অভিনব কায়দায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে অ্যাপস দিয়ে ভারতে চলমান আইপিএল ক্রিকেট নিয়ে জুয়া চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। 

বুধবার বিকেল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে জেলা শহরের কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই ডিজিটাল স্টুডিও'র মালিক ও সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বিশ্বেশ্বর গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকারের ছেলে মো. মশিউর রহমান (৩৪), পলাশবাড়ী বানিয়ারপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. সাদেকুর রহমান (২২) এবং কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে মো. মাহাবুবুর রহমান মাহাবুবকে (২৮) আটক করা হয়। 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ওই ৩ জনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩০ ও ৩৫ ধারা এবং জুয়া আইনের ৪ ও ৫ ধারায় থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াই'টার দিকে জেলা পুলিশ অফিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা উপরোক্ত জানান, চুরিসহ নানান অপরাধ এবং পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তৎপর হয়ে উঠে জেলা পুলিশ। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাই ভাই ডিজিটাল স্টুডিওর মালিক মশিউর রহমানকে প্রথমে আটক করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মো. সাদেকুর ইসলাম ও মো. মাহাবুবুর রহমান মাহবুবকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে সাব-এজেন্ট মশিউরের ক্লায়েট সংখ্য ১১১ জন। এই ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন অংকের টাকা দিয়ে পয়েন্ট কিনে জুয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন। এজন্য মশিউর রহমানের মূল ক্রেডিট ৩৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা আর ক্লায়েট ব্যালান্স ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১১৫ টাকা পাওয়া গেছে। বিকাশ, নগদ ও রকেট মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জুয়া খেলায় লেনদেন হয়েছে। 

তিনি জানান, অপর সাব-এজেন্ট মো. মাহাবুবুর রহমান মাহাবুবের ক্লায়েন্ট সংখ্যা ৪২ জন। একইভাবে তার মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ক্লায়েন্টদের তালিকা তারা পেয়েছেন। এনিয়ে এখন তদন্ত চলছে। এছাড়া জেলায় একজন মূল এজেন্ট আছেন। তাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জুয়া দমনে অভিভাবকসহ সকলের সহযোগিতা চান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মাহমুদ আল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উৎপর কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কল্লোল কুমার দত্ত এবং সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন