রহমত মিয়া আর শুভাশীষ বোস- প্রথম জন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার, দ্বিতীয়জন ভারতের। দুই ডিফেন্ডারই মনে করছেন নিজ দলকে বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে রক্ষণে। বাংলাদেশের রক্ষণের চ্যালেঞ্জ সহজেই অনুমেয়- গোল দেওয়ার চেয়ে গোল ঠেকানোর কাজেই যে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়! কিন্তু বাংলাদেশের গোল করার সামর্থ্য তুলনামূলক কম হওয়ার পরও ভারতীয় ডিফেন্ডারের কেন মনে হচ্ছে যে তার দলের চ্যালেঞ্জও রক্ষণে?

উত্তরটা শুভাশীষের মুখেই শুনুন- 'বাংলাদেশ দলের খেলার মান সম্পর্কে আমরা জানি। তারা এমন একটি দল, যারা প্রচুর কাউন্টার-অ্যাটাক খেলে। আর এটিই খুব বিপজ্জনক ব্যাপার।'

২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হবে আগামীকাল। 'ই' গ্রুপের পাঁচ দলের মধ্যে দুই দলের অবস্থান এখন তলানির দিকে। চার ম্যাচ খেলে দুটি ড্রয়ে দুই পয়েন্ট বাংলাদেশের। সমান ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট তিন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে কলকাতায় দুই দলের প্রথম লেগ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। এবার কাতারে পৌঁছার পর বাংলাদেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে ১-১ ড্র করলেও স্বাগতিক কাতারের কাছে ভারত হেরে গেছে ০-১-এ। তবে শেষ ম্যাচ বিবেচনায় বাংলাদেশ উজ্জীবিত আর ভারত কিছুটা হতোদ্যম হয়ে গেলেও মুখোমুখি দ্বিতীয় লেগে ফেভারিট ভারতীয়রাই। যে কারণে বাংলাদেশ দল রক্ষণভাগে বেশি মনোযোগ দেবে বলে জানিয়েছেন কোচ জেমি ডে ও ডিফেন্ডার রহমত।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারতকে ফেভারিট উল্লেখ করে বাংলাদেশ কোচ বলেন, 'ভারত আমাদের চেয়ে ভালো দল। আর আমরা শুরু থেকে আক্রমণ করে খেলা দল নই। আমার মতে, প্রথম ৪৫ মিনিটের মধ্যে ২-৩ গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার চেয়ে ৯০ মিনিটই টিকে থাকাটা ভালো।'

সুনীল ছেত্রীদের বিপক্ষে রক্ষণই যে মূল দায়িত্ব নিচ্ছে, সে কথা নিশ্চিত করেছেন রহমতও, 'সাধারণত বড় দলের বিপক্ষে ডিফেন্সিংয়ে চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে। ছোট একটা ভুলের জন্যই গোল খেয়ে বসতে পারি। তাই এ দিকটায় আমাদের বেশি নজর দিতে হবে। আমাদের ডিফেন্স কমপ্যাক্ট রাখার চেষ্টা করব।' তবে 'ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলে পয়েন্ট আনতে পারব' বলেও আশা প্রকাশ করেন রহমত।

বৃহস্পতিবার দোহার জসিম বিন হাম্মাদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে রুখে দেওয়া ম্যাচে গোল করা তপু বর্মণ অবশ্য ভারত ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্টেরই প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছিলেন। একটি কারণ- পয়েন্টের জন্য ভারত-ম্যাচ আগে থেকেই টার্গেট করা। দ্বিতীয়ত যে কোনো খেলার যে কোনো পর্যায়েই ভারত প্রতিপক্ষ হওয়া মানেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো খেলার বাড়তি তাড়না ও প্রেরণা জাগ্রত হওয়া। তবে এ ব্যাপারটি কিন্তু একপক্ষীয় নয়। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ভারতীয় ডিফেন্ডার শুভাশীষের কথায়ও শোনা গেছে একই সুর, 'বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচই সবসময়ই উত্তেজনাময় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আমরা বাংলাদেশকে ব্যাপক সমীহ করছি।'

বিষয় : বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ফুটবল

মন্তব্য করুন