নব্বইয়ে বারবার ধরা খাচ্ছেন তামিম। অন্য ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতে পারছে না। লঙ্কান স্পিনারদের ঘূর্ণির মুখে ব্যাটসম্যানদের সেই প্রতিরোধ বালির বাঁধের মতো উড়ে গেল। মুশফিকুর রহীমের পর মুমিনুল হক এবং লিটন দাসের বিদায়ে ফলোঅনের শঙ্কায় পড়েছে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৯৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ব্যাটিং ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ফলোঅন এড়াতে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে অন্তত ২৯৪ রান। অথচ ২২৪ রান না তুলতেই দলের ব্যাটসম্যানরা উইকেট দিয়ে বিদায় নিয়েছেন। ২৪১ রানে ৭ম, ২৪৩ রানে পড়েছে ৮ম উইকেট। এখন লড়াই করছেন শুধু বোলাররা। ব্যাট হাতে তাদের লড়াই কতক্ষণ টেকে, সেটাই দেখার বিষয়।

তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের রান ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৩। ব্যাট করছেন তাইজুল ইসলাম। ১৬ রান নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হয়ে যান। তাসকিন আহমেদ মাঠে নেমেই উইকেট হারিয়েছেন শূন্য রানে।

শ্রীলঙ্কার অভিষিক্ত প্রাভিন জয়াবিক্রমার ঘূর্ণিতেই বলতে গেলে দিশেহারা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের হারানো ৮ উইকেটের ছয়টিই নিয়েছেন তিনি।

ক্যান্ডি টেস্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের আবারও 'নড়বড়ে নব্বইয়ের' ঘরে এসে ফিরে গেছেন সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে।

প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ৪৯৩ রানের জবাব দিতে নেমে ব্যাট হাতে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩১তম ফিফটি। তামিমের পাশাপাশি প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়া সাইফ হাসানও ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তবে হঠাৎই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন বাংলাদেশের টপ অর্ডাররা।

তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ৯৮ রানের জুটি গড়ার পর জয়াবিক্রমার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ রান করেন সাইফ। তার বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন প্রথম টেস্টে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকানো নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে এবার তিনি আর সুবিধা করতে পারেননি, ফিরে গেছেন শূন্য রানে। মেন্ডিসের বলে থিরিমান্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে শান্ত সাজঘরে ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৯ রান।

এরপর ব্যাট করতে নামা মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে ভালোই এগোচ্ছিলেন তামিম। ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিন অঙ্ক ছোঁয়ার। তবে নড়বড়ে নব্বইয়ে এসে আবারও হতাশায় ডুবতে হয় তাকে। দলীয় ১৫১ রানে তামিমকে আউট করে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটান জয়াবিক্রমা। থিরিমান্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তামিম করেন ৯২ রান। এর আগে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯০ রান করে আউট হয়েছিলেন তামিম।

গত বৃহস্পতিবার ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান দিমুথ করুনারত্নে ও লাহিরু থিরিমান্নের জোড়া শতকে ভর করে ৭ উইকেটে ৪৯৩ রান তুলে শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের সকালে ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।

ওপেনার লাহিরু থিরিমান্নে সর্বোচ্চ ১৪০ রান করেন। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান দিমুথ করুনারত্নে করেন ১১৮ রান। এ ছাড়া ওশাদা ফার্নান্দো ৮১ এবং নিরোশান ডিকভেলা ৭৭ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ১২৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন এই পেসার। এ ছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।

প্রসঙ্গত, ক্যান্ডিতে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র হয়।