জুনে কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তিনটি ম্যাচের জন্য ঈদের আগে প্রস্তুতি শুরু করছে জাতীয় দল। ১০ মে ঢাকায় আসবেন কোচ জেমি ডে। সম্প্রতি নেপাল টুর্নামেন্ট এবং বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন জেমি

সমকাল: প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কেমন হয়েছে?

জেমি ডে: সুনির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে আলাদা বলা খুবই কঠিন। কারণ তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাচ খেলতে পারেনি। ১১ দিনে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছে। আপনি হয়তো দেখেছেন ইনজুরি এড়াতে ক্লাবগুলো দলে অনেক পরিবর্তন এনেছে।

সমকাল: জাতীয় দলের ক্যাম্পে নতুন খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কেমন?

জেমি ডে: একই খেলোয়াড়রা লিগে খেলছেন। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে, নতুন কোনো খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে নেব কিনা।

সমকাল: সামনে কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। পয়েন্ট পাওয়া নিয়ে কতটা আশাবাদী?

জেমি ডে: যদি ম্যাচগুলো আমাদের হোমগ্রাউন্ডে হতো, তাহলে বলতাম যে পয়েন্ট পাব। কারণ ঘরের মাঠে দর্শকরা বড় অস্ত্র। কিন্তু এখন আমাদের খেলতে হবে কাতারে গিয়ে। তাই জয় কিংবা ড্র প্রসঙ্গে যদি বলতে হয়, এর যে কোনো একটি হলে আমি খুশি হবো। কাতারে পয়েন্ট পাওয়াটা হবে বড় অর্জন।

সমকাল: ওমান শক্তিশালী দল। সেক্ষেত্রে টার্গেট কি ভারত আর আফগানিস্তান?

জেমি ডে: আমি এখনই এসব বলতে চাই না। আমি খুশি হবো যদি নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারি।

সমকাল: বাছাইয়ের জন্য এক প্রস্তুতি নিতে এক মাসেরও কম সময় পাচ্ছেন। এটা কি প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট?

জেমি ডে: হ্যাঁ। আপনি জানেন যে, সবাই এখন খেলার মধ্যে আছে। লিগে খেলেছে। ক্যাম্প শুরু করলে সবাইকে ফিট অবস্থায় পাব বলে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি, কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যে সময় পাচ্ছি, তা যথেষ্ট।

সমকাল: এবার নেপাল টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে আসা যাক। শিরোপা জেতার সুযোগ পেয়েও তা জিততে না পারায় অনেকেই আপনাকে দায়ী করেছেন...

জেমি ডে: নেপালে যাওয়ার আগে মিটিংয়ে কিন্তু আমি বলেছি যে সেখানে নতুনদের পরখ করে দেখতে চাই। ভবিষ্যৎ জাতীয় দল গড়াটাই লক্ষ্য। কোনো গোল হজম না করেই আমরা টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছি; যা ১৫ বছরের মধ্যে প্রথম। আর ফাইনালে আমরা হেরেছি স্বাগতিক (নেপাল) দেশের কাছে, যারা কিনা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৭০তম। যে কারণে আমি বুঝতে পারছি না, ঠিক কোথায় ব্যর্থ হয়েছি।

সমকাল: সবাই শিরোপার প্রত্যাশা করেছিল বলেই সমালোচনা হয়েছে...

জেমি ডে: গত ১৫ বছর ধরে যে দলটি ফাইনালেই খেলতে পারেনি, তার কাছে সবাই শিরোপার আশা করে কীভাবে?

সমকাল: মূলত ফাইনালে ওঠাতেই সবার আগ্রহটা বেড়ে গিয়েছিল। আর এই টুর্নামেন্টে বড় কোনো আসর নয়...

জেমি ডে: গত ১৫ বছরে যেটা করতে পারেনি, ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে আমরা সেটা অর্জন করেছি। আমরা এমন একটা দলের বিপক্ষে খেলেছি যারা কিনা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৭০তম এবং যারা স্বাগতিক দর্শকের সামনে খেলেছে। তাদের বিপক্ষে জয়টা কীভাবে প্রত্যাশা করেছিল? বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা ঠিক না।

সমকাল: কিন্তু গ্রুপ পর্বে নেপালের সঙ্গে ড্র করাতেই তো শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ সমর্থকরা।

জেমি ডে: গ্রুপ পর্বের ড্র মানেই কি আমরা পরের ম্যাচে জিতব? আমরা তপু বর্মণ, নাবীব নেওয়াজ জীবন, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়াকে ছাড়াই খেলেছি। এটাও তো দেখতে হবে।

সমকাল: দল নিয়ে পরীক্ষা চালানোয় বাফুফে কর্তারাও আপনার ওপর নাখোশ ছিলেন।

জেমি ডে: টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাফুফে আমরা প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে একমত হয়েছিল এবং ফাইনালে প্রথমার্ধে ছাড়া বাকি সময়ে দলের পারফরম্যান্সে তারা খুশি হয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন