিকিউর বাবলে ক্যাম্পে যোগ দেন তামিমরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা টেস্ট শেষে বাসায় ফেরার সুযোগ হয় তাদের। এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে হয়েছে ২৩ ফেব্রুয়ারি। সেখানেও তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ শেষ হবে ১ এপ্রিল। ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব দিয়ে ২৭ মার্চই দেশে ফিরতে পারছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার তামিম বলেন, 'আমি নিউজিল্যান্ডে আসার আগেই প্রধান কোচ ও নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ব্যক্তিগত কারণে টি২০ সিরিজে থাকব না। দলকে শুভকামনা জানাচ্ছি।'

মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বে টি২০ খেলে বাংলাদেশ। এ বছর অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতে টি২০ বিশ্বকাপেও নেতৃত্ব দেবেন তিনি। বিশ্বকাপের বছরে ২০ ওভারের ক্রিকেট সিরিজ থেকে সরে দাঁড়ানো রহস্যজনক মনে হওয়া অস্বাভাবিকও নয়। ছেলের জন্ম উপলক্ষে সাকিব আল হাসান রয়েছেন ছুটিতে। তামিমের না থাকাকে সাকিবের সঙ্গেও মেলাচ্ছেন অনেকে। এই আলোচনার বাস্তব ভিত্তি না থাকলেও গুঞ্জন থামার নয়। সাকিব, তামিমদের এভাবে ছুটি নেওয়া নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত সফর থেকেও ছুটি নিয়েছিলেন তামিম।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজও খেলেননি তিনি। নিউজিল্যান্ডে টি২০ না খেলার পরিকল্পনা করেছিলেন উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষেই। যে কারণে রোটেশনে খেলার আওয়াজ দিয়ে রেখেছিলেন বাঁহাতি এ ওপেনার। শেষ পর্যন্ত নিজের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নও করলেন। দেশের দুই সিনিয়রের এভাবে ছুটি নেওয়াই হয়তো ক্ষুব্ধ করেছিল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। যে কারণে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে পরিবর্তন আনতেও বাধ্য হচ্ছেন তিনি।