দোহায় এক হোটেলে দু'দল। অথচ শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতীয় দলের কারো সঙ্গে কারো কোনো হাই-হ্যালো হয়নি। ভিন্ন ফ্লোর, ভিন্ন ডাইনিং, ভিন্ন সময়ে জিম সেশন এবং ভিন্ন ভেন্যুতে ট্রেনিং। দু'দলের একে অন্যের সঙ্গে দেখা না হওয়াটা কি বায়ো-বাবলের সৌন্দর্য নাকি ট্র্যাজেডি? করোনা মহামারির কারণে এক হোটেলে থাকলেও প্রতিবেশী দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাক্ষাৎ না হওয়াটা বদলে যাওয়া পৃথিবীকে নতুন করে চিনিয়েছে। তবে আজ ফুটবল মাঠেই দেখা হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত পুরো দলের। যে সাক্ষাৎটি হওয়ার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায়, বৈশ্বিক মহামারিতে সেটা হচ্ছে এখন নিরপেক্ষ ভেন্যু কাতারে। হোম অ্যাডভান্টেজ হারানো বাংলাদেশ এখন অন্যের মাঠে মরুর দেশে স্বাগতিক! ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দু'দলের ম্যাচটি দোহার জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে।

দোহার তাপমাত্রা ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। তীব্র গরমের মধ্যে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত মহারণকে ঘিরে। ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি; দুই দেশের মধ্যে যে কোনো পর্যায়ের খেলাতেই ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। মাঠের লড়াই ছড়িয়ে পড়ে কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমীর মধ্যে। ১৯ মাস আগে কলকাতার সল্টলেকে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের প্রথম লেগে ভারতীয় দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে তার চেয়েও বেশি কিছুর প্রত্যাশা তপু বর্মণদের। আফগানিস্তানের সঙ্গে অসাধারণ ড্রয়ের পর থেকেই পুরো দলের মধ্যে ভারতকে হারানোর জেদ কাজ করছে। কিন্তু তিন পয়েন্টের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ যে চোটের কারণে আজ পাচ্ছে না ভারতের বিপক্ষে প্রথম লেগে গোল করা সাদ উদ্দিনকে। আবাহনীর এ ফরোয়ার্ড না থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভারতকে সমতা এনে দেওয়া আদিল খান ঠিকই আছেন।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের আত্নবিশ্বাসের শক্তি হলো আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের সঙ্গে। তপু বর্মণের চোখ ধাঁধানো গোলে সমতা আনা বাংলাদেশের জন্য আজ বড় বাধা ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং। কাতারের বিপক্ষে পোস্টের নিচে দেয়ালের প্রাচীর হয়ে ছিলেন তিনি। যে কারণে বেশিরভাগ সময় একজন কম নিয়ে খেলেও শক্তিশালী কাতারের কাছে মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল ভারত। আফগানদের বিপক্ষে শুরুতে গোল না হওয়ার কৌশল কাজে লেগেছিল বাংলাদেশের। র‌্যাঙ্কিং এবং পরিসংখ্যানে অনেক এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষেও সেই কৌশলে ছক কষছেন জেমি। আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইবে বাংলাদেশ। আর এই জায়গায় ভরসার নাম জামাল ভূঁইয়া।

ভারতের বিপক্ষে লড়াই নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ অধিনায়ক, 'ভারতের বিপক্ষে লড়াইটা সবসময় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আশা করি দারুণ একটা ম্যাচ হবে। সর্বশেষ কলকাতায় তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছিলাম। এ মুহূর্তে দল হিসেবে আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী। কলকাতায় না পারলেও এবার তিন পয়েন্ট পাব বলে আমি বিশ্বাস করি।'

সেই বিশ্বাসটা ছড়িয়ে গেছে পুরো দলের মধ্যে। হয়তো কলকাতায় যেটা হয়নি, কাতারের দোহায় আজ সেই ইতিহাসই গড়বেন জামাল ভূঁইয়ারা। আর ১৮ বছর ধরে ভারতকে না হারানোর অপেক্ষার অবসান ঘটবে। সবকিছুর উত্তর মিলবে আজ।