এক সময় পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর প্রতিষ্ঠানটির এমডি প্রিতিশ কুমার সরকারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য  সোমবার থেকে ১৮ দিনের ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি চেয়ে আবেদন করেন। 

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নাকচ করে নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে চিঠি দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান ও আমানতকারীর স্বার্থে নতুন পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠান ও কার্যবিবরণী চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রিতিশ কুমার সরকারকে দেশত্যাগ থেকে বিরত রাখার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয় নতুন চেয়ারম্যানকে।

বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে পি কে হালদার ২০১৪ থেকে ১৫ সালের দিকে যে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন, তার একটি এফএএস ফাইন্যান্স। গত ৩১ মে প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক এমডি মোহাম্মদ নূরুল আমিনের নেতৃত্বে পাঁচজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পি কে হালদার এফএএস ফাইন্যান্সসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শুধু এফএএস ফাইন্যান্স থেকে এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য উঠে আসে। পি কে হালদার দেশ ছেড়ে পালালেও এফএএস ফাইন্যান্সে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল ও রেপটাইলস ফার্মের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচজন পরিচালক ছিলেন। স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজন।